পদ্মা রেল সেতুর নিচে মাটি অপসারণ প্রকল্পেরই অংশ, নিরাপত্তার ঝুঁকি নেই: সড়ক উপদেষ্টা
পদ্মা রেল সেতুর নিচে মাটি অপসারণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও উদ্বেগের মধ্যে সরকার স্পষ্ট করেছে যে, এ কার্যক্রম সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। এতে সেতুর নিরাপত্তা বা ট্রেন চলাচলের ওপর কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা বলেন, পদ্মা রেল সেতুর নিচে যে মাটি অপসারণ করা হচ্ছে, তা প্রকল্পের অনুমোদিত ড্রেজিং কার্যক্রমের অংশ। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা, নাব্যতা নিশ্চিত করা এবং সেতুর আশপাশের নদীতলকে প্রকৌশলগতভাবে ভারসাম্যপূর্ণ রাখতেই এই কাজ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও বা ছবি দেখে অনেকেই বিষয়টিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন। তবে বাস্তবে কাজটি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক তদারকির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। সেতুর পাইল, পিয়ার বা মূল কাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই সব ধরনের ড্রেজিং পরিচালনা করা হচ্ছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, পদ্মা রেল সেতুর নকশা প্রণয়ন, নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা হয়েছে। নদীর তলদেশে কোথায় কত গভীর পর্যন্ত মাটি অপসারণ করা যাবে, সে বিষয়েও নির্ধারিত প্রকৌশল নির্দেশিকা রয়েছে। সেই নির্দেশিকা মেনেই কাজ চলছে।
তিনি বলেন, নদীর তলদেশে পলি জমা, পানির প্রবাহের পরিবর্তন এবং মৌসুমি পরিস্থিতির কারণে নির্দিষ্ট সময় পরপর ড্রেজিং বা মাটি অপসারণের প্রয়োজন হয়। বিশ্বের বিভিন্ন বড় নদীর ওপর নির্মিত সেতুতেও একই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পদ্মা রেল সেতুর নিরাপত্তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণে আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। সেতুর বিভিন্ন অংশের অবস্থা, কম্পন, চাপ এবং নদীর তলদেশের পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। কোনো ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতাও রয়েছে।
উপদেষ্টা জনগণকে গুজব বা যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রচারিত তথ্য বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ধরনের বিষয়ে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যের ওপর নির্ভর করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, পদ্মা রেল সেতু দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। তাই এর নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সেতুর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিদর্শন, কারিগরি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, সেতুর নিচে পরিচালিত মাটি অপসারণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত। ফলে এ নিয়ে জনমনে আতঙ্ক বা বিভ্রান্তির কোনো কারণ নেই।





























