পাকিস্তান ১১০ রানে অলআউট হয়ে লর্ডস টেস্টে বড় বিপদে পড়েছে। ইংল্যান্ডের ২৯০ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে কোনোভাবেই নিজেদের ইনিংস লম্বা করতে পারেনি পাকিস্তান। ওলে রবিনসন, জোফরা আর্চার ও জশ টাংয়ের গতিময় বোলিংয়ের সামনে একের পর এক উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১০ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস। ফলে প্রথম ইনিংস শেষে ইংল্যান্ড পেয়েছে ১৮০ রানের বিশাল লিড।
দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই ইংল্যান্ডের ইনিংস গুটিয়ে যায় ২৯০ রানে। এরপর পাকিস্তানের ব্যাটারদের সামনে ছিল রান করার ভালো সুযোগ। কিন্তু মাঠে নামার পর থেকেই সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তারা। ইংলিশ পেসাররা নতুন বল হাতে শুরু থেকেই যে চাপ তৈরি করেন, তা শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের পুরো ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দেয়।
পাকিস্তানের হয়ে লড়াইয়ের চেষ্টা করেন আজান এওয়াইস। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন তিনি। তাঁর ব্যাটেই পাকিস্তানের স্কোর কিছুটা সম্মানজনক পর্যায়ে পৌঁছায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬ রান আসে সৌধ শাকিলের ব্যাট থেকে। তবে এরপর আর কেউ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি।
পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় কারণ ছিল ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণ। ওলে রবিনসন একাই তুলে নেন চার উইকেট। তাঁর বোলিংয়ের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক ছিল রান খরচের হিসাব। ১৩ ওভার বল করে মাত্র ১১ রান দিয়েছেন তিনি এবং এর মধ্যে ছিল ছয়টি মেডেন ওভার।
রবিনসনের সঙ্গে পাকিস্তানের ব্যাটারদের ওপর চাপ বাড়ান জোফরা আর্চার। গতির সঙ্গে নিখুঁত লাইন-লেন্থ মিলিয়ে তিনটি উইকেট শিকার করেন ইংল্যান্ডের এই পেসার। ১৩ ওভারে মাত্র ২৬ রান খরচ করে আর্চার বুঝিয়ে দেন কেন তাঁকে ইংল্যান্ডের অন্যতম ভয়ংকর পেস অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এদিকে জশ টাংও নিজের কাজটি করেছেন কার্যকরভাবে। তিনি তুলে নেন দুটি উইকেট। তিন ইংলিশ পেসার মিলে পাকিস্তানের ১০টি উইকেট ভাগ করে নেওয়ায় স্পিনারদের কোনো সহায়তার প্রয়োজনই পড়েনি। পুরো ইনিংসজুড়ে ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণই ছিল ম্যাচের মূল আলোচনার বিষয়।
পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের চিত্রটা আরও হতাশাজনক হয়ে ওঠে যখন দেখা যায়, আজান এওয়াইস ও সৌধ শাকিল ছাড়া দলের আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের রানও করতে পারেননি। অর্থাৎ ১১ জনের ব্যাটিং লাইনআপে মাত্র দুজন কিছুটা লড়াই করতে পেরেছেন। বাকিরা ইংলিশ বোলারদের সামনে কার্যত অসহায় ছিলেন।
লর্ডসের কন্ডিশনও ইংলিশ পেসারদের জন্য সহায়ক ছিল। বলের সুইং ও সিম মুভমেন্ট কাজে লাগিয়ে তারা পাকিস্তানের ব্যাটারদের নিয়মিত পরীক্ষা নিয়েছেন। শুরুতে উইকেট হারানোর পর পাকিস্তানের ব্যাটারদের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়। সেই চাপ থেকে বের হওয়ার কোনো পথই খুঁজে পায়নি সফরকারীরা।
মাত্র ১১০ রানে অলআউট হওয়ায় ইংল্যান্ডের সঙ্গে পাকিস্তানের ব্যবধান দাঁড়ায় ১৮০ রান। টেস্ট ম্যাচের এই পর্যায়ে এমন বড় লিড স্বাগতিকদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় সুবিধা। প্রথম ইনিংসে নিজেদের বোলারদের দারুণ পারফরম্যান্সের পর এখন ব্যাটিংয়ে সেই সুবিধা কাজে লাগানোর সুযোগ পেয়েছে ইংল্যান্ড।
পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের ব্যাটিং। ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী পেস আক্রমণের বিপক্ষে টিকে থাকতে হলে টপ অর্ডারকে আরও দৃঢ় হতে হতো। কিন্তু শুরু থেকেই উইকেট হারানোর কারণে ইনিংসের কোনো পর্যায়েই বড় জুটি গড়ে ওঠেনি।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের বোলিং ইউনিট এই ইনিংস থেকে আত্মবিশ্বাস পাবে। রবিনসনের নিয়ন্ত্রিত স্পেল, আর্চারের গতি এবং টাংয়ের কার্যকর বোলিং পাকিস্তানকে পুরোপুরি চাপে রেখেছে। তিন পেসারের সম্মিলিত পারফরম্যান্সেই মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে গেছে সফরকারীদের ইনিংস।
এখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ইংল্যান্ডের হাতে। প্রথম ইনিংসে ১৮০ রানের লিড পাওয়ার পর তারা ব্যাট হাতে কতটা বড় ব্যবধান তৈরি করতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়। পাকিস্তানের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ অবশ্য রয়েছে, তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে পরের ইনিংসে ব্যাটিংয়ে বড় পরিবর্তন আনতে হবে।
লর্ডস টেস্টের শুরু থেকেই দুই দলের লড়াইয়ে বোলারদের প্রভাব স্পষ্ট। তবে পাকিস্তানের ১১০ রানে অলআউট হওয়ার পর ইংল্যান্ড আপাতত অনেকটাই এগিয়ে। রবিনসন-আর্চারদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে যে বার্তা পাওয়া গেল, তাতে ম্যাচের পরবর্তী অংশে পাকিস্তানের জন্য আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন