সকালের শুরুতে অনেকেই ঘুমের ঘোর কাটাতে কফি পান করেন, আবার কেউ বেছে নেন এক গ্লাস কমলার জুস। দুটি পানীয়ই জনপ্রিয়, তবে খালি পেটে পান করলে শরীরে কেমন প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। কফির ক্যাফেইন কারও অস্থিরতা ও বুক ধড়ফড়ের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, কমলার জুসে থাকা প্রাকৃতিক চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে। তবে এই প্রতিক্রিয়া সবার ক্ষেত্রে এক নয়।

কফির ক্যাফেইন মস্তিষ্ককে সজাগ রাখতে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল ব্যক্তিরা সকালে খালি পেটে কফি পান করলে অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। বিশেষ করে যাঁদের ঘুম কম হয় কিংবা আগে থেকেই উদ্বেগের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে হাত কাঁপা, অস্থিরতা ও হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এমন হলে কফির পরিমাণ কমানো বা খাবারের সঙ্গে পান করা উপকারী হতে পারে।

যাঁদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্যও কফি অস্বস্তির কারণ হতে পারে। কফি পাকস্থলীর অম্লতা ও রিফ্লাক্সের উপসর্গকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে খালি পেটে কফি পান করলেই পাকস্থলীতে আলসার হয়, এমন ধারণা সঠিক নয়। তাই সবার জন্য কফি এড়িয়ে চলার প্রয়োজন নেই; বরং নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী অভ্যাস নির্ধারণ করা ভালো।

কমলার জুসের ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু বিষয় বিবেচনার। কমলায় ভিটামিন সি ও বিভিন্ন উপকারী পুষ্টি উপাদান থাকলেও জুসে ফলের তুলনায় কম ফাইবার পাওয়া যায়। ফলে দ্রুত পান করা এক গ্লাস জুস থেকে শর্করা শরীরে তুলনামূলক দ্রুত প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে জুসের পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। এ ছাড়া কমলার অম্লীয় উপাদান কারও কারও বুকজ্বালা বাড়াতে পারে।

তাহলে সকালে কোনটি বেছে নেওয়া ভালো? কফি পান করলে সঙ্গে ডিম, ওটস, আটার রুটি বা বাদামের মতো খাবার রাখতে পারেন। কমলার জুসের পরিবর্তে গোটা কমলা খাওয়া ভালো বিকল্প হতে পারে, কারণ এতে ফাইবার বেশি থাকে এবং চিবিয়ে খাওয়ার কারণে তৃপ্তিও তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। জুস পান করতে চাইলে পরিমাণ সীমিত রাখুন এবং সকালের খাবারের সঙ্গে পান করার চেষ্টা করুন। তবে খাবারের সঙ্গে পান করলেই রক্তে শর্করা বাড়বে না, এমন নিশ্চয়তা নেই।

সবশেষে, সকালে কফি নাকি কমলার জুস—কোনটি ভালো, তার নির্দিষ্ট উত্তর নেই। যাঁদের ক্যাফেইনে অস্বস্তি হয়, তাঁরা কফি কমাতে পারেন। আবার যাঁদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জুসের পরিবর্তে গোটা ফল বেছে নেওয়া বেশি উপযোগী হতে পারে। নিজের স্বাস্থ্যগত অবস্থা, পানীয়ের পরিমাণ ও শরীরের প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।