ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য সহায়তা হারাচ্ছেন ৩০ লাখ মানুষ, নতুন নিয়মে ধাক্কা

  • Taslima Khanom
  • Update Time : ০৭:১০:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • ৫০৫

চিত্রঃ নতুন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রে লাখো মানুষ খাদ্য সহায়তা হারাচ্ছেন (সংগৃহীত)

যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য সহায়তা হারাচ্ছেন ৩০ লাখের বেশি মানুষ—নতুন নিয়ম কার্যকরের পর এই সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাদ পড়ছেন। দেশটির সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা এসএনএপি দীর্ঘদিন ধরে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করে আসছে। তবে নতুন বিধিনিষেধ চালুর ফলে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে কঠোর শর্ত কার্যকর হওয়ার পর প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ এই কর্মসূচি থেকে বের হয়ে গেছেন। এতে করে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট বয়সসীমার মধ্যে থাকা কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময় কাজ বা প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হচ্ছে। এই শর্ত পূরণ করতে না পারলে তারা খাদ্য সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা হারাচ্ছেন। আগে এই শর্ত কিছুটা শিথিল ছিল এবং নির্দিষ্ট বয়স ও পারিবারিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ছাড় দেওয়া হতো। কিন্তু নতুন নিয়মে সেই ছাড় অনেকাংশে কমিয়ে আনা হয়েছে। ফলে অনেক মানুষ এখন এই সুবিধার বাইরে চলে যাচ্ছেন। বিশেষ করে যেসব প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিবারের নির্ভরশীলতা কম, তাদের জন্য এই শর্ত পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেকেই নিয়ম অনুযায়ী কাজ বা প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন না।

এছাড়া নতুন বিধিমালায় কিছু অ-নাগরিককেও এই সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আগে যারা বৈধভাবে বসবাস করলেও সহায়তা পেতেন, এখন তাদের একটি অংশ আর এই সুবিধা পাচ্ছেন না। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত অর্থবছরে প্রতি মাসে গড়ে ৪ কোটির বেশি মানুষ এই খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ছিলেন। এতে সরকারের ব্যয় ছিল বিপুল পরিমাণ। তবে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে এই সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। কয়েক মাসের মধ্যে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন নিয়মের ফলে যারা সহায়তা হারাচ্ছেন, তাদের অনেকেই নিম্নআয়ের এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। এতে করে দারিদ্র্য ও খাদ্য সংকট আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই নিয়মের মাধ্যমে মানুষকে কর্মমুখী করা এবং কর্মসংস্থানে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, সব মানুষের জন্য সমানভাবে কাজের সুযোগ নেই। তাই কঠোর শর্ত আরোপ করলে অনেকেই বাস্তবিক কারণে সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন।

সামাজিক সংগঠনগুলো এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, খাদ্য সহায়তা কমে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি পরিচালনায় ভারসাম্য রাখা জরুরি। একদিকে মানুষকে কর্মসংস্থানে উৎসাহিত করা, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ফলে এই বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সবশেষে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য সহায়তা হারাচ্ছেন ৩০ লাখ মানুষ—এই ঘটনা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য সহায়তা হারাচ্ছেন ৩০ লাখ মানুষ, নতুন নিয়মে ধাক্কা

Update Time : ০৭:১০:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য সহায়তা হারাচ্ছেন ৩০ লাখের বেশি মানুষ—নতুন নিয়ম কার্যকরের পর এই সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাদ পড়ছেন। দেশটির সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা এসএনএপি দীর্ঘদিন ধরে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করে আসছে। তবে নতুন বিধিনিষেধ চালুর ফলে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে কঠোর শর্ত কার্যকর হওয়ার পর প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ এই কর্মসূচি থেকে বের হয়ে গেছেন। এতে করে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট বয়সসীমার মধ্যে থাকা কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময় কাজ বা প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হচ্ছে। এই শর্ত পূরণ করতে না পারলে তারা খাদ্য সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা হারাচ্ছেন। আগে এই শর্ত কিছুটা শিথিল ছিল এবং নির্দিষ্ট বয়স ও পারিবারিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ছাড় দেওয়া হতো। কিন্তু নতুন নিয়মে সেই ছাড় অনেকাংশে কমিয়ে আনা হয়েছে। ফলে অনেক মানুষ এখন এই সুবিধার বাইরে চলে যাচ্ছেন। বিশেষ করে যেসব প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিবারের নির্ভরশীলতা কম, তাদের জন্য এই শর্ত পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেকেই নিয়ম অনুযায়ী কাজ বা প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন না।

আরও পড়ুন  তেলের বাজার উন্মুক্ত না করলে খেসারত নিশ্চিত: ইরানের হুঁশিয়ারি

এছাড়া নতুন বিধিমালায় কিছু অ-নাগরিককেও এই সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আগে যারা বৈধভাবে বসবাস করলেও সহায়তা পেতেন, এখন তাদের একটি অংশ আর এই সুবিধা পাচ্ছেন না। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত অর্থবছরে প্রতি মাসে গড়ে ৪ কোটির বেশি মানুষ এই খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ছিলেন। এতে সরকারের ব্যয় ছিল বিপুল পরিমাণ। তবে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে এই সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। কয়েক মাসের মধ্যে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন  ‘করোনার টিকার কারণে মৃত্যু হয়েছে ওয়ার্নের’

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন নিয়মের ফলে যারা সহায়তা হারাচ্ছেন, তাদের অনেকেই নিম্নআয়ের এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। এতে করে দারিদ্র্য ও খাদ্য সংকট আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই নিয়মের মাধ্যমে মানুষকে কর্মমুখী করা এবং কর্মসংস্থানে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, সব মানুষের জন্য সমানভাবে কাজের সুযোগ নেই। তাই কঠোর শর্ত আরোপ করলে অনেকেই বাস্তবিক কারণে সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন।

আরও পড়ুন  ইসলামাবাদে আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক পোস্ট: ‘ইরান খুব খারাপভাবে হারছে’

সামাজিক সংগঠনগুলো এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, খাদ্য সহায়তা কমে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি পরিচালনায় ভারসাম্য রাখা জরুরি। একদিকে মানুষকে কর্মসংস্থানে উৎসাহিত করা, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ফলে এই বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সবশেষে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য সহায়তা হারাচ্ছেন ৩০ লাখ মানুষ—এই ঘটনা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।