নেত্রকোনায় দুই খুনের ঘটনায় জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি ঘটনায় এক গৃহবধূ ও এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ জুন) রাত থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে নেত্রকোনা পৌর শহরের উত্তর কাটলী এলাকায়। সেখানে নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে মনোয়ারা বেগম চায়না (৪৮) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি ঘরের খাটের নিচে পাওয়া যায়। তার হাত-পা বাঁধা ছিল এবং গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একই ঘটনায় গুরুতর আহত হন নিহতের স্বামী আবু চান ও ছেলে মুন্না। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে মুন্নার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় বাড়িতে পরিবারের কয়েকজন সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করা হলেও অনেক খোঁজাখুঁজির পর খাটের নিচ থেকে মনোয়ারা বেগমের মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় এক প্রতিবেশীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর কয়েক ঘণ্টা পর সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের বামনীকোনা গ্রামে আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে আহত হন কয়েকজন তরুণ।
আহতদের মধ্যে মোস্তফা আমীর ফয়সাল (২০) নামে এক কলেজছাত্রের অবস্থা গুরুতর ছিল। তাকে প্রথমে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের অনুষ্ঠানে গান বাজানো ও ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে সেই উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় ফয়সাল মাথায় গুরুতর আঘাত পান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহের পর হত্যাকাণ্ডগুলোর প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















