দ্বিতীয় রাউন্ডের পথে আর্জেন্টিনার সামনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয় পেলেই শেষ ৩২ নিশ্চিত হওয়ার পথে অনেকটা এগিয়ে যাবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে শুধু নিজেদের ম্যাচ নয়, একই সঙ্গে গ্রুপ ‘এইচ’-এর ফলাফলের ওপরও নির্ভর করবে লিওনেল মেসিদের পরবর্তী যাত্রাপথ।
গ্রুপ ‘জে’-তে বাংলাদেশের সময় আজ রাত ১১টায় অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে বড় জয় পাওয়ায় আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় রয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। ফলে এই ম্যাচে জয় পেলে তাদের জন্য নকআউটের পথ আরও সহজ হয়ে যাবে।
তবে সমীকরণ পুরোপুরি আর্জেন্টিনার নিয়ন্ত্রণে নেই। একই সময়ে গ্রুপ ‘এইচ’-এর ফলও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ সেখান থেকেই নির্ধারিত হতে পারে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রতিপক্ষ।
এই মুহূর্তে গ্রুপ ‘এইচ’-এর পরিস্থিতি বেশ জমজমাট। সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে স্পেন। অন্যদিকে কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করে উরুগুয়ে কিছুটা চাপে পড়ে গেছে।
বর্তমানে উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে উভয়েরই সংগ্রহ ২ পয়েন্ট। অন্যদিকে এক পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে রয়েছে সৌদি আরব। শেষ ম্যাচের ফলাফল পুরো গ্রুপের চিত্র পাল্টে দিতে পারে।
অন্যদিকে গ্রুপ ‘জে’-তে আর্জেন্টিনার লক্ষ্য পরিষ্কার। অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে জায়গা নিশ্চিত করা। তবে একই সঙ্গে তাদের চাইবে জর্ডান যেন নিজেদের ম্যাচে জয় না পায়।
যদিও জর্ডান জয় পেলেও আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে না। সেক্ষেত্রেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার একাধিক সমীকরণ খোলা থাকবে। তবে বিষয়টি তখন আরও জটিল হয়ে উঠবে।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হবে যদি আর্জেন্টিনা নিজেদের গ্রুপে তৃতীয় স্থানে নেমে যায়। এমন পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় রাউন্ডে তাদের সামনে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ চলে আসতে পারে।
সে ক্ষেত্রে গ্রুপ ডি, বি, জি, কে কিংবা এলের চ্যাম্পিয়ন দলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ফলে অপেক্ষাকৃত সহজ পথ অনেকটাই কঠিন হয়ে যেতে পারে।
আর্জেন্টিনা যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরবর্তী রাউন্ডে যায়, তাহলে তাদের প্রতিপক্ষ নির্ধারণে পুরো নজর থাকবে গ্রুপ ‘এইচ’-এর শেষ ম্যাচগুলোর দিকে। একাধিক সম্ভাবনা এখন টেবিলে রয়েছে।
স্পেন আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে বিশেষ এক সমীকরণে। যদি উরুগুয়ে নিজেদের ম্যাচ জিতে যায় এবং কেপ ভার্দে ড্র করে অথবা হেরে যায়, তাহলে স্পেনই হবে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ।
আরেকটি জটিল পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। যদি উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে দুদলই নিজেদের ম্যাচ জিতে যায়, তাহলে টাইব্রেকারের হিসাব সামনে চলে আসবে।
সেই ক্ষেত্রে প্রথমে দেখা হবে গোল ব্যবধান। গোল ব্যবধান সমান হলে দেখা হবে কারা কম গোল করেছে। এরপরও সমতা থাকলে বিবেচনায় আনা হবে ফেয়ার প্লে পয়েন্ট।
বর্তমানে এই সূক্ষ্ম ব্যবধানে সামান্য এগিয়ে আছে উরুগুয়ে। কারণ তাদের হলুদ কার্ডের সংখ্যা কেপ ভার্দের চেয়ে কম।
আরেকটি সম্ভাবনা হচ্ছে দুটি ম্যাচই ড্র হওয়া। তখনও একই নিয়ম কার্যকর হবে। তবে সেক্ষেত্রে প্রথম স্থান নয়, দ্বিতীয় স্থান নির্ধারণে টাইব্রেকারের প্রয়োজন পড়বে।
কেপ ভার্দেও আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে। যদি তারা চার গোলের কম ব্যবধানে জয় পায় এবং উরুগুয়ে নিজেদের ম্যাচ ড্র করে, তাহলে আফ্রিকার এই দলটির মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা।
আবার কেপ ভার্দে যদি ঠিক চার গোলের ব্যবধানে জয় পায়, তাহলে গ্রুপ সেরা নির্ধারণে নতুন হিসাব শুরু হবে। তখন গোল সংখ্যা ও ফেয়ার প্লে পয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে কেপ ভার্দে যদি চার বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় এবং উরুগুয়ে ড্র করে, তাহলে আর্জেন্টিনার সামনে আবারও স্পেন চলে আসতে পারে।
সৌদি আরবের বিপক্ষেও খেলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদি উরুগুয়ে জয় না পায় এবং সৌদি আরব নিজেদের ম্যাচে জিতে যায়, তাহলে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে এশিয়ার প্রতিনিধিরা।
এবারের বিশ্বকাপে আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে টাইব্রেকার নিয়মে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত পদ্ধতি থেকে বের হয়ে নতুন কাঠামো অনুসরণ করছে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।
এখন ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার আদলে অলিম্পিক সিস্টেম বা মুখোমুখি লড়াইভিত্তিক কিছু মানদণ্ডকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে পয়েন্ট সমান হলেই আগের মতো সরল হিসাব আর থাকছে না।
এ কারণে প্রতিটি গোল, প্রতিটি কার্ড এবং প্রতিটি ম্যাচের ছোট ছোট পরিসংখ্যানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক দলের ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে ক্ষুদ্র ব্যবধানে।
আর্জেন্টিনা যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ডে যায়, তাহলে পরের ধাপে তাদের সামনে তুলনামূলক অনুকূল কিছু প্রতিপক্ষ আসতে পারে। সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে প্যারাগুয়ে কিংবা অস্ট্রেলিয়া।
সেখান থেকে জয় পেলে কোয়ার্টার ফাইনালে ইরান অথবা মিশরের মতো দলের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। যদিও এর সবকিছুই নির্ভর করবে অন্য গ্রুপগুলোর চূড়ান্ত অবস্থানের ওপর।
তবে শেষ আটে উঠলে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করতে পারে স্কালোনির দলের জন্য। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে আসছে পর্তুগালের নাম।
এছাড়া সুইজারল্যান্ড কিংবা কানাডার মতো দলও প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে। ফলে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই কঠিন লড়াই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আর যদি আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে পৌঁছে যায়, তাহলে ফুটবল বিশ্ব পেতে পারে বহুল প্রতীক্ষিত একটি মহারণ। সেখানে প্রতিপক্ষ হতে পারে ব্রাজিল অথবা ইংল্যান্ড।
তবে সেটির জন্য শর্ত রয়েছে। দুই দলকেই নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থানে থেকে নকআউট পর্বে উঠতে হবে। তবেই সেমিফাইনালে এমন মহারণের সুযোগ তৈরি হবে।
অন্যদিকে জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, স্পেন কিংবা বেলজিয়ামের মতো ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সঙ্গে আর্জেন্টিনার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত ফাইনালের আগ পর্যন্ত নেই।
সব মিলিয়ে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং পুরো নকআউট পথ নির্ধারণেরও একটি বড় মোড়। তাই আজ মাঠে নামার আগে নিজেদের ম্যাচের পাশাপাশি অন্য গ্রুপের দিকেও সমান নজর রাখবে আর্জেন্টিনা।





























