ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

অস্ট্রেলিয়ার মাঠে সাড়ে ৭ বছরে সেরা বাংলাদেশ, নতুন রেকর্ড

বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়ার মাঠে প্রায় সাড়ে ৭ বছর পর সফরকারী দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি ওভার ব্যাটিং করার কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করতে ১৩৮ ওভার খেলেছে টাইগাররা।
২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ভারতের ১৬৭.২ ওভারের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বিদেশি দল এত লম্বা সময় ব্যাট করতে পারেনি। এবার প্রায় ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েই সেই তালিকায় নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সর্বশেষ প্রায় ৯১ মাস ও ৭২ ইনিংসে কোনো সফরকারী দল ১৩৫ ওভারও পার করতে পারেনি। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, ভারত, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলগুলো খেললেও এমন কীর্তি গড়তে পারেনি।
বাংলাদেশের দীর্ঘ ইনিংসের মূল কারিগর বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিতে ১৯৭ বল খেলেছেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১০১ রানের দারুণ এক ইনিংস।

তানজিদের পাশাপাশি ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ১২৬ বলে ৮৪ রান করে দলের বড় সংগ্রহ গড়ার ভিত শক্ত করেছেন তিনি।
সহ-অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও দেখিয়েছেন দায়িত্বশীল ব্যাটিং। ১৫৪ বল মোকাবিলা করে ৬৫ রান করেছেন তিনি। তাঁর ইনিংসটি বাংলাদেশের সংগ্রহকে আরও বড় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ফিফটির খুব কাছে গিয়েও মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি মুমিনুল হক। ৯৫ বলে ৪৯ রান করে তিনি দলের ইনিংসে কার্যকর অবদান রেখেছেন। মাঝের সারিতে তাঁর এই ইনিংস বাংলাদেশকে চাপ সামলাতে সহায়তা করেছে।
সবচেয়ে বড় চমক এসেছে আট নম্বরে নামা হাসান মাহমুদের ব্যাটে। ৯২ বল খেলে ১৪ রান করেছেন তিনি। শেষ দিকে তাইজুল ইসলাম ২৩ বলে ১৭ এবং তাসকিন আহমেদ ৩২ বলে ১৪ রান করে দলের সংগ্রহ বাড়িয়েছেন।

এর আগে বাংলাদেশের বোলারদের দাপটে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছিল মাত্র ১৯৮ রানে। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের বিশাল লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।
অর্থাৎ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে অন্তত ২২৮ রান পেরিয়ে বাংলাদেশকে লক্ষ্য দিতে হবে। এই অবস্থায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই বাংলাদেশের হাতে রয়েছে।
দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করার কীর্তির দিনে অবশ্য সামান্য আক্ষেপও রয়েছে বাংলাদেশের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোরের রেকর্ড ভাঙার খুব কাছাকাছি গিয়েও সেটি পারেনি তারা।
২০০৬ সালের ফতুল্লা টেস্টে শাহরিয়ার নাফীসের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪২৭ রান করেছিল বাংলাদেশ। এবার ৪২৬ রানে থেমে যাওয়ায় মাত্র এক রানের জন্য সেই রেকর্ড ছোঁয়া হয়নি।

তবে ব্যক্তিগত ও দলীয় পারফরম্যান্স মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এই ইনিংস নিঃসন্দেহে বিশেষ হয়ে থাকল। দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে ব্যাটাররা যেমন প্রতিরোধ দেখিয়েছেন, তেমনি বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে এসেছে বড় লিড।
বিশেষ করে তানজিদ হাসান তামিমের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি এবং শান্ত ও মিরাজের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস বাংলাদেশের ব্যাটিংকে দিয়েছে বাড়তি শক্তি। অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন কন্ডিশনে এমন পারফরম্যান্স বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসও বাড়াবে।
সাড়ে ৭ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে কোনো সফরকারী দলের সবচেয়ে বেশি ওভার খেলার এই রেকর্ড তাই বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন। পাশাপাশি মাত্র এক রানের জন্য নিজেদের সর্বোচ্চ স্কোরের রেকর্ড না ভাঙার আক্ষেপও থাকল।
এখন দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ। বড় লিডের সুবিধা কাজে লাগিয়ে স্বাগতিকদের দ্রুত চাপে ফেলতে পারলে ম্যাচে আরও শক্ত অবস্থানে চলে যেতে পারে টাইগাররা।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবার শোকে মেসি, বিশেষ অনুরোধ মায়ামি কোচের

অস্ট্রেলিয়ার মাঠে সাড়ে ৭ বছরে সেরা বাংলাদেশ, নতুন রেকর্ড

Update Time : ০১:৫০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার মাঠে প্রায় সাড়ে ৭ বছর পর সফরকারী দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি ওভার ব্যাটিং করার কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করতে ১৩৮ ওভার খেলেছে টাইগাররা।
২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ভারতের ১৬৭.২ ওভারের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো বিদেশি দল এত লম্বা সময় ব্যাট করতে পারেনি। এবার প্রায় ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েই সেই তালিকায় নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সর্বশেষ প্রায় ৯১ মাস ও ৭২ ইনিংসে কোনো সফরকারী দল ১৩৫ ওভারও পার করতে পারেনি। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, ভারত, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলগুলো খেললেও এমন কীর্তি গড়তে পারেনি।
বাংলাদেশের দীর্ঘ ইনিংসের মূল কারিগর বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিতে ১৯৭ বল খেলেছেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১০১ রানের দারুণ এক ইনিংস।

আরও পড়ুন  হাইতির বিপক্ষে ৪-২ গোলের দুর্দান্ত জয়ে উজ্জ্বল মরক্কো

তানজিদের পাশাপাশি ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ১২৬ বলে ৮৪ রান করে দলের বড় সংগ্রহ গড়ার ভিত শক্ত করেছেন তিনি।
সহ-অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও দেখিয়েছেন দায়িত্বশীল ব্যাটিং। ১৫৪ বল মোকাবিলা করে ৬৫ রান করেছেন তিনি। তাঁর ইনিংসটি বাংলাদেশের সংগ্রহকে আরও বড় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ফিফটির খুব কাছে গিয়েও মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি মুমিনুল হক। ৯৫ বলে ৪৯ রান করে তিনি দলের ইনিংসে কার্যকর অবদান রেখেছেন। মাঝের সারিতে তাঁর এই ইনিংস বাংলাদেশকে চাপ সামলাতে সহায়তা করেছে।
সবচেয়ে বড় চমক এসেছে আট নম্বরে নামা হাসান মাহমুদের ব্যাটে। ৯২ বল খেলে ১৪ রান করেছেন তিনি। শেষ দিকে তাইজুল ইসলাম ২৩ বলে ১৭ এবং তাসকিন আহমেদ ৩২ বলে ১৪ রান করে দলের সংগ্রহ বাড়িয়েছেন।

আরও পড়ুন  মেসিকে কি লাল কার্ড দেওয়া উচিত ছিল? বিশ্বকাপে নতুন বিতর্ক

এর আগে বাংলাদেশের বোলারদের দাপটে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছিল মাত্র ১৯৮ রানে। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের বিশাল লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।
অর্থাৎ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে অন্তত ২২৮ রান পেরিয়ে বাংলাদেশকে লক্ষ্য দিতে হবে। এই অবস্থায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই বাংলাদেশের হাতে রয়েছে।
দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করার কীর্তির দিনে অবশ্য সামান্য আক্ষেপও রয়েছে বাংলাদেশের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোরের রেকর্ড ভাঙার খুব কাছাকাছি গিয়েও সেটি পারেনি তারা।
২০০৬ সালের ফতুল্লা টেস্টে শাহরিয়ার নাফীসের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪২৭ রান করেছিল বাংলাদেশ। এবার ৪২৬ রানে থেমে যাওয়ায় মাত্র এক রানের জন্য সেই রেকর্ড ছোঁয়া হয়নি।

তবে ব্যক্তিগত ও দলীয় পারফরম্যান্স মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এই ইনিংস নিঃসন্দেহে বিশেষ হয়ে থাকল। দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে ব্যাটাররা যেমন প্রতিরোধ দেখিয়েছেন, তেমনি বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে এসেছে বড় লিড।
বিশেষ করে তানজিদ হাসান তামিমের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি এবং শান্ত ও মিরাজের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস বাংলাদেশের ব্যাটিংকে দিয়েছে বাড়তি শক্তি। অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন কন্ডিশনে এমন পারফরম্যান্স বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসও বাড়াবে।
সাড়ে ৭ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে কোনো সফরকারী দলের সবচেয়ে বেশি ওভার খেলার এই রেকর্ড তাই বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন। পাশাপাশি মাত্র এক রানের জন্য নিজেদের সর্বোচ্চ স্কোরের রেকর্ড না ভাঙার আক্ষেপও থাকল।
এখন দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ। বড় লিডের সুবিধা কাজে লাগিয়ে স্বাগতিকদের দ্রুত চাপে ফেলতে পারলে ম্যাচে আরও শক্ত অবস্থানে চলে যেতে পারে টাইগাররা।

আরও পড়ুন  প্রথম ম্যাচে ড্র, তবু বিশ্বকাপ জিতেছিল যারা—স্বস্তি পাবে ব্রাজিল