ঢাকা ০৯:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সলিমপুরের আদলে টেকনাফের বাহারছড়ায় যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা Logo নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সিজিএস এর কর্মশালায় শীর্ষ নেতাদের Logo ব্রাজিল বনাম নরওয়ে ম্যাচের আগে ইনজুরির আঘাতে বিপর্যস্ত সেলেসাও স্কোয়াড Logo অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক বহাল রেখে বাংলাদেশের পাট রপ্তানিতে ভারতের নতুন চরম আঘাত Logo এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমার পরও বেশি টাকায় বিক্রির বিস্ফোরক গোপন রহস্য Logo ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি Logo ইসলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের চূড়ান্ত আইনি বিধান এবং ৫টি অজানা তথ্য Logo বিয়ের ৮ বছর পর মা হচ্ছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী Logo মানসিক চাপ কি হৃদরোগের কারণ? জানুন বিশেষজ্ঞদের মত Logo রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদীতে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের জরুরি যৌথ কমান্ডো অভিযান

সৌরবিদ্যুৎচালিত হিমাগার পাচ্ছে প্রতিটি ইউনিয়ন, জানালেন কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ সুবিধা বাড়িয়ে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে সৌরবিদ্যুৎচালিত মিনি কোল্ডস্টোরেজ বা ছোট আকারের হিমাগার নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে প্রকৃত কৃষকদের তথ্যভান্ডার তৈরি এবং সরকারি সহায়তা সহজ করতে চালু করা হচ্ছে কৃষি কার্ড। শনিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে কৃষিপণ্য উৎপাদন বাড়লেও সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকেরা প্রায়ই ক্ষতির মুখে পড়েন। মৌসুমে টমেটো, গাজর, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন সবজির দাম এতটাই কমে যায় যে অনেক কৃষক উৎপাদন খরচও তুলতে পারেন না। আবার কয়েক মাস পর একই পণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়।

তিনি জানান, এই মূল্য অস্থিরতা কমাতে ইউনিয়নভিত্তিক মিনি কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ করা হবে। এসব হিমাগারে কৃষকেরা মৌসুমে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সংরক্ষণ করতে পারবেন। পরে বাজারে চাহিদা বাড়লে সুবিধাজনক সময়ে সেই পণ্য বিক্রি করে বেশি দাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

মন্ত্রী বলেন, নতুন কোল্ডস্টোরেজগুলো সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় সমবায় সমিতি বা কৃষক সংগঠন এগুলোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে। কেবল জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে, ফলে পরিচালনা ব্যয়ও অনেক কমে আসবে।

তার মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষকের আয় বাড়বে এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহও সারা বছর তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকবে। এতে একদিকে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন, অন্যদিকে ভোক্তারাও অতিরিক্ত দামে কৃষিপণ্য কিনতে বাধ্য হবেন না।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় করা গেলে মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্যও কমে আসবে। কৃষকেরা সংগঠিতভাবে বাজারে অংশ নিতে পারবেন এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

সরকার কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর কার্যক্রমও শুরু করেছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে এর পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে। কৃষি কার্ডের মাধ্যমে দেশের প্রকৃত কৃষকদের একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল তথ্যভান্ডার তৈরি করা হবে।

এই তথ্যভান্ডারে একজন কৃষক কোন এলাকায় বসবাস করেন, কত জমিতে চাষ করেন, কী ধরনের ফসল উৎপাদন করেন এবং কোন কৃষি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত—এসব তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যতে কৃষি পরিকল্পনা গ্রহণে এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রী বলেন, কৃষি বলতে শুধু ধান, গম বা পাট চাষকে বোঝানো হবে না। লবণচাষি, মাছচাষি, পশুপালক, সুপারি, নারকেল, পানচাষিসহ কৃষিভিত্তিক সব ধরনের উৎপাদকই কৃষি কার্ডের আওতায় আসবেন। এর ফলে দেশের কৃষি খাতের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র সরকারের হাতে থাকবে।

তিনি জানান, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সরকারি ভর্তুকি, প্রণোদনা এবং অন্যান্য আর্থিক সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে প্রকৃত কৃষকেরা সহজেই সরকারি সুবিধা পাবেন এবং অনিয়ম বা মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমে যাবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কোন এলাকায় কোন ফসলের চাহিদা বেশি এবং কোথায় উদ্বৃত্ত উৎপাদন হচ্ছে, সেই তথ্য বিশ্লেষণ করেই ভবিষ্যতে উৎপাদন পরিকল্পনা করা হবে। এতে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে কৃষকের লোকসানের ঝুঁকি কমবে এবং বাজারও ভারসাম্যপূর্ণ থাকবে।

ধান সংগ্রহ ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। ইউনিয়নভিত্তিক নির্দিষ্ট স্থানে সরকারি ধান সংগ্রহ কেন্দ্র চালু করা হবে। কৃষকদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হবে কোথায়, কবে এবং কত দামে সরকার ধান কিনবে, যাতে তারা সহজেই সরকারি সংগ্রহ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন।

খাদ্য আমদানির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও জনসংখ্যার তুলনায় খাদ্যের চাহিদা এখনও বেশি। পাশাপাশি হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে প্রতিবছর কিছু ফসল নষ্ট হয়। তাই নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্য আমদানির প্রয়োজন পড়ে।

তিনি আরও জানান, এই ক্ষতি কমাতে সরকার আগাম পাকে এমন ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন এবং আধুনিক হারভেস্টিং প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সেই অর্থ পরিশোধ করেছে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খাল পুনঃখনন এবং আধুনিক সেচব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মৎস্য খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে জেলেদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যাতে তারা দাদনের ওপর নির্ভরশীল না হন এবং ইলিশ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পায়।

তিনি আরও জানান, সমুদ্রে লাইসেন্সবিহীন মাছ ধরা বন্ধে সরকার কঠোর নজরদারি করছে। দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই সভায় কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিয়নভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎচালিত মিনি কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ এবং কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষিপণ্যের অপচয় কমবে, কৃষকের আয় বাড়বে এবং বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘমেয়াদে এই উদ্যোগ দেশের কৃষি খাতকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই করে তুলতে সহায়তা করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সলিমপুরের আদলে টেকনাফের বাহারছড়ায় যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা

সৌরবিদ্যুৎচালিত হিমাগার পাচ্ছে প্রতিটি ইউনিয়ন, জানালেন কৃষিমন্ত্রী

Update Time : ০৬:৪৬:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ সুবিধা বাড়িয়ে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে সৌরবিদ্যুৎচালিত মিনি কোল্ডস্টোরেজ বা ছোট আকারের হিমাগার নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে প্রকৃত কৃষকদের তথ্যভান্ডার তৈরি এবং সরকারি সহায়তা সহজ করতে চালু করা হচ্ছে কৃষি কার্ড। শনিবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে কৃষিপণ্য উৎপাদন বাড়লেও সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকেরা প্রায়ই ক্ষতির মুখে পড়েন। মৌসুমে টমেটো, গাজর, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন সবজির দাম এতটাই কমে যায় যে অনেক কৃষক উৎপাদন খরচও তুলতে পারেন না। আবার কয়েক মাস পর একই পণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়।

তিনি জানান, এই মূল্য অস্থিরতা কমাতে ইউনিয়নভিত্তিক মিনি কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ করা হবে। এসব হিমাগারে কৃষকেরা মৌসুমে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সংরক্ষণ করতে পারবেন। পরে বাজারে চাহিদা বাড়লে সুবিধাজনক সময়ে সেই পণ্য বিক্রি করে বেশি দাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

মন্ত্রী বলেন, নতুন কোল্ডস্টোরেজগুলো সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় সমবায় সমিতি বা কৃষক সংগঠন এগুলোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে। কেবল জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে, ফলে পরিচালনা ব্যয়ও অনেক কমে আসবে।

আরও পড়ুন  কাজী শায়রুল হাসান চেয়ারম্যান: সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন নেতৃত্বের শক্তিশালী সূচনা

তার মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষকের আয় বাড়বে এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহও সারা বছর তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকবে। এতে একদিকে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন, অন্যদিকে ভোক্তারাও অতিরিক্ত দামে কৃষিপণ্য কিনতে বাধ্য হবেন না।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় করা গেলে মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্যও কমে আসবে। কৃষকেরা সংগঠিতভাবে বাজারে অংশ নিতে পারবেন এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

সরকার কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর কার্যক্রমও শুরু করেছে বলে জানান তিনি। বর্তমানে এর পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে। কৃষি কার্ডের মাধ্যমে দেশের প্রকৃত কৃষকদের একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল তথ্যভান্ডার তৈরি করা হবে।

এই তথ্যভান্ডারে একজন কৃষক কোন এলাকায় বসবাস করেন, কত জমিতে চাষ করেন, কী ধরনের ফসল উৎপাদন করেন এবং কোন কৃষি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত—এসব তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যতে কৃষি পরিকল্পনা গ্রহণে এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রী বলেন, কৃষি বলতে শুধু ধান, গম বা পাট চাষকে বোঝানো হবে না। লবণচাষি, মাছচাষি, পশুপালক, সুপারি, নারকেল, পানচাষিসহ কৃষিভিত্তিক সব ধরনের উৎপাদকই কৃষি কার্ডের আওতায় আসবেন। এর ফলে দেশের কৃষি খাতের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র সরকারের হাতে থাকবে।

তিনি জানান, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সরকারি ভর্তুকি, প্রণোদনা এবং অন্যান্য আর্থিক সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে প্রকৃত কৃষকেরা সহজেই সরকারি সুবিধা পাবেন এবং অনিয়ম বা মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমে যাবে।

আরও পড়ুন  হঠাৎ বড় সিদ্ধান্ত, প্রবাসীদের জন্য চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কোন এলাকায় কোন ফসলের চাহিদা বেশি এবং কোথায় উদ্বৃত্ত উৎপাদন হচ্ছে, সেই তথ্য বিশ্লেষণ করেই ভবিষ্যতে উৎপাদন পরিকল্পনা করা হবে। এতে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে কৃষকের লোকসানের ঝুঁকি কমবে এবং বাজারও ভারসাম্যপূর্ণ থাকবে।

ধান সংগ্রহ ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। ইউনিয়নভিত্তিক নির্দিষ্ট স্থানে সরকারি ধান সংগ্রহ কেন্দ্র চালু করা হবে। কৃষকদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হবে কোথায়, কবে এবং কত দামে সরকার ধান কিনবে, যাতে তারা সহজেই সরকারি সংগ্রহ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন।

খাদ্য আমদানির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও জনসংখ্যার তুলনায় খাদ্যের চাহিদা এখনও বেশি। পাশাপাশি হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে প্রতিবছর কিছু ফসল নষ্ট হয়। তাই নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্য আমদানির প্রয়োজন পড়ে।

তিনি আরও জানান, এই ক্ষতি কমাতে সরকার আগাম পাকে এমন ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন এবং আধুনিক হারভেস্টিং প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে ইলেকট্রিক বাস আমদানির সিদ্ধান্ত

কৃষিমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সেই অর্থ পরিশোধ করেছে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খাল পুনঃখনন এবং আধুনিক সেচব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মৎস্য খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে জেলেদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যাতে তারা দাদনের ওপর নির্ভরশীল না হন এবং ইলিশ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পায়।

তিনি আরও জানান, সমুদ্রে লাইসেন্সবিহীন মাছ ধরা বন্ধে সরকার কঠোর নজরদারি করছে। দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই সভায় কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিয়নভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎচালিত মিনি কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ এবং কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষিপণ্যের অপচয় কমবে, কৃষকের আয় বাড়বে এবং বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘমেয়াদে এই উদ্যোগ দেশের কৃষি খাতকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই করে তুলতে সহায়তা করবে।