রাজধানীর গুলশানের বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্কে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণিল ‘আমেরিকান মেলা’। আলোকচিত্র প্রদর্শনী, যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী খাবার, শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজন এবং মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর ছিল পুরো আয়োজন। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনসহ দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে দিনটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
মেলার শুরু থেকেই বিভিন্ন বয়সের দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে পার্ক প্রাঙ্গণ প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে। পরিবার, শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী এবং বিদেশি নাগরিকরা একসঙ্গে অংশ নিয়ে আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন। দর্শনার্থীরা বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।
এবারের আমেরিকান মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল আলোকচিত্র প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, স্বাধীনতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, ঐতিহাসিক স্থাপনা, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নানা মুহূর্ত স্থান পায়। দর্শনার্থীরা প্রতিটি ছবি গভীর আগ্রহ নিয়ে দেখেন এবং অনেকেই স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা করেন।
প্রদর্শনীতে শিশুদের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য। ছোট ছোট দর্শনার্থীরা ছবি দেখে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করে। আয়োজকরা তাদের জন্য সহজ ভাষায় প্রদর্শনীর বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করেন, যা শিশুদের মধ্যে ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে কৌতূহল সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন, বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টলগুলোতে গিয়ে তিনি আয়োজনের প্রশংসা করেন।
মেলায় যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় বিভিন্ন খাবারের স্টল ছিল দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। বার্গার, স্যান্ডউইচ, কাপকেক, কুকিজসহ নানা ধরনের খাবার পরিবেশন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার আদলে সাজানো বিশেষ কাপকেক দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং অনেকেই ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন।
শিশুদের জন্য আলাদা কর্নারে ছিল পাজল গেম, সৃজনশীল খেলাধুলা এবং শিক্ষামূলক নানা কার্যক্রম। এসব আয়োজনে শিশুরা আনন্দের সঙ্গে অংশ নেয়। অভিভাবকেরাও সন্তানের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আয়োজনের প্রশংসা করেন।
দিনব্যাপী চলা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যান্ড দল সঙ্গীত পরিবেশন করে। পার্কের লেকের ধারে মনোরম পরিবেশে তাদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। দেশি-বিদেশি অতিথিরা সঙ্গীত উপভোগের পাশাপাশি করতালির মাধ্যমে শিল্পীদের উৎসাহ দেন।
আয়োজনে দুই দেশের সংস্কৃতির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলনও দেখা যায়। বিভিন্ন স্টলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং জীবনধারা সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হয়। দর্শনার্থীরা এসব তথ্য আগ্রহের সঙ্গে সংগ্রহ করেন এবং আয়োজকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
অনেক দর্শনার্থীর মতে, এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদনের নয়, বরং বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য এমন আয়োজন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সহায়ক।
মেলায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াতে পারেন। শিশু, নারী ও প্রবীণদের সুবিধার বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই আমেরিকান মেলা শুধু একটি উৎসব ছিল না, বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার একটি প্রতীকী আয়োজন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। দিনব্যাপী প্রাণবন্ত এই অনুষ্ঠান দর্শনার্থীদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।




























