২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের ভোটের তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক। কলম্বিয়ার সাংবাদিক পাচে আন্দ্রেদের প্রকাশ করা সেরা ১০ খেলোয়াড়ের তালিকায় হ্যারি কেইনকে প্রথম স্থানে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামালের অবস্থান নিয়েও তৈরি হয়েছে কৌতূহল। বিশেষ করে তালিকার শেষের দিকে কয়েকজন খেলোয়াড়ের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফুট মারকাতোর তথ্য অনুযায়ী, আন্দ্রেদের প্রকাশ করা তালিকাটি সামনে আসার পর থেকেই এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তাঁর পছন্দের তালিকায় রদ্রি ও কিলিয়ান এমবাপেকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তবে এই নির্বাচন ঘিরে সমর্থক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তাঁর পরেই পঞ্চম স্থানে জায়গা পেয়েছেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। দুজনের অবস্থান নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ থাকলেও তালিকার অন্য কয়েকটি নাম ও তাদের অবস্থানই বিতর্কের মূল কারণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। গতবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলেকে রাখা হয়েছে সপ্তম স্থানে। প্যারিস সাঁ জার্মেইয়ের হয়ে দেম্বেলের পারফরম্যান্স এবং ব্যক্তিগত অর্জনের কারণে তাঁর অবস্থান নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। তবে একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ভোটের তালিকা চূড়ান্ত ফলাফলের প্রতিফলন নয়।
সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে তালিকার শেষ তিনটি অবস্থান নিয়ে। অষ্টম স্থানে রাখা হয়েছে কলম্বিয়ার তারকা লুইস দিয়াসকে। নবম স্থানে রয়েছেন উইলিয়ান পাচো এবং দশম স্থানে জায়গা পেয়েছেন মেক্সিকোর ফরোয়ার্ড হুলিয়ান কিনিয়োনেস। এই তিন খেলোয়াড়কে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যালন ডি’অরের চূড়ান্ত ভোটে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিকেরা নিজেদের পছন্দের সেরা ১০ খেলোয়াড় নির্বাচন করেন। তালিকায় খেলোয়াড়দের অবস্থানের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পয়েন্ট দেওয়া হয়। সব ভোট গণনার পর পয়েন্টের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করা হয়।
তাই একজন সাংবাদিকের তালিকা সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারলেও সেটিই পুরস্কারের চূড়ান্ত চিত্র নির্ধারণ করে না। অন্য ভোটারদের পছন্দও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আন্দ্রেদের তালিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত কোন খেলোয়াড় কত পয়েন্ট পান, সেটিই হবে নির্ধারক।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হওয়ার পর আন্দ্রেদ তাঁর পোস্টটি মুছে ফেলেছেন। তবে তালিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের বিষয়ে তিনি এখনো প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তাঁর ভোটের তালিকা ঘিরে তৈরি হওয়া এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে চূড়ান্ত ফলের জন্য।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন