নারী ফুটবলে আবারও ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন স্পেনের তারকা মিডফিল্ডার আলেক্সিয়া পুতেয়াস। ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর ফেমিনিন জিতে ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নিজের করে নিয়েছেন তিনি। সোমবার লন্ডনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই স্বীকৃতি পান ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলার। এর মধ্য দিয়ে নারী ফুটবলে সর্বোচ্চ তিনবার ব্যালন ডি’অর জয়ের রেকর্ডে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করলেন তিনি।
এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালে টানা দুইবার ব্যালন ডি’অর ফেমিনিন জিতেছিলেন পুতেয়াস। এবার তৃতীয়বার পুরস্কার জিতে নারী ফুটবলে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন এই স্প্যানিশ তারকা। তাঁর এই অর্জনের মধ্য দিয়ে সতীর্থ আইতানা বোনমাতির টানা তিনবার পুরস্কার জয়ের ধারাবাহিকতাও শেষ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুতেয়াসের এই সাফল্যের আরেকটি বিশেষ দিক হলো, ইংল্যান্ডের ক্লাবের হয়ে খেলার সময় প্রথমবার ব্যালন ডি’অর জয়ের কীর্তি গড়েছেন তিনি। দীর্ঘ ১৪ মৌসুম বার্সেলোনায় কাটানোর পর ফ্রি ট্রান্সফারে লন্ডন সিটিতে যোগ দেন এই মিডফিল্ডার। নতুন ক্লাবে যোগ দেওয়ার পরও নিজের পারফরম্যান্স ও ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন তিনি।
বার্সেলোনার হয়ে দীর্ঘ সময় খেলেছেন পুতেয়াস। কাতালান ক্লাবটির জার্সিতে লিগে ৩৫০টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এই সময়ে জিতেছেন ১০টি লিগ শিরোপা, ১০টি কোপা দে লা রেইনা এবং চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা। ক্লাবটির হয়ে তাঁর অবদান নারী ফুটবলে বার্সেলোনার সাফল্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের ভোটিং পর্বে বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত পরিসংখ্যান গড়েন পুতেয়াস। ৫৩ ম্যাচে ২৬ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও ১৫টি গোল করিয়েছেন তিনি। তাঁর পারফরম্যান্সে ভর করে দলটি স্প্যানিশ লিগ, কোপা দে লা রেইনা, স্প্যানিশ সুপার কাপ এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জেতে। ক্লাব পর্যায়ে একাধিক শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও তাঁকে পুরস্কারের দৌড়ে এগিয়ে রাখে।
জাতীয় দলের হয়েও সাফল্য পেয়েছেন এই স্প্যানিশ তারকা। গত ডিসেম্বরে জার্মানিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা জেতে স্পেন। ওই ফাইনালে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান পুতেয়াস। ক্লাব ও জাতীয় দল, দুই জায়গাতেই তাঁর অবদান এই অর্জনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লন্ডন সিটিতে যোগ দেওয়ার পরও নিজের ছন্দ ধরে রেখেছেন পুতেয়াস। চলতি ইংলিশ নারী লিগে সাত ম্যাচে তিন গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি। সাত ম্যাচ শেষে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগের তৃতীয় স্থানে রয়েছে তাঁর দল। শীর্ষে থাকা চেলসি এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি, দুই দলেরই পয়েন্ট ১৯।
২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত লন্ডন সিটি এবারই প্রথম ইংলিশ নারী ফুটবলের শীর্ষ লিগে খেলছে। চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে উন্নীত হয়ে শীর্ষ স্তরে ওঠা প্রথম স্বতন্ত্র ক্লাব হিসেবে দলটি বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে। নতুন ক্লাবে যোগ দিয়েই পুতেয়াসের এমন স্বীকৃতি তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। তৃতীয় ব্যালন ডি’অর জয়ের মাধ্যমে নারী ফুটবলে নিজের অর্জনের তালিকায় আরও একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য যুক্ত করলেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন