ঢাকা ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কসবায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কসবা উদ্যোগের অংশ হিসেবে সহায়তা বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক। ছবি: সংগৃহীত

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কসবা উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, বাল্যবিবাহ রোধ, মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভা স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে কসবা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ছামিউল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোঃ আবুসাঈদ। সভার মূল আলোচনায় উঠে আসে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কসবা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা। বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি শিক্ষাব্যবস্থা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়নের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজিল কবির এবং কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ নাজনীন সুলতানা। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা যেমন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এবং খাদ্য কর্মকর্তাসহ অন্যান্য প্রশাসনিক দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম তুলে ধরে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কসবা বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

সভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তারা বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কসবা কার্যক্রম সফল করতে হলে পরিবার পর্যায় থেকে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে স্কুল ও মাদ্রাসা পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, মেয়েশিশুদের শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং সামাজিক কুসংস্কার দূর করা জরুরি। বক্তারা আরও বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই অপ্রাপ্তবয়স্ক বিবাহের ঘটনা না ঘটে।

সভায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা জানান, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে হলে প্রশাসন ও জনগণের যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার রোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ শেয়ার না করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় বলা হয়, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করতে না পারলে সামাজিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সভা শেষে জেলা প্রশাসক সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করেন। এর মধ্যে নগদ অর্থ, টিন, সেলাই মেশিন, কৃষি উপকরণ এবং ওয়াটার পিউরিফায়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কসবা শুধুমাত্র প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিতে হবে, যেখানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন টেকসই করতে হলে সামাজিক সমস্যা আগে সমাধান করতে হবে। বাল্যবিবাহ, মাদক ও গুজব সমাজের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই এই তিনটি বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। প্রশাসন সবসময় জনগণের পাশে থাকবে, তবে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উদ্যোগ সফল করা সম্ভব নয়।

পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের মাধ্যমে একটি স্বাস্থ্যকর ও টেকসই সমাজ গঠনের আহ্বান জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত সবাইকে গাছ লাগানোর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কসবায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা

Update Time : ০৭:৪৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কসবা উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, বাল্যবিবাহ রোধ, মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভা স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে কসবা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ছামিউল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোঃ আবুসাঈদ। সভার মূল আলোচনায় উঠে আসে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কসবা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা। বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি শিক্ষাব্যবস্থা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নয়নের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানজিল কবির এবং কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ নাজনীন সুলতানা। এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা যেমন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এবং খাদ্য কর্মকর্তাসহ অন্যান্য প্রশাসনিক দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম তুলে ধরে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কসবা বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

সভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তারা বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কসবা কার্যক্রম সফল করতে হলে পরিবার পর্যায় থেকে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে স্কুল ও মাদ্রাসা পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, মেয়েশিশুদের শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং সামাজিক কুসংস্কার দূর করা জরুরি। বক্তারা আরও বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই অপ্রাপ্তবয়স্ক বিবাহের ঘটনা না ঘটে।

সভায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা জানান, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে হলে প্রশাসন ও জনগণের যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার রোধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ শেয়ার না করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় বলা হয়, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করতে না পারলে সামাজিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সভা শেষে জেলা প্রশাসক সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করেন। এর মধ্যে নগদ অর্থ, টিন, সেলাই মেশিন, কৃষি উপকরণ এবং ওয়াটার পিউরিফায়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কসবা শুধুমাত্র প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিতে হবে, যেখানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন টেকসই করতে হলে সামাজিক সমস্যা আগে সমাধান করতে হবে। বাল্যবিবাহ, মাদক ও গুজব সমাজের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই এই তিনটি বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। প্রশাসন সবসময় জনগণের পাশে থাকবে, তবে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উদ্যোগ সফল করা সম্ভব নয়।

পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের মাধ্যমে একটি স্বাস্থ্যকর ও টেকসই সমাজ গঠনের আহ্বান জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত সবাইকে গাছ লাগানোর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।