বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও প্রথম ম্যাচেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি ব্রাজিল। মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ের পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ম্যাচ শেষে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ব্রাজিলকে আরও অনেক উন্নতি করতে হবে।
বাংলাদেশ সময় রোববার ভোরে নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মরক্কোর মুখোমুখি হয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দেয় দুই দল। তবে কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নিতে পারেনি ব্রাজিল।
ম্যাচের এক পর্যায়ে পিছিয়ে পড়ে সেলেসাওরা। মরক্কোর সংগঠিত আক্রমণ এবং দ্রুতগতির ফুটবলের সামনে বেশ কয়েকবার চাপে পড়তে হয় ব্রাজিলকে। এমন পরিস্থিতিতে দলের হয়ে সমতায় ফেরার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন ভিনিসিয়ুস।
রিয়াল মাদ্রিদ তারকার করা দুর্দান্ত এক গোল ব্রাজিলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। তার সেই গোলের সুবাদেই অন্তত একটি পয়েন্ট নিশ্চিত করতে সক্ষম হয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। অন্যথায় বিশ্বকাপ অভিযান হার দিয়েই শুরু হতে পারত তাদের।
পরিসংখ্যানের দিক থেকে বল দখলে কিছুটা এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। পুরো ম্যাচে ৫৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয় তারা। তবে বলের দখল থাকলেও আক্রমণে খুব বেশি কার্যকর হতে পারেনি দলটি।
গোলের উদ্দেশ্যে ব্রাজিল মোট ৮টি শট নেয়। অন্যদিকে মরক্কো নেয় ১৩টি শট, যা তাদের আক্রমণাত্মক মানসিকতারই প্রতিফলন। যদিও লক্ষ্য বরাবর শটের ক্ষেত্রে ব্রাজিল ছিল এগিয়ে।
ব্রাজিলের ৫টি শট ছিল পোস্টের মধ্যে, যেখানে মরক্কোর ছিল ৪টি। তা সত্ত্বেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিতে পারেনি সেলেসাওরা। মাঝমাঠে ছন্দের অভাব এবং আক্রমণে সমন্বয়হীনতা চোখে পড়েছে বেশ কয়েকবার।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ভিনিসিয়ুস আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন, ব্রাজিল ইতিহাস গড়তে এসেছে। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই তারা যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেছে। তবে প্রথম ম্যাচের বাস্তবতা সেই আত্মবিশ্বাসে কিছুটা ধাক্কা দিয়েছে।
ম্যাচ শেষে নিজের প্রতিক্রিয়ায় ভিনিসিয়ুস দলের দুর্বলতার কথাই সামনে আনেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
ভিনিসিয়ুস বলেন, “আমাদের বল দখলে রাখতে হবে। আমার মনে হয় না, এই মুহূর্তে অনেক কিছু বলার আছে। আমি মনে করি, আমাদের অনেক উন্নতি করতে হবে।”
তার এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, দলের ভেতরে আত্মসমালোচনার জায়গা রয়েছে। প্রথম ম্যাচের ড্রকে তারা সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছে। টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপে ভালো করতে হলে ভুলগুলো দ্রুত শুধরে নিতে হবে।
বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে মাঠে নামা ব্রাজিলের কাছে সমর্থকদের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। তাই প্রথম ম্যাচের ফলাফল নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দলটির খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ এখনই উদ্বিগ্ন না হয়ে উন্নতির দিকেই মনোযোগ দিতে চাইবেন।
ব্রাজিলের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আসছে খুব দ্রুতই। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে হাইতির। সেই ম্যাচে জয় তুলে নিতে পারলে নকআউট পর্বের পথে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারবে সেলেসাওরা।
আগামী ২০ জুন বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে ব্রাজিল ও হাইতির ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর পর সেই লড়াই এখন ব্রাজিলের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সমর্থকরাও আশা করছেন, পরের ম্যাচে নিজেদের আসল রূপে দেখা যাবে ভিনিসিয়ুসদের।






















