চট্টগ্রামে দুর্গাপূজা এবার গত বছরের তুলনায় কম হচ্ছে। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিমা পূজার সংখ্যা প্রায় ৫৮টি কমেছে। আয়োজকদের মানসিক উদ্বেগ ও আর্থিক সংকটকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তাঁরা। তবে উদ্বেগের মধ্যেও মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নিতাই প্রসাদ ঘোষ জানিয়েছেন, জেলার উপজেলাগুলোতে এবার ১ হাজার ৫৯৪টি প্রতিমা পূজা এবং ৫২৮টি ঘট পূজার আয়োজন করা হচ্ছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে উপজেলাগুলোতে প্রতিমা পূজার সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬৫১টি। অর্থাৎ আগের ওই বছরের তুলনায় এবার প্রতিমা পূজা হচ্ছে ৫৭টি কম। ঘট পূজার সংখ্যা অবশ্য বেড়েছে।
নিতাই প্রসাদ ঘোষের ভাষ্য, ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিংবা স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় খোলা জায়গায় প্যান্ডেল তৈরি করে যেসব পূজার আয়োজন করা হতো, সেগুলোর কয়েকটি এবার বন্ধ রয়েছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আয়োজকদের মানসিক অস্বস্তি এবং আর্থিক সমস্যাও পূজার সংখ্যা কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি মনে করেন।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা। সেনাবাহিনী, পুলিশ, জেলা প্রশাসন, বিজিবি ও আনসারসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পূজার প্রস্তুতি নিয়ে যোগাযোগ রাখছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও মণ্ডপের নিরাপত্তায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম নগরীতে এবার দুর্গাপূজার সংখ্যা কমেছে মাত্র একটি। গত বছর নগরীতে ২৯৩টি পূজার আয়োজন হয়েছিল, এবার হচ্ছে ২৯২টি। নগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল জানিয়েছেন, নিরাপত্তা জোরদারে মণ্ডপগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শৃঙ্খলা বজায় রেখে ধর্মীয় পরিবেশে পূজা উদযাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রম চট্টগ্রামের সম্পাদক স্বামী শক্তিনাথানন্দের মতে, প্রশাসন নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও সাধারণ ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ রয়ে গেছে। তাঁর বক্তব্য, ভক্তদের মনে ভয় ও সংশয় থাকলে উৎসবের আনন্দ ব্যাহত হতে পারে। তাই শুধু নিরাপত্তার আশ্বাস নয়, মানুষের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনাও জরুরি।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি এগিয়ে চলেছে সতর্কতার সঙ্গে। আয়োজকেরা নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল, রাতের পাহারা ও প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, সব উদ্বেগ কাটিয়ে এবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে শারদীয় দুর্গোৎসব।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন