রান্নার স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে আদার ব্যবহার বহু পুরোনো। তবে আদার উপকারিতা শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে থাকা জিঞ্জেরলসহ বিভিন্ন সক্রিয় উপাদানের প্রদাহরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু স্বাস্থ্যসমস্যার উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে আদা সহায়ক হতে পারে।
কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আদার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় আদা গ্রহণের সঙ্গে মোট কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড ও রক্তচাপ কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এসব সমস্যার চিকিৎসায় শুধু আদার ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন চালিয়ে যেতে হবে।
হজমের সমস্যা, বমিভাব ও পেট ফাঁপা কমাতেও আদা উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় বমিভাব কমাতে আদা নিয়ে গবেষণা রয়েছে। পাশাপাশি মাইগ্রেনের ব্যথা এবং অস্টিওআর্থ্রাইটিসের কারণে হওয়া অস্বস্তি কমাতে আদার সম্ভাব্য কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে সবার ক্ষেত্রে এর ফল একরকম নাও হতে পারে।
নারীদের মাসিকের ব্যথা কমাতেও আদা কিছুটা সহায়তা করতে পারে। এর সক্রিয় উপাদানগুলো প্রদাহ ও ব্যথা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে শর্করা ও দীর্ঘমেয়াদি গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের সূচক HbA1c কমাতে আদার সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে ডায়াবেটিসের ওষুধের বিকল্প হিসেবে আদা ব্যবহার করা উচিত নয়।
দাঁত বা মাড়ির অস্ত্রোপচারের পর ব্যথা, কাশি-সর্দির অস্বস্তি এবং মৌসুমি অ্যালার্জির উপসর্গ নিয়ন্ত্রণেও আদার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে গবেষণা রয়েছে। আদা দিয়ে তৈরি উষ্ণ পানীয় গলাব্যথায় সাময়িক আরাম দিতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রে আদার কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য গবেষণা প্রয়োজন। উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সাধারণত পরিমিত পরিমাণে আদা খাওয়া নিরাপদ হলেও অতিরিক্ত গ্রহণে বুকজ্বালা, পেটের অস্বস্তি বা ডায়রিয়া হতে পারে। রক্ত পাতলা করার ওষুধ কিংবা ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবন করলে নিয়মিত বেশি পরিমাণ আদা বা আদার সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখতে হবে, আদার উপকারিতা পাওয়া সম্ভব হলেও এটি কোনো রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা নয়।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন