ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জে পানির ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু Logo রূপপুরে জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় অগ্রগতি Logo ঢাকা আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত চার্লস জে. হার্ডার, গুরুত্ব পাবে শিশু কল্যাণ ও শিক্ষা Logo ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ৮ নিহত, দুর্গম জঙ্গলে বিধ্বস্ত Logo কক্সবাজারে বৃষ্টির ধাক্কা, কম দামে বিপাকে ৪২ হাজার লবণচাষি Logo ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ৮ আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু Logo শিশুর শরীরে কালো দাগ কেন হয়? অ্যাকাথোসিস নিগ্রিক্যানস ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি জানুন Logo আয়োকিগাহারা ফরেস্ট: জাপানের রহস্যময় ‘সুইসাইড ফরেস্ট’ এর অজানা সত্য Logo মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতে তেলের দামে নিম্নগতি Logo ইরানের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের ইঙ্গিত

জ্বালানি সংকট প্রভাব: জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি বিশ্লেষণ

  • Taslima Khanom
  • Update Time : ০১:১৪:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৮

চিত্রঃ জ্বালানি সংকট প্রভাব-সানেম এর বিশ্লেষণ

বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে সানেম। সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাবে। এতে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ এবং এলএনজির দাম ৫০ শতাংশ বাড়লে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ১.২ শতাংশ কমে যেতে পারে। এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে, কারণ প্রবৃদ্ধির হার কমে গেলে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এছাড়া রপ্তানি খাতে প্রায় ২ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফলে দেশের রপ্তানি আয় কমে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে আমদানিও প্রায় দেড় শতাংশ কমে যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় শিল্পখাতেও প্রভাব পড়বে। এতে আমদানি নির্ভর কাঁচামাল ও পণ্যের প্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সানেম আরও বলেছে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যেতে পারে। ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

মূল্যস্ফীতি বাড়ার পাশাপাশি প্রকৃত মজুরিও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রকৃত মজুরি প্রায় ১ শতাংশ কমে যেতে পারে। এর ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং জীবনযাত্রার মান নিম্নমুখী হতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে। খাদ্য, পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে তাদের দৈনন্দিন ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে উঠবে। এতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।

বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যদি হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ হয়। বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির প্রায় ৭২ শতাংশ আসে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। এই দুটি দেশ থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সানেম। সংস্থাটি বলেছে, কৃচ্ছ্রসাধন নীতি ও জ্বালানি রেশনিংয়ের ঘোষণা দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন যথাযথভাবে হচ্ছে না। সরকারি ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির অমিল থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জ্বালানি সরবরাহে অনিয়ম ও অপ্রতুলতা দেখা যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এ সংকট মোকাবিলায় সানেম কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও অন্যান্য বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি খাতের অবকাঠামো উন্নয়নের কথাও বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

আসন্ন বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। এতে এই খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে এবং ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। করমুক্ত সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে বলেও মত দিয়েছে সানেম। এতে উদ্যোক্তারা সহজে এই খাতে বিনিয়োগ করতে পারবেন এবং প্রযুক্তি গ্রহণ সহজ হবে।

স্বল্প সুদের ঋণ সুবিধা প্রদান করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে যুক্ত হতে উৎসাহিত হবেন। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি কমিয়ে সেই অর্থ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

সানেম মনে করে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমানো যাবে। এতে বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব থেকেও অর্থনীতিকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে। দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থিতিশীল ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে জ্বালানি খাতে কাঠামোগত পরিবর্তন অপরিহার্য বলে মনে করছে সংস্থাটি। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও কার্যকর বাস্তবায়নই পারে এই সংকট মোকাবিলা করতে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে পানির ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

জ্বালানি সংকট প্রভাব: জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি বিশ্লেষণ

Update Time : ০১:১৪:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে সানেম। সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাবে। এতে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ এবং এলএনজির দাম ৫০ শতাংশ বাড়লে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ১.২ শতাংশ কমে যেতে পারে। এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে, কারণ প্রবৃদ্ধির হার কমে গেলে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এছাড়া রপ্তানি খাতে প্রায় ২ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফলে দেশের রপ্তানি আয় কমে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে আমদানিও প্রায় দেড় শতাংশ কমে যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় শিল্পখাতেও প্রভাব পড়বে। এতে আমদানি নির্ভর কাঁচামাল ও পণ্যের প্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সানেম আরও বলেছে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যেতে পারে। ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

মূল্যস্ফীতি বাড়ার পাশাপাশি প্রকৃত মজুরিও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রকৃত মজুরি প্রায় ১ শতাংশ কমে যেতে পারে। এর ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং জীবনযাত্রার মান নিম্নমুখী হতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে। খাদ্য, পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে তাদের দৈনন্দিন ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে উঠবে। এতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।

বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যদি হরমুজ প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ হয়। বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির প্রায় ৭২ শতাংশ আসে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। এই দুটি দেশ থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সানেম। সংস্থাটি বলেছে, কৃচ্ছ্রসাধন নীতি ও জ্বালানি রেশনিংয়ের ঘোষণা দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন যথাযথভাবে হচ্ছে না। সরকারি ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির অমিল থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জ্বালানি সরবরাহে অনিয়ম ও অপ্রতুলতা দেখা যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এ সংকট মোকাবিলায় সানেম কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও অন্যান্য বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি খাতের অবকাঠামো উন্নয়নের কথাও বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

আসন্ন বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। এতে এই খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে এবং ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। করমুক্ত সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে বলেও মত দিয়েছে সানেম। এতে উদ্যোক্তারা সহজে এই খাতে বিনিয়োগ করতে পারবেন এবং প্রযুক্তি গ্রহণ সহজ হবে।

স্বল্প সুদের ঋণ সুবিধা প্রদান করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে যুক্ত হতে উৎসাহিত হবেন। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি কমিয়ে সেই অর্থ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

সানেম মনে করে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমানো যাবে। এতে বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব থেকেও অর্থনীতিকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে। দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থিতিশীল ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে জ্বালানি খাতে কাঠামোগত পরিবর্তন অপরিহার্য বলে মনে করছে সংস্থাটি। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও কার্যকর বাস্তবায়নই পারে এই সংকট মোকাবিলা করতে।