ঢাকা ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চন্দনাইশে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বৈলতলী’ ক্যাম্পেইন উদ্বোধন Logo চন্দনাইশে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস রওশনহাট’ ক্যাম্পেইন উদ্বোধন Logo বাংলাদেশের এলএনজি বাজারে এবার রাশিয়ার আগ্রহ, সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-চীন Logo তিন মাসেও বোর্ড নেই, কমছে আমানত, ইসলামী ব্যাংকের সামনে বড় সংকট Logo জবিতে সংঘর্ষ ও রিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ ছাত্র ফ্রন্টের Logo ট্রাম্প-শির বৈঠকে বাণিজ্য, এআই ও বিরল খনিজ নিয়ে আলোচনা Logo ঢাবিতে অপ্রতিম-আজমুল হত্যার বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল Logo চন্দনাইশে বসতভিটার বিরোধ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ Logo চন্দনাইশে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ মাদকসেবী গ্রেপ্তার, মোবাইল কোর্টে কারাদণ্ড Logo ওয়ান হেলথ: পরিবেশ-জনস্বাস্থ্য সমন্বয়ে মন্ত্রীর বার্তা

আশুরার ইতিহাস জানুন

চাঁদ দেখার পর নির্ধারিত হবে আশুরার তারিখ। ছবি: সংগৃহীত

আশুরা কবে ২০২৬

আশুরা কবে ২০২৬—এই প্রশ্নের উত্তর জানতে বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। ইসলামী হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখে পালিত হয় পবিত্র আশুরা। ধর্মীয় গুরুত্ব, ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং ইবাদতের বিশেষ ফজিলতের কারণে দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তবে ইসলামী মাস চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় প্রতি বছর আশুরার সঠিক তারিখ নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা করতে হয় চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।

আজ বিভিন্ন দেশের চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠকে বসতে পারে বলে জানা গেছে। এসব বৈঠকের মাধ্যমে মহররম মাসের চাঁদ দেখা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হবে এবং তার ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হবে মহররম মাসের প্রথম দিন। এরপর হিসাব অনুযায়ী জানা যাবে পবিত্র আশুরা কবে ২০২৬ সালে পালিত হবে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইতোমধ্যে এ দিনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

ইসলামিক ক্যালেন্ডার বা হিজরি সন সম্পূর্ণভাবে চন্দ্র মাসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ইংরেজি ক্যালেন্ডারের সঙ্গে এর তারিখ প্রতিবছর পরিবর্তিত হয়। মহররম মাস শুরু হওয়ার পর দশম দিনেই আসে আশুরা। তাই মহররমের চাঁদ দেখা না গেলে বা একদিন দেরিতে দেখা গেলে আশুরার তারিখও পরিবর্তিত হতে পারে। এই কারণেই মুসলিম বিশ্বে চাঁদ দেখার ঘোষণার গুরুত্ব অনেক বেশি।

পবিত্র আশুরার দিনটি ইসলামের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, এই দিনে রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আশুরার দিনে রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদেরও এ রোজা পালনের উৎসাহ দিতেন। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, আশুরার রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফের কারণ হতে পারে, যদি আল্লাহ তায়ালা তা কবুল করেন।

আশুরা শুধু রোজার দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মুসলিম ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মৃতিবাহী একটি দিন। বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে, এই দিনে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর অনেক নবীকে বিশেষভাবে সাহায্য করেছিলেন। হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তির ঘটনাও আশুরার দিনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে বর্ণিত হয়েছে।

এছাড়া কারবালার মর্মান্তিক ঘটনাও আশুরাকে মুসলিম ইতিহাসে গভীর আবেগ ও শোকের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। হিজরি ৬১ সালে মহানবী (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীরা কারবালার প্রান্তরে শাহাদাত বরণ করেন। এই ঘটনা মুসলিম বিশ্বে আজও গভীর শ্রদ্ধা ও বেদনার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আশুরা পালনের ধরনে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। কোথাও রোজা, দোয়া ও কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে দিনটি পালন করা হয়। আবার কোথাও কারবালার শহীদদের স্মরণে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। তবে সবক্ষেত্রেই দিনটির মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ, ধৈর্য, সত্যের পথে অবিচল থাকা এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, আশুরার দিন শুধু ইবাদত নয়, আত্মশুদ্ধিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ দিনে বেশি বেশি তওবা, ইস্তিগফার, নফল নামাজ, দান-সদকা এবং কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা উচিত। অনেক মুসলমান এই দিনকে কেন্দ্র করে বিশেষ দোয়া ও ইবাদতের আয়োজন করে থাকেন।

আশুরা কবে ২০২৬ তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চাঁদ দেখা। সাধারণত সৌদি আরব, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে আলাদা আলাদা চাঁদ দেখা কমিটি রয়েছে। তারা স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার তথ্য যাচাই করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। ফলে কোনো কোনো দেশে আশুরা একদিন আগে বা পরে পালিত হতে পারে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মহররম মাস জুলাইয়ের শেষভাগে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসেবে আশুরা জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ অথবা আগস্টের প্রথম দিকে পালিত হতে পারে। তবে এটি কেবল সম্ভাব্য হিসাব। চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করবে চাঁদ দেখার সরকারি ঘোষণার ওপর।

বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত। প্রতি বছর এসব প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে মহররম মাসের শুরু এবং আশুরার তারিখ ঘোষণা করে। ফলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সরকারি ঘোষণার অপেক্ষায় থাকেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আশুরা কবে ২০২৬ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকে সম্ভাব্য তারিখ জানতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন, আবার অনেকে আশুরার ধর্মীয় গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে তথ্য খুঁজছেন। ইসলামিক স্কলাররাও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আশুরার তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আশুরার মূল বার্তা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকা। কারবালার ঘটনা থেকে মুসলমানরা আত্মত্যাগ, ধৈর্য এবং আদর্শিক দৃঢ়তার শিক্ষা গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে আশুরার রোজা ও ইবাদতের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির সুযোগও লাভ করেন।

পবিত্র আশুরা মুসলিম উম্মাহর জন্য কেবল একটি ঐতিহাসিক দিন নয়; এটি ঈমান, ত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। প্রতি বছর দিনটি মুসলমানদের হৃদয়ে নতুন করে ধর্মীয় অনুভূতি জাগিয়ে তোলে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অনুপ্রেরণা দেয়।

তাই আশুরা কবে ২০২৬ তা জানার জন্য আজকের চাঁদ দেখার ঘোষণার দিকে সবার নজর রয়েছে। আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হলে মহররম মাসের সূচনা এবং পবিত্র আশুরার নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিতভাবে জানা যাবে। মুসলিম বিশ্ব অধীর আগ্রহে সেই ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বৈলতলী’ ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

আশুরার ইতিহাস জানুন

Update Time : ০৭:৫০:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

আশুরা কবে ২০২৬

আশুরা কবে ২০২৬—এই প্রশ্নের উত্তর জানতে বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। ইসলামী হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখে পালিত হয় পবিত্র আশুরা। ধর্মীয় গুরুত্ব, ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং ইবাদতের বিশেষ ফজিলতের কারণে দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। তবে ইসলামী মাস চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় প্রতি বছর আশুরার সঠিক তারিখ নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা করতে হয় চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।

আজ বিভিন্ন দেশের চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠকে বসতে পারে বলে জানা গেছে। এসব বৈঠকের মাধ্যমে মহররম মাসের চাঁদ দেখা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হবে এবং তার ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হবে মহররম মাসের প্রথম দিন। এরপর হিসাব অনুযায়ী জানা যাবে পবিত্র আশুরা কবে ২০২৬ সালে পালিত হবে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইতোমধ্যে এ দিনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

ইসলামিক ক্যালেন্ডার বা হিজরি সন সম্পূর্ণভাবে চন্দ্র মাসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ইংরেজি ক্যালেন্ডারের সঙ্গে এর তারিখ প্রতিবছর পরিবর্তিত হয়। মহররম মাস শুরু হওয়ার পর দশম দিনেই আসে আশুরা। তাই মহররমের চাঁদ দেখা না গেলে বা একদিন দেরিতে দেখা গেলে আশুরার তারিখও পরিবর্তিত হতে পারে। এই কারণেই মুসলিম বিশ্বে চাঁদ দেখার ঘোষণার গুরুত্ব অনেক বেশি।

আরও পড়ুন  ৫টি অজানা তথ্যে আর্জেন্টিনার ইসলাম নিয়ে ঐতিহাসিক এক অনন্য বিবরণী

পবিত্র আশুরার দিনটি ইসলামের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, এই দিনে রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আশুরার দিনে রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদেরও এ রোজা পালনের উৎসাহ দিতেন। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, আশুরার রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফের কারণ হতে পারে, যদি আল্লাহ তায়ালা তা কবুল করেন।

আশুরা শুধু রোজার দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মুসলিম ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মৃতিবাহী একটি দিন। বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে, এই দিনে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর অনেক নবীকে বিশেষভাবে সাহায্য করেছিলেন। হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তির ঘটনাও আশুরার দিনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে বর্ণিত হয়েছে।

এছাড়া কারবালার মর্মান্তিক ঘটনাও আশুরাকে মুসলিম ইতিহাসে গভীর আবেগ ও শোকের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। হিজরি ৬১ সালে মহানবী (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীরা কারবালার প্রান্তরে শাহাদাত বরণ করেন। এই ঘটনা মুসলিম বিশ্বে আজও গভীর শ্রদ্ধা ও বেদনার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আশুরা পালনের ধরনে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। কোথাও রোজা, দোয়া ও কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে দিনটি পালন করা হয়। আবার কোথাও কারবালার শহীদদের স্মরণে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। তবে সবক্ষেত্রেই দিনটির মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ, ধৈর্য, সত্যের পথে অবিচল থাকা এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা।

আরও পড়ুন  আল্লাহর নৈকট্য পেতে ৫ শক্তিশালী আমল

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, আশুরার দিন শুধু ইবাদত নয়, আত্মশুদ্ধিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ দিনে বেশি বেশি তওবা, ইস্তিগফার, নফল নামাজ, দান-সদকা এবং কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা উচিত। অনেক মুসলমান এই দিনকে কেন্দ্র করে বিশেষ দোয়া ও ইবাদতের আয়োজন করে থাকেন।

আশুরা কবে ২০২৬ তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চাঁদ দেখা। সাধারণত সৌদি আরব, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে আলাদা আলাদা চাঁদ দেখা কমিটি রয়েছে। তারা স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার তথ্য যাচাই করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। ফলে কোনো কোনো দেশে আশুরা একদিন আগে বা পরে পালিত হতে পারে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মহররম মাস জুলাইয়ের শেষভাগে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসেবে আশুরা জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ অথবা আগস্টের প্রথম দিকে পালিত হতে পারে। তবে এটি কেবল সম্ভাব্য হিসাব। চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করবে চাঁদ দেখার সরকারি ঘোষণার ওপর।

বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত। প্রতি বছর এসব প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে মহররম মাসের শুরু এবং আশুরার তারিখ ঘোষণা করে। ফলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সরকারি ঘোষণার অপেক্ষায় থাকেন।

আরও পড়ুন  যে চারটি গুণ পরিবারে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বয়ে আনে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আশুরা কবে ২০২৬ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকে সম্ভাব্য তারিখ জানতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন, আবার অনেকে আশুরার ধর্মীয় গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে তথ্য খুঁজছেন। ইসলামিক স্কলাররাও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আশুরার তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আশুরার মূল বার্তা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকা। কারবালার ঘটনা থেকে মুসলমানরা আত্মত্যাগ, ধৈর্য এবং আদর্শিক দৃঢ়তার শিক্ষা গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে আশুরার রোজা ও ইবাদতের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির সুযোগও লাভ করেন।

পবিত্র আশুরা মুসলিম উম্মাহর জন্য কেবল একটি ঐতিহাসিক দিন নয়; এটি ঈমান, ত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। প্রতি বছর দিনটি মুসলমানদের হৃদয়ে নতুন করে ধর্মীয় অনুভূতি জাগিয়ে তোলে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অনুপ্রেরণা দেয়।

তাই আশুরা কবে ২০২৬ তা জানার জন্য আজকের চাঁদ দেখার ঘোষণার দিকে সবার নজর রয়েছে। আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হলে মহররম মাসের সূচনা এবং পবিত্র আশুরার নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিতভাবে জানা যাবে। মুসলিম বিশ্ব অধীর আগ্রহে সেই ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে।