ঢাকা ০৬:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কাজে মনোযোগ বাড়ানোর ৭ কার্যকর উপায় Logo প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় অক্ষরের মৃত্যু, মায়ের আহাজারি Logo গ্যাস সংকটে চট্টগ্রাম, সারারাত লাইনে দাঁড়িয়ে মিলছে অল্প গ্যাস Logo বন্দর রক্ষা নিয়ে নতুন ঘোষণা, ১৫ আগস্ট নাগরিক কনভেনশন Logo হাইড্রোলিক হর্ন নিষিদ্ধ, জানুন বিআরটিএর নতুন সতর্কবার্তা Logo ভালো প্রস্তুতি হয়েছে : অস্ট্রেলিয়ায় অনুশীলনের পর তাইজুল Logo টিকিট সিন্ডিকেট দমনে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা চায় সরকার Logo এনসিপি নেতাদের শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ না করার আহ্বান রিজভীর Logo চন্দনাইশ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডে খোলাবাজারে বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রমের আওতায় জনসাধারণের মাঝে স্বল্পমূল্যে চাল ও আটা বিক্রি শুরু Logo ফিফা নথি সংরক্ষণে কড়া সতর্কতা, উয়েফার আইনি বার্তা

টিকিট সিন্ডিকেট দমনে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা চায় সরকার

টিকিট সিন্ডিকেট দমনে আইএটিএর সহযোগিতা চায় সরকার

বিমানের টিকিটে সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অনিয়ম দমনে আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেট, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট শেজডন হি। বৈঠকে বাংলাদেশে বিমান পরিবহন খাতের আধুনিকায়ন, টিকিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমান টিকিটের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং দালালচক্রের তৎপরতা বন্ধে সরকার ইতোমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের টিকিট ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আইএটিএর কারিগরি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বিমান খাতে যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেট, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা, সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আইএটিএর আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট শেজডন হি জানান, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নে আইএটিএ সব ধরনের কারিগরি ও নীতিগত সহযোগিতা দিতে আগ্রহী। বিশেষ করে টিকিট বিক্রয় ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, নিরাপত্তা, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে সংস্থাটি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়।

বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স টেকনিক্যাল সেন্টার (বিএটিসি)-কে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ (Maintenance, Repair and Overhaul-MRO) কেন্দ্রে উন্নীত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। আইএটিএ এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করে।

প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, পরিবেশবান্ধব বিমান পরিবহন নিশ্চিত করতে সরকার বেসামরিক বিমান চলাচল অধ্যাদেশে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিধান যুক্ত করেছে। পাশাপাশি টেকসই এভিয়েশন ফুয়েল (SAF) ব্যবহারের উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মান অনুসরণ এবং আকাশপথে অপরাধ দমনে মন্ট্রিয়ল প্রটোকল-২০১৪ গ্রহণের বিষয়েও সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের বিমান পরিবহন ব্যবস্থা হবে আরও নিরাপদ, প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়ানো হবে।

বৈঠকে আরও আলোচনা হয় দেশের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা, নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু, বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে কৌশল, বিমানবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে বিমান টিকিটের বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে, সিন্ডিকেটের প্রভাব কমবে এবং যাত্রীরা ন্যায্য মূল্যে টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কাজে মনোযোগ বাড়ানোর ৭ কার্যকর উপায়

টিকিট সিন্ডিকেট দমনে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা চায় সরকার

Update Time : ০৪:২৪:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বিমানের টিকিটে সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অনিয়ম দমনে আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতে যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেট, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট শেজডন হি। বৈঠকে বাংলাদেশে বিমান পরিবহন খাতের আধুনিকায়ন, টিকিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন  বিশ্বে তেলের চাহিদা কমবে ভয়াবহ সতর্কতা আইইএর

বৈঠকে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমান টিকিটের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং দালালচক্রের তৎপরতা বন্ধে সরকার ইতোমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের টিকিট ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আইএটিএর কারিগরি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বিমান খাতে যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেট, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা, সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আইএটিএর আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট শেজডন হি জানান, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নে আইএটিএ সব ধরনের কারিগরি ও নীতিগত সহযোগিতা দিতে আগ্রহী। বিশেষ করে টিকিট বিক্রয় ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, নিরাপত্তা, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে সংস্থাটি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়।

আরও পড়ুন  বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৮ বিলিয়ন ডলার, নতুন তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের

বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স টেকনিক্যাল সেন্টার (বিএটিসি)-কে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ (Maintenance, Repair and Overhaul-MRO) কেন্দ্রে উন্নীত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। আইএটিএ এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করে।

প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, পরিবেশবান্ধব বিমান পরিবহন নিশ্চিত করতে সরকার বেসামরিক বিমান চলাচল অধ্যাদেশে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিধান যুক্ত করেছে। পাশাপাশি টেকসই এভিয়েশন ফুয়েল (SAF) ব্যবহারের উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মান অনুসরণ এবং আকাশপথে অপরাধ দমনে মন্ট্রিয়ল প্রটোকল-২০১৪ গ্রহণের বিষয়েও সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

আরও পড়ুন  মিরসরাইয়ে চীনের ৩৬৬ কোটি টাকার বস্ত্র কারখানা, হবে ৫৮০ জনের কর্মসংস্থান

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের বিমান পরিবহন ব্যবস্থা হবে আরও নিরাপদ, প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়ানো হবে।

বৈঠকে আরও আলোচনা হয় দেশের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা, নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু, বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে কৌশল, বিমানবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে বিমান টিকিটের বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে, সিন্ডিকেটের প্রভাব কমবে এবং যাত্রীরা ন্যায্য মূল্যে টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।