ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo দুর্নীতি প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে সরকার কঠোর : তথ্য প্রতিমন্ত্রী Logo হারমোনি ফেস্টিভ্যাল শ্রীমঙ্গল ২০২৬: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি হবে পর্যটন সম্পদ Logo ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন নিয়ে জেলা প্রশাসকের অবিশ্বাস্য ঘোষণা এবং গণশুনানির সিদ্ধান্ত Logo ৪৫ দিন কলা খেলে কী ঘটে শরীরে? Logo দিনাজপুরে এক বছর পর ৯০ বছরের বৃদ্ধ বাবাকে ফিরে পেলেন ছেলে Logo সাংবাদিক গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের দুঃখ প্রকাশ Logo শনিবার দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় Logo পিরোজপুরে বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের Logo আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশজুড়ে পুলিশের সতর্কতা Logo ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা এখন আরও খারাপ : বারাক ওবামা

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা এখন আরও খারাপ : বারাক ওবামা

ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র আরও খারাপ অবস্থায় : ওবামা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Barack Obama বলেছেন, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়ে আরও খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। তাঁর মতে, যুদ্ধের মানবিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক মূল্য এত বেশি হয়েছে যে এর সুফলের চেয়ে ক্ষতিই বেশি দৃশ্যমান। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যুদ্ধ শেষ হলেও এর প্রভাব বহু বছর ধরে দেশটিকে বহন করতে হবে।

ওবামা বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে যে সমস্যাগুলো সমাধানের কথা বলা হয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলোই এখনো রয়ে গেছে। বরং নতুন করে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক বিভাজন আরও তীব্র হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “যুদ্ধের আগে যে অবস্থায় ছিলাম, এখন আমরা তার চেয়েও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।”

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় ১৫ সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত সম্প্রতি একটি যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে থেমেছে। তবে এই সংঘাতের ফলে উভয় দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং তার কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ওবামা তাঁর বক্তব্যে ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সেই চুক্তি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে চুক্তি থেকে সরে আসার ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে এবং অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়। তাঁর দাবি, কূটনৈতিক সমাধানের পথ ত্যাগ করেই বর্তমান সংকটের ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সামরিক শক্তি সব সময় দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এনে দিতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে আলোচনা, সমঝোতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাই স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করে। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব রাজনীতিতে বলপ্রয়োগের পরিবর্তে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। যুদ্ধ চলাকালে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম বেড়ে যায় এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়। যুদ্ধবিরতির পর বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হলেও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও এই যুদ্ধ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ করছে, যুদ্ধের লক্ষ্য ও ফলাফল সম্পর্কে জনগণকে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়নি। অনেকেই মনে করছেন, বিপুল ব্যয় সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সাফল্য অর্জিত হয়নি।

ওবামা বলেন, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে সাধারণ মানুষের। হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়েছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়েছে। তাঁর মতে, কোনো সামরিক অভিযানের মূল্যায়ন শুধু কৌশলগত অর্জনের ভিত্তিতে নয়, মানবিক দিক বিবেচনা করেও করা প্রয়োজন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করা দরকার। যুদ্ধ শুরু করা সহজ হলেও তার পরিণতি নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কঠিন।

বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন স্থিতিশীলতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই দাবির সঙ্গে সবাই একমত নন। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, মূল সমস্যাগুলোর সমাধান এখনো হয়নি এবং ভবিষ্যতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট Donald Trump যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি ও প্রভাবের কোনো সীমা নেই এবং এই সংঘাত দেশটির নেতৃত্বের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। তবে ওবামা মনে করেন, বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল এবং যুদ্ধের প্রকৃত মূল্য সময়ের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওবামার এই মন্তব্য শুধু একটি যুদ্ধের সমালোচনা নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে একটি সতর্কবার্তা। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে, কূটনৈতিক উদ্যোগকে দুর্বল করে সামরিক সমাধানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।

সব মিলিয়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ হওয়ার পরও বিতর্ক থামেনি। যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী কে, কতটা অর্জন হয়েছে এবং কতটা ক্ষতি হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে বারাক ওবামার বক্তব্য নতুন করে সেই বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে তা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্নীতি প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে সরকার কঠোর : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা এখন আরও খারাপ : বারাক ওবামা

Update Time : ১১:২৪:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Barack Obama বলেছেন, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়ে আরও খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। তাঁর মতে, যুদ্ধের মানবিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক মূল্য এত বেশি হয়েছে যে এর সুফলের চেয়ে ক্ষতিই বেশি দৃশ্যমান। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যুদ্ধ শেষ হলেও এর প্রভাব বহু বছর ধরে দেশটিকে বহন করতে হবে।

ওবামা বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে যে সমস্যাগুলো সমাধানের কথা বলা হয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলোই এখনো রয়ে গেছে। বরং নতুন করে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক বিভাজন আরও তীব্র হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “যুদ্ধের আগে যে অবস্থায় ছিলাম, এখন আমরা তার চেয়েও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।”

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় ১৫ সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত সম্প্রতি একটি যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে থেমেছে। তবে এই সংঘাতের ফলে উভয় দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং তার কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন  যাত্রাবাড়ী ও মুগদা এলাকায় ২৯ জন গ্রেপ্তার

ওবামা তাঁর বক্তব্যে ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সেই চুক্তি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে চুক্তি থেকে সরে আসার ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে এবং অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়। তাঁর দাবি, কূটনৈতিক সমাধানের পথ ত্যাগ করেই বর্তমান সংকটের ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সামরিক শক্তি সব সময় দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এনে দিতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে আলোচনা, সমঝোতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাই স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করে। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব রাজনীতিতে বলপ্রয়োগের পরিবর্তে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। যুদ্ধ চলাকালে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম বেড়ে যায় এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়। যুদ্ধবিরতির পর বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হলেও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও এই যুদ্ধ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ করছে, যুদ্ধের লক্ষ্য ও ফলাফল সম্পর্কে জনগণকে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়নি। অনেকেই মনে করছেন, বিপুল ব্যয় সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সাফল্য অর্জিত হয়নি।

আরও পড়ুন  ট্রাম্প কি নেতানিয়াহুর প্রভাবের জিম্মি?

ওবামা বলেন, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে সাধারণ মানুষের। হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়েছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়েছে। তাঁর মতে, কোনো সামরিক অভিযানের মূল্যায়ন শুধু কৌশলগত অর্জনের ভিত্তিতে নয়, মানবিক দিক বিবেচনা করেও করা প্রয়োজন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করা দরকার। যুদ্ধ শুরু করা সহজ হলেও তার পরিণতি নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কঠিন।

বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন স্থিতিশীলতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই দাবির সঙ্গে সবাই একমত নন। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, মূল সমস্যাগুলোর সমাধান এখনো হয়নি এবং ভবিষ্যতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে।

আরও পড়ুন  ইরানের নতুন প্রস্তাব: হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও পারমাণবিক আলোচনা স্থগিতের পরিকল্পনা

এদিকে প্রেসিডেন্ট Donald Trump যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি ও প্রভাবের কোনো সীমা নেই এবং এই সংঘাত দেশটির নেতৃত্বের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। তবে ওবামা মনে করেন, বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল এবং যুদ্ধের প্রকৃত মূল্য সময়ের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওবামার এই মন্তব্য শুধু একটি যুদ্ধের সমালোচনা নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে একটি সতর্কবার্তা। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে, কূটনৈতিক উদ্যোগকে দুর্বল করে সামরিক সমাধানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।

সব মিলিয়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ হওয়ার পরও বিতর্ক থামেনি। যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী কে, কতটা অর্জন হয়েছে এবং কতটা ক্ষতি হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে বারাক ওবামার বক্তব্য নতুন করে সেই বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে তা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিতে পারে।