দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও তাপপ্রবাহের বিস্তার ঘটেছে। বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে যাওয়ায় তাপপ্রবাহ আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বর্তমানে দেশের ৩৭ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর ফলে রাজধানীসহ প্রায় পুরো দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী চারদিন বৃষ্টির পরিমাণ আরও কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও বাড়তে পারে। ফলে গরমের অস্বস্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে ভ্যাপসা গরমের প্রভাব বেশি অনুভূত হতে পারে।
রোববার সন্ধ্যায় প্রকাশিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া ময়মনসিংহ, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানো এবং বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে। তবে দেশের অধিকাংশ এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। ফলে বৃষ্টির অভাবে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু টেকনাফ উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে এবং বর্ষাকালের পরিবেশ তৈরি হতে শুরু করবে।বর্তমানে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের প্রায় সব জেলার ওপর তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ঢাকা, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও পটুয়াখালীসহ মোট ৩৭ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ প্রবাহিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় সারাদেশে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে আগামী ৫ জুন বা এর কাছাকাছি সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিমা মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হলে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। তখন বর্তমান গরম পরিস্থিতি থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ দিক থেকে আসা বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়ছে। এর ফলে শুধু তাপমাত্রা নয়, বাতাসের আর্দ্রতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই কারণে মানুষের শরীরে গরমের অনুভূতি আরও বেশি হচ্ছে এবং ভ্যাপসা আবহাওয়া তৈরি হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে। সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত কয়েকদিনের তুলনায় দেশের প্রায় সব অঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। এর ফলে নতুন নতুন এলাকায় তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়ছে। আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন, বৃষ্টি না হলে আগামী কয়েকদিনে তাপপ্রবাহের বিস্তৃতি আরও বাড়তে পারে।
রোববার দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে কক্সবাজারে। সেখানে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া রাঙামাটি ও বান্দরবনের কিছু এলাকায় বৃষ্টি হলেও রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে কোনো উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই অপ্রয়োজনে রোদে বের না হওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং সরাসরি সূর্যের তাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে দেশের ৩৭ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহ আগামী কয়েকদিন আরও তীব্র হতে পারে। বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম থাকায় ভ্যাপসা গরমে মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। তবে আগামী ৫ জুনের পর মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হলে বৃষ্টির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে গরম পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

























