ইরানে টানা ৩ দিনের হামলা, রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী টানা তিন দিন ধরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে ইরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে, যার ফলে দেশটির আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে।
সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, এই অভিযান ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত ও নির্ভুল। তার দাবি, ইরানের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত একাধিক রাডার স্টেশন এবং নজরদারি কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এসব স্থাপনা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা এবং পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে সামরিক নজরদারির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ট্রাম্প আরও বলেন, হামলার ফলে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক নজরদারি সক্ষমতা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। তাই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগও বেড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি অনুযায়ী, হামলাগুলোতে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও নির্ভুল নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে এবং সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত সক্ষমতারও প্রদর্শন করেছে।
তবে ট্রাম্পের এসব দাবির বিষয়ে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমেও রাডার ধ্বংস বা বড় ধরনের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে ট্রাম্পের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতে উভয় পক্ষই তথ্যযুদ্ধের অংশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী দেখানোর চেষ্টা করছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে পড়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করেও হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছিল। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অগ্রগতি ঠেকানো এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানোই ছিল সেই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। অন্যদিকে তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক অবস্থান, হুমকি এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়ে বলছে, সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়লে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।
পরিস্থিতি এখনো দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক মহলের অবস্থান—সবকিছুই আগামী কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।




























