লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে জিলাপি বিতরণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বিএনপি নেতা আলমগীর মোল্লার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার দুই দিন পর আলমগীর মোল্লা ও তাঁর পরিবারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। মামলা প্রত্যাহার ও হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার চর লরেঞ্চ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নবীগঞ্জ বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্ধশতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন। তাঁরা চাঁদাবাজির মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি আলমগীর মোল্লার ওপর হামলার অভিযোগ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয়দের দাবি, গত ২ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে নবীগঞ্জ বাজারে জিলাপি বিতরণকে কেন্দ্র করে আলমগীর মোল্লার সঙ্গে নুর মোহাম্মদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নুর মোহাম্মদ, তাঁর ছেলে মো. শাহাদাত হোসেন, মো. ফয়সাল ও আরাফাত হোসেনসহ কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে আলমগীর মোল্লা রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ঘটনার দুই দিন পর, ৪ অক্টোবর লক্ষ্মীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী শাহাদাত হোসেন।
মামলায় আলমগীর মোল্লার পাশাপাশি তাঁর ছেলে মো. নোমান ও মেয়ের জামাতা মো. ওসমানকেও আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় আহত হওয়ার পর আলমগীর মোল্লা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টি উদ্বেগজনক। তাই মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জিলাপি বিতরণকে কেন্দ্র করে বিরোধের ঘটনায় হামলার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির মামলারও সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে, যাতে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসে। নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, বিএনপি নেতা আলমগীর মোল্লার ওপর হামলার অভিযোগ তদন্ত করে নুর মোহাম্মদ, শাহাদাত হোসেন, ফয়সাল হোসেন ও আরাফাত হোসেনসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এ সময় বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন, ছাত্রনেতা সজীবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী শাহাদাত হোসেনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ফলে হামলার অভিযোগ ও মামলা নিয়ে তাঁর পক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন