ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নির্যাতনের শিকার ৪১ হাজার ৫৫৫ নারী-শিশুর ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন: সংসদে মন্ত্রী Logo কসবায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা Logo হঠাৎ অসুস্থ মাগুরার ডিসি, হেলিকপ্টারে পাঠানো হলো ঢাকায় Logo পুশ ইনে ব্যর্থ হয়ে সীমান্তে বিএসএফের ককটেল বিস্ফোরণ Logo সিলেটে এ পর্যন্ত হাম ও নিউমোনিয়ায় ৬৯ শিশুর মৃত্যু Logo এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাধা হিসেবে বিবেচিত হবে ইসরায়েল: বিশ্লেষক Logo ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে ভবিষ্যতের বিশ্ব Logo ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ বাতিলের সিদ্ধান্তকে এবিবি স্বাগত জানাল Logo লামিন ইয়ামাল ফিট, বিশ্বকাপে স্পেনের বড় ভরসা Logo রাজনৈতিক ব্যঙ্গে আলোচনায় ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ সিনেমা

উখিয়ার উত্তর হাজীরপাড়ার ব্রিজ নির্মাণ অনিয়মে তদন্ত দাবি জোরালো

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:৫১:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৫৬

চিত্রঃ ব্রিজ নির্মাণের অনিয়ম

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার উত্তর হাজীরপাড়ায় চলমান একটি সেতু নির্মাণকাজকে ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও সংশ্লিষ্টরা তা আমলে নেননি। নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট দেওয়া এবং দায়সারা পদ্ধতিতে কাজ চালানোর অভিযোগ এখন প্রকাশ্যে এসেছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত তদন্তের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়রা জানান, সেতুর নিচের অংশে যে ঢালাই কাজ করা হচ্ছে, তা দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যেখানে শক্ত কংক্রিট ব্যবহারের কথা, সেখানে অতিরিক্ত শুকনো বালি মিশিয়ে দুর্বল মিশ্রণ তৈরি করা হয়েছে। নামমাত্র সিমেন্ট ব্যবহার করেকাগজে-কলমে কাজ শেষ দেখানোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন অনেকে। এভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সংযুক্ত ছবিতেই নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কংক্রিটের মধ্যে সিমেন্টের উপস্থিতি খুবই কম দেখা যাচ্ছে, যা একটি সেতুর ভিত্তির জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিত্তি দুর্বল হলে ওপরের অংশ যত ভালোই হোক, দীর্ঘমেয়াদে পুরো কাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই শুরুতেই কাজের মান নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে বিপর্যয় এড়ানো কঠিন হবে। উত্তর হাজীরপাড়ার এই সেতুটি স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কৃষিপণ্য বহনকারী মানুষ, রোগী ও সাধারণ পথচারীরা এই পথ ব্যবহার করে থাকেন নিয়মিত।


বর্ষাকালে বিকল্প পথ অচল হয়ে গেলে এই সেতুর প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায় বলে জানান এলাকাবাসী। তাই এমন একটি স্থাপনায় অনিয়ম হলে তা শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, জননিরাপত্তারও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই তদারকির ঘাটতি ছিল স্পষ্টভাবে চোখে পড়ার মতো। কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কেউ নিয়মিত কাজ পরিদর্শনে আসেন না বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এই সুযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের সুবিধামতো কাজ করছে এবং মান নিয়ন্ত্রণ উপেক্ষা করছে বলে দাবি তাদের। সঠিক নজরদারি থাকলে এমন অভিযোগ ওঠার সুযোগ থাকত না বলেও মন্তব্য করেন অনেকে।

স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, সরকারি অর্থে নির্মিত প্রকল্পে জনগণের স্বার্থই সবার আগে থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, জনগণের প্রয়োজনকে পাশ কাটিয়ে লাভের চিন্তাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে দ্রুত কাজ শেষ দেখানো হলে কয়েক বছর পর আবার মেরামতে নতুন ব্যয় হবে। ফলে একই প্রকল্পে জনগণের অর্থ বারবার অপচয়ের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে তাদের আশঙ্কা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা না মেলায় স্থানীয়দের সন্দেহ আরও বেড়েছে বলে জানা গেছে।


যদি কাজ সঠিক নিয়মে হয়ে থাকে, তাহলে প্রকাশ্যে এসে ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত ছিল বলেও মত দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন অনেকে। সচেতন মহল বলছে, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এমন গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে স্বাধীন প্রকৌশল দল দিয়ে কাজের মান যাচাই, ব্যবহৃত সামগ্রী পরীক্ষা এবং দায়ীদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন। যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
উখিয়ার উত্তর হাজীরপাড়ার ব্রিজ নির্মাণ অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্তই এখন স্থানীয় মানুষের প্রধান দাবি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্যাতনের শিকার ৪১ হাজার ৫৫৫ নারী-শিশুর ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন: সংসদে মন্ত্রী

উখিয়ার উত্তর হাজীরপাড়ার ব্রিজ নির্মাণ অনিয়মে তদন্ত দাবি জোরালো

Update Time : ০৫:৫১:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার উত্তর হাজীরপাড়ায় চলমান একটি সেতু নির্মাণকাজকে ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও সংশ্লিষ্টরা তা আমলে নেননি। নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট দেওয়া এবং দায়সারা পদ্ধতিতে কাজ চালানোর অভিযোগ এখন প্রকাশ্যে এসেছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত তদন্তের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়রা জানান, সেতুর নিচের অংশে যে ঢালাই কাজ করা হচ্ছে, তা দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যেখানে শক্ত কংক্রিট ব্যবহারের কথা, সেখানে অতিরিক্ত শুকনো বালি মিশিয়ে দুর্বল মিশ্রণ তৈরি করা হয়েছে। নামমাত্র সিমেন্ট ব্যবহার করেকাগজে-কলমে কাজ শেষ দেখানোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন অনেকে। এভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

আরও পড়ুন  সিয়ামের মৃত্যু: হামে আক্রান্ত শিশুর পরিবারের পাশে তারেক রহমান

স্থানীয়দের ভাষ্য, সংযুক্ত ছবিতেই নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কংক্রিটের মধ্যে সিমেন্টের উপস্থিতি খুবই কম দেখা যাচ্ছে, যা একটি সেতুর ভিত্তির জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিত্তি দুর্বল হলে ওপরের অংশ যত ভালোই হোক, দীর্ঘমেয়াদে পুরো কাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই শুরুতেই কাজের মান নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে বিপর্যয় এড়ানো কঠিন হবে। উত্তর হাজীরপাড়ার এই সেতুটি স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কৃষিপণ্য বহনকারী মানুষ, রোগী ও সাধারণ পথচারীরা এই পথ ব্যবহার করে থাকেন নিয়মিত।


বর্ষাকালে বিকল্প পথ অচল হয়ে গেলে এই সেতুর প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায় বলে জানান এলাকাবাসী। তাই এমন একটি স্থাপনায় অনিয়ম হলে তা শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, জননিরাপত্তারও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই তদারকির ঘাটতি ছিল স্পষ্টভাবে চোখে পড়ার মতো। কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কেউ নিয়মিত কাজ পরিদর্শনে আসেন না বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এই সুযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের সুবিধামতো কাজ করছে এবং মান নিয়ন্ত্রণ উপেক্ষা করছে বলে দাবি তাদের। সঠিক নজরদারি থাকলে এমন অভিযোগ ওঠার সুযোগ থাকত না বলেও মন্তব্য করেন অনেকে।

আরও পড়ুন  পাথরঘাটায় ডিজেল জব্দ, জেলেদের খুশির খবর

স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, সরকারি অর্থে নির্মিত প্রকল্পে জনগণের স্বার্থই সবার আগে থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, জনগণের প্রয়োজনকে পাশ কাটিয়ে লাভের চিন্তাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে দ্রুত কাজ শেষ দেখানো হলে কয়েক বছর পর আবার মেরামতে নতুন ব্যয় হবে। ফলে একই প্রকল্পে জনগণের অর্থ বারবার অপচয়ের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে তাদের আশঙ্কা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা না মেলায় স্থানীয়দের সন্দেহ আরও বেড়েছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন  নাসিম শাহ চোটে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাইরে, পাকিস্তান সুপার লিগ-এ বড় ধাক্কা


যদি কাজ সঠিক নিয়মে হয়ে থাকে, তাহলে প্রকাশ্যে এসে ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত ছিল বলেও মত দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন অনেকে। সচেতন মহল বলছে, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এমন গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে স্বাধীন প্রকৌশল দল দিয়ে কাজের মান যাচাই, ব্যবহৃত সামগ্রী পরীক্ষা এবং দায়ীদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন। যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
উখিয়ার উত্তর হাজীরপাড়ার ব্রিজ নির্মাণ অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্তই এখন স্থানীয় মানুষের প্রধান দাবি।