আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই)। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায় বাড়াতে করের আওতা সম্প্রসারণ, ব্যবসার খরচ কমানো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে ফরেন চেম্বারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী। তিনি জানান, বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সরকারের প্রচেষ্টা ইতিবাচক। তবে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগ আকর্ষণে করব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার ও নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা জরুরি।
ফরেন চেম্বারের মতে, রাজস্ব আহরণ বাড়াতে নতুন করদাতাদের করব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। এ জন্য কর দেওয়ার সামর্থ্য থাকা ব্যক্তিদের করজালে অন্তর্ভুক্ত করা, বিভিন্ন লাইসেন্স ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা এবং কর ও ভ্যাট তথ্যের সমন্বিত যাচাই ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি।
রূপালী হক চৌধুরী বলেন, শুধু করসুবিধা দিলেই বিনিয়োগ বাড়বে না। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে গ্যাসসহ বিভিন্ন পরিষেবা–সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত সেবা মাশুল কমিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মূল্যস্ফীতিকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ফরেন চেম্বার মনে করে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সুস্পষ্ট কৌশল প্রয়োজন। একই সঙ্গে সবুজ উদ্যোগ ও সৌরবিদ্যুৎ খাতে প্রণোদনাকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি।
ফরেন চেম্বারের পরামর্শক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনে ডেটা ও বিশ্লেষণভিত্তিক বিশেষ ইউনিট গঠন করা দরকার। এছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ করহার নির্ধারণের আগে করের আওতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে সমীক্ষা পরিচালনার পরামর্শ দেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।



























