ত্বকের যত্ন নিতে শুধু দামি পণ্য ব্যবহার করলেই হয় না, প্রতিদিনের খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে উৎসবের সময় দীর্ঘক্ষণ মেকআপ, ধুলাবালি ও মানসিক চাপের কারণে ত্বক ক্লান্ত ও নিষ্প্রাণ দেখাতে পারে। এ সময় ত্বকের স্বাভাবিক সতেজতা ধরে রাখতে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি এবং নিয়মিত ঘুম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিছু পুষ্টিকর খাবার ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতেও সাহায্য করতে পারে।
ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল বেশ উপকারী। কমলা, লেবু, আমলকি ও পেয়ারা শরীরকে ভিটামিন সি সরবরাহ করে। এই ভিটামিন কোলাজেন তৈরিতে ভূমিকা রাখে, যা ত্বকের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখতে প্রয়োজন। পাশাপাশি অ্যাভোকাডো, কাঠবাদাম ও আখরোটে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ফল ও পরিমিত বাদাম রাখা ভালো।
ত্বকের কোষের স্বাভাবিক গঠন ও মেরামতের জন্য প্রোটিনও প্রয়োজন। ডিম, ডাল, পনির ও দই থেকে প্রোটিন পাওয়া যায়। এ ছাড়া সামুদ্রিক চর্বিযুক্ত মাছ, চিয়া বীজ ও তিসি বীজে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। সুষম খাবারের অংশ হিসেবে এসব উপাদান গ্রহণ করলে শরীরের পাশাপাশি ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতেও সহায়তা মিলতে পারে।
পালং শাক, বিটরুট, কুমড়ার বীজ ও তিলের বীজেও রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। এসব খাবার থেকে আয়রন ও জিঙ্কসহ প্রয়োজনীয় খনিজ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ডালিম, বিভিন্ন বেরি, গ্রিন টি ও কোকোতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনো একটি খাবার খেলেই ত্বকের সব সমস্যা দূর হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। নিয়মিত সুষম খাবার খাওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ত্বকের যত্নে পর্যাপ্ত পানি পান করাও প্রয়োজন। শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে তার প্রভাব ত্বকের স্বাভাবিক অবস্থার ওপর পড়তে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত মিষ্টি ও অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকসের বদলে ফল, শাকসবজি ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া ভালো। পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত শরীরচর্চাও সামগ্রিক সুস্থতায় সাহায্য করে। মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম বা মেডিটেশনের মতো অভ্যাসও উপকারী হতে পারে।
উৎসবের আগে ত্বক ভালো রাখার আশায় নতুন কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা উচিত। অপরিচিত পণ্য থেকে কারও কারও ত্বকে জ্বালাপোড়া, অ্যালার্জি বা লালচে ভাব দেখা দিতে পারে। তাই আগে থেকে পরিচিত ও উপযোগী পণ্য ব্যবহার করা ভালো। মনে রাখতে হবে, স্বাস্থ্যকর খাবার ত্বকের সুস্থতায় সহায়ক হলেও এটি সানস্ক্রিন, উপযুক্ত ত্বকের যত্ন কিংবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিকল্প নয়। দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের সমস্যা দেখা দিলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন