ঢাকা ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাগড়াছড়িতে সেনা অভিযান, নিহত সশস্ত্র সদস্য; উদ্ধার অস্ত্র

অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী

খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও রামগড় উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পৃথক দুটি অভিযানে সশস্ত্র সংগঠনের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনটি একে-৪৭ রাইফেল, তিনটি ম্যাগাজিন, ১৫৯ রাউন্ড গোলাবারুদ এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

বুধবার আইএসপিআর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার বরকলক এলাকায় মঙ্গলবার দুপুরে এবং রামগড় উপজেলার হাজাছড়া এলাকায় বুধবার সকালে পৃথক অভিযান চালায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব অভিযানে সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতির খবর পাওয়া যায়।

আইএসপিআর জানায়, পানছড়ির বরকলক এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় সেনাবাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর এলাকাটি ঘিরে তল্লাশি চালানো হয়।

অভিযানের একপর্যায়ে সশস্ত্র সংগঠনের দুই সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। তাদের কাছ থেকে দুটি একে-৪৭ রাইফেল, দুটি ম্যাগাজিন এবং ১৩২ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। সেনাবাহিনীর দাবি, আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়ক হতে পারে।

অন্যদিকে রামগড় উপজেলার হাজাছড়া এলাকায় বুধবার সকাল ১০টার দিকে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা গুলি ছোড়ে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গুলিবিনিময়ের একপর্যায়ে সশস্ত্র সংগঠনের এক সদস্য নিহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল, একটি ম্যাগাজিন, একটি পাইপগান এবং ২৭ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আরও কিছু সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাতের খবর পাওয়া যায়। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে এখনো কিছু এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং সশস্ত্র তৎপরতা বিদ্যমান রয়েছে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যেকোনো ধরনের সশস্ত্র তৎপরতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের কারণে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা কিছুটা কমে এসেছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী একযোগে কাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।

খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও রামগড়ে পরিচালিত সাম্প্রতিক এই অভিযানকে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ ভবিষ্যতে সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আইএসপিআর স্পষ্ট করেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সব জাতিগোষ্ঠীর জানমাল রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্রধারীদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

খাগড়াছড়িতে সেনা অভিযান, নিহত সশস্ত্র সদস্য; উদ্ধার অস্ত্র

Update Time : ০৮:৪৯:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও রামগড় উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পৃথক দুটি অভিযানে সশস্ত্র সংগঠনের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনটি একে-৪৭ রাইফেল, তিনটি ম্যাগাজিন, ১৫৯ রাউন্ড গোলাবারুদ এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

বুধবার আইএসপিআর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার বরকলক এলাকায় মঙ্গলবার দুপুরে এবং রামগড় উপজেলার হাজাছড়া এলাকায় বুধবার সকালে পৃথক অভিযান চালায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব অভিযানে সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতির খবর পাওয়া যায়।

আইএসপিআর জানায়, পানছড়ির বরকলক এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় সেনাবাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর এলাকাটি ঘিরে তল্লাশি চালানো হয়।

আরও পড়ুন  পদ্মায় ভেসে আসা পলিব্যাগে মিলল খণ্ডিত হাত-পা

অভিযানের একপর্যায়ে সশস্ত্র সংগঠনের দুই সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। তাদের কাছ থেকে দুটি একে-৪৭ রাইফেল, দুটি ম্যাগাজিন এবং ১৩২ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। সেনাবাহিনীর দাবি, আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়ক হতে পারে।

অন্যদিকে রামগড় উপজেলার হাজাছড়া এলাকায় বুধবার সকাল ১০টার দিকে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা গুলি ছোড়ে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গুলিবিনিময়ের একপর্যায়ে সশস্ত্র সংগঠনের এক সদস্য নিহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল, একটি ম্যাগাজিন, একটি পাইপগান এবং ২৭ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আরও কিছু সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাতের খবর পাওয়া যায়। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে।

আরও পড়ুন  রামিসা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড, দ্রুত বিচারে নতুন নজির

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে এখনো কিছু এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং সশস্ত্র তৎপরতা বিদ্যমান রয়েছে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যেকোনো ধরনের সশস্ত্র তৎপরতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের কারণে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা কিছুটা কমে এসেছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

আরও পড়ুন  এনসিপি চট্টগ্রাম সমাবেশে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ

পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী একযোগে কাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।

খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও রামগড়ে পরিচালিত সাম্প্রতিক এই অভিযানকে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ ভবিষ্যতে সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আইএসপিআর স্পষ্ট করেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সব জাতিগোষ্ঠীর জানমাল রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্রধারীদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।