ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রুনা লায়লা একক কনসার্ট: শিল্পকলায় ঐতিহাসিক আয়োজনের বিশেষ মুহূর্ত Logo যে ৩ বৈশিষ্ট্যে মিলবে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ Logo জন নায়গন প্রথম দিনের আয়: বিজয়ের শেষ সিনেমার দুর্দান্ত বক্স অফিস চমক Logo সেমিকন্ডাক্টর সামিট: ঢাকায় শুরু হচ্ছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি সম্মেলন Logo বন্যার কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে তিন মাস ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত Logo ব্যাংক আমানত: ৫৬ শতাংশ টাকা ব্যক্তির হিসাবেই জমা Logo পণ্যের দাম বৃদ্ধি: পেঁয়াজ, ডিম ও সবজির বাজারে চাপ Logo রেমিট্যান্স প্রবাহ: ২২ দিনে দেশে এলো ২.১৭ বিলিয়ন ডলার Logo বাজেট বাস্তবায়নেই সাফল্য, কর্মকর্তাদের কাজের আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo থাইল্যান্ডে রপ্তানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ, অগ্রাধিকারে ওষুধ-পাট পণ্য

রেমিট্যান্স প্রবাহ: ২২ দিনে দেশে এলো ২.১৭ বিলিয়ন ডলার

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:০৯:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৭

জুলাইয়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে দেশে এসেছে ২.১৭ বিলিয়ন ডলার। ছবি: সংগৃহীত

রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ২ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, এর পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২২ জুলাই পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে ২ হাজার ১৭০ মিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয়। এর মধ্যে শুধু একদিনেই অর্থাৎ ২২ জুলাই এসেছে প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর গতি আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ দশমিক ৭৫৯ বিলিয়ন ডলার।

সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের অবদানের কারণে দেশের অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক লেনদেন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ রয়েছে ৩১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভ বৃদ্ধির ফলে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ যত বাড়বে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার তত বেশি স্থিতিশীল হবে। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর সুবিধা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে প্রবাসী আয় আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাদের পাঠানো অর্থ পরিবারের জীবনযাত্রার উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসায় বিনিয়োগেও বড় অবদান রাখছে।

সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করছে। এর ফলে হুন্ডির পরিবর্তে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ছে।

বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ঊর্ধ্বগতি দেশের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী মাসগুলোতেও প্রবাসী আয় বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স শুধু বৈদেশিক মুদ্রার উৎস নয়, এটি লাখো পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। তাই প্রবাসীদের পাঠানো প্রতিটি ডলার দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রুনা লায়লা একক কনসার্ট: শিল্পকলায় ঐতিহাসিক আয়োজনের বিশেষ মুহূর্ত

রেমিট্যান্স প্রবাহ: ২২ দিনে দেশে এলো ২.১৭ বিলিয়ন ডলার

Update Time : ১২:০৯:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ২ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, এর পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২২ জুলাই পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে ২ হাজার ১৭০ মিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয়। এর মধ্যে শুধু একদিনেই অর্থাৎ ২২ জুলাই এসেছে প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর গতি আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ দশমিক ৭৫৯ বিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন  প্রবাসী আয় উৎস: সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের অবস্থান

সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের অবদানের কারণে দেশের অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক লেনদেন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে।

আরও পড়ুন  ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে ট্রাম্পের ১ বিলিয়নেরও বেশি ডলার আয়

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ রয়েছে ৩১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভ বৃদ্ধির ফলে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ যত বাড়বে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার তত বেশি স্থিতিশীল হবে। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর সুবিধা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে প্রবাসী আয় আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাদের পাঠানো অর্থ পরিবারের জীবনযাত্রার উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসায় বিনিয়োগেও বড় অবদান রাখছে।

আরও পড়ুন  ব্যবসার খরচ কমানোর দাবি ধানমন্ডি–মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ীদের

সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করছে। এর ফলে হুন্ডির পরিবর্তে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ছে।

বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ঊর্ধ্বগতি দেশের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী মাসগুলোতেও প্রবাসী আয় বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স শুধু বৈদেশিক মুদ্রার উৎস নয়, এটি লাখো পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। তাই প্রবাসীদের পাঠানো প্রতিটি ডলার দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।