ঢাকা ১১:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo শাহবাগে চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার: ফ্ল্যাট থেকে ফারা ফোরদৌসের মরদেহ উদ্ধার Logo অলকা ইয়াগনিককে হুইলচেয়ারে দেখে উদ্বিগ্ন ভক্তরা Logo এক বছরের আগে শিশুকে গরুর দুধ কেন নয়? Logo পটল চাষে সাফল্য: কৃষক রশিদুলের আয় দেখে অনুপ্রাণিত সবাই Logo ইথা টিজারে দারুণ চমক, শ্রদ্ধা কাপুরের প্রত্যাবর্তনে মুগ্ধ ভক্তরা Logo ইরানের বিজয় ও যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়: শান্তি চুক্তিতে কৌশলগত সাফল্যের দাবি Logo গালি দিলে কেন স্বস্তি লাগে? জানুন বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা Logo ব্রাজিল বনাম জাপান রেকর্ড: দুর্দান্ত মুখোমুখি পরিসংখ্যান Logo আতিফ আসলাম কনসার্ট: অবশেষে ২৪ জুলাই বহুল প্রতীক্ষিত দিন Logo চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ১০৯ তলা ভবন বিমান বিধস্ত

দক্ষিণ কোরিয়ার বড় সিদ্ধান্ত, ৫ লাখ সেনা হচ্ছেন ‘ড্রোন যোদ্ধা’

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:২২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • ৫১৬

৫ লাখ সেনাকে ড্রোন যোদ্ধা বানানোর পরিকল্পনা দক্ষিণ কোরিয়ার। ছবি: সংগৃহীত।

দক্ষিণ কোরিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করতে দেশের পাঁচ লাখ সেনাকে ‘ড্রোন যোদ্ধা’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক জানান, সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যাতে তারা নিজের ব্যক্তিগত অস্ত্রের মতোই দক্ষতার সঙ্গে ড্রোন পরিচালনা করতে পারেন। ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রায় পাঁচ লাখ সদস্যকে ধাপে ধাপে ড্রোন পরিচালনা ও যুদ্ধক্ষেত্রে এর কার্যকর ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতায় ড্রোনকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করছে দেশটি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক বলেন, স্বল্প খরচে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেওয়া সম্ভব। ইউক্রেন যুদ্ধ দেখিয়েছে, প্রচলিত ভারী অস্ত্রের পাশাপাশি ছোট আকারের ড্রোনও কৌশলগতভাবে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। বিশেষ করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নয়ন দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর জন্য নতুন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।

নতুন পরিকল্পনার আওতায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ১১ হাজার বাণিজ্যিক ড্রোন সংগ্রহ করা হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার ব্যবহারযোগ্য যুদ্ধ ড্রোন সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার হামলাকারী ‘কে-লুকাস’ ড্রোনের উৎপাদনও দ্রুত বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে সিউল।

ড্রোন প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতেও বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে লেজারভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে শত্রুপক্ষের ড্রোন দ্রুত শনাক্ত ও ধ্বংস করা যায়।

২০২২ সালে উত্তর কোরিয়ার পাঁচটি ছোট ড্রোন দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করলে দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড় প্রশ্নের মুখে পড়ে। যুদ্ধবিমান ও আক্রমণকারী হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হলেও শতাধিক গুলি ছোড়ার পরও একটি ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতার কারণে উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা দ্রুত উন্নত হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশটির সেনারা বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহারের মূল্যবান অভিজ্ঞতাও অর্জন করছে।

এদিকে একই দিনে উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, দেশটির নেতা কিম জং-উন কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও উন্নত রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থার পরীক্ষানিরীক্ষা সরাসরি তদারক করেছেন। ফলে কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

শাহবাগে চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার: ফ্ল্যাট থেকে ফারা ফোরদৌসের মরদেহ উদ্ধার

দক্ষিণ কোরিয়ার বড় সিদ্ধান্ত, ৫ লাখ সেনা হচ্ছেন ‘ড্রোন যোদ্ধা’

Update Time : ০৭:২২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করতে দেশের পাঁচ লাখ সেনাকে ‘ড্রোন যোদ্ধা’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক জানান, সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যাতে তারা নিজের ব্যক্তিগত অস্ত্রের মতোই দক্ষতার সঙ্গে ড্রোন পরিচালনা করতে পারেন। ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রায় পাঁচ লাখ সদস্যকে ধাপে ধাপে ড্রোন পরিচালনা ও যুদ্ধক্ষেত্রে এর কার্যকর ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতায় ড্রোনকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করছে দেশটি।

আরও পড়ুন  ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: বাংলাদেশিসহ ৩২ জন উদ্ধার, বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক বলেন, স্বল্প খরচে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেওয়া সম্ভব। ইউক্রেন যুদ্ধ দেখিয়েছে, প্রচলিত ভারী অস্ত্রের পাশাপাশি ছোট আকারের ড্রোনও কৌশলগতভাবে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। বিশেষ করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নয়ন দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর জন্য নতুন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।

নতুন পরিকল্পনার আওতায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ১১ হাজার বাণিজ্যিক ড্রোন সংগ্রহ করা হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

আরও পড়ুন  কোয়েল মল্লিক রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন, রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়

একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার ব্যবহারযোগ্য যুদ্ধ ড্রোন সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার হামলাকারী ‘কে-লুকাস’ ড্রোনের উৎপাদনও দ্রুত বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে সিউল।

ড্রোন প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতেও বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে লেজারভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে শত্রুপক্ষের ড্রোন দ্রুত শনাক্ত ও ধ্বংস করা যায়।

২০২২ সালে উত্তর কোরিয়ার পাঁচটি ছোট ড্রোন দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করলে দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড় প্রশ্নের মুখে পড়ে। যুদ্ধবিমান ও আক্রমণকারী হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হলেও শতাধিক গুলি ছোড়ার পরও একটি ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন  ইরানের ১০ দফা শর্তে কি থামছে যুদ্ধ? যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন ট্রাম্প

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতার কারণে উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা দ্রুত উন্নত হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশটির সেনারা বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহারের মূল্যবান অভিজ্ঞতাও অর্জন করছে।

এদিকে একই দিনে উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, দেশটির নেতা কিম জং-উন কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও উন্নত রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থার পরীক্ষানিরীক্ষা সরাসরি তদারক করেছেন। ফলে কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।