ঢাকা ০১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্ধ কলকারখানা চালুতে কাজ করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

'‌বন্ধ হওয়া কলকারখানা পুনরায় চালুর বিষয়ে কাজ করছে সরকার’

বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, দেশের শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বন্ধ শিল্পকারখানাগুলোতে বিনিয়োগের ব্যাপারে চীনের সরকার ও বিভিন্ন বিনিয়োগকারী আগ্রহ দেখিয়েছেন।

শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে সিলেট নগরীর লালবাজার এলাকায় অবস্থিত আল-ফালাহ কমপ্লেক্সের চতুর্থ তলায় হলি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড পরিচালিত ‘হলি বাজার’ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সর্বনিম্ন মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতেই সেখানে যান মন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, দেশের বহু শিল্পকারখানা নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের জমি, অবকাঠামো ও জনবলকে কাজে লাগিয়ে নতুন করে উৎপাদনমুখী পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে। তিনি জানান, শিল্প খাতকে সুশৃঙ্খলভাবে পুনর্গঠন করে দ্রুত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে চীনা বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের শিল্প খাতে সম্ভাবনা দেখছেন। তারা বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর পাশাপাশি নতুন শিল্প স্থাপনেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জ্বালানি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই শিল্প পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতি জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

শিল্প খাতের পাশাপাশি গবেষণা ও বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব নিয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিজ্ঞান গবেষণায় ব্যর্থতা বলে কিছু নেই। গবেষণার প্রতিটি ধাপ নতুন জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনার জন্ম দেয়, যা ভবিষ্যতের উদ্ভাবনের ভিত্তি তৈরি করে।

তিনি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চায় আরও উৎসাহী করে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তার মতে, গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা একটি জাতিকে টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পারে। নতুন প্রজন্মকে উদ্ভাবনী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করাই এখন সময়ের দাবি।

খন্দকার মুক্তাদির বলেন, একটি দেশের প্রকৃত অগ্রগতির মূল শক্তি হলো জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও গবেষণা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক জ্ঞানচর্চার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, উন্নত দেশগুলো গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমেই অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ সমাজের মধ্যেও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা, গবেষণাগার এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত বিজ্ঞান মেলার আয়োজনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, তাদের সাহস, সৃজনশীলতা ও নতুন কিছু করার মানসিকতা দেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তরুণদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে উঠলে দেশ ভবিষ্যতে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে যেতে পারবে।

দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধানে দেশীয় গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণা বাড়াতে হবে। স্থানীয় সমস্যার কার্যকর সমাধান দেশীয় উদ্ভাবন থেকেই আসতে পারে।

এ প্রসঙ্গে তিনি ডায়রিয়া প্রতিরোধে খাবার স্যালাইনের উদ্ভাবনের উদাহরণ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে পেঁয়াজ ও আলু সংরক্ষণে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেন। এসব উদ্ভাবন দেশের মানুষের প্রয়োজন থেকেই এসেছে এবং বাস্তব জীবনে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিজ্ঞানচর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। নিয়মিত বিজ্ঞান মেলা, গবেষণা প্রদর্শনী ও উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার আয়োজন নতুন নতুন ধারণা ও প্রযুক্তির বিকাশে সহায়ক হবে। তরুণদের সৃজনশীল চিন্তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উৎসাহিত করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় বিভিন্ন সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, এম এ মালিক, ড. এসএম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী এবং ড. মো. আলিমুল ইসলাম

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, মো. সারওয়ার আলম, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি মো. আনোয়ারুল হক এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তাদের উপস্থিতিতে শিল্প, বিনিয়োগ ও গবেষণাভিত্তিক উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষও মন্ত্রীর বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো চালু হলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হবে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করতে পারলে দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শিল্প খাত ও গবেষণাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। সরকার যদি শিক্ষা, গবেষণা ও শিল্প বিনিয়োগকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আঞ্চলিক অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্ধ কলকারখানা চালুতে কাজ করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

Update Time : ১০:৪০:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, দেশের শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বন্ধ শিল্পকারখানাগুলোতে বিনিয়োগের ব্যাপারে চীনের সরকার ও বিভিন্ন বিনিয়োগকারী আগ্রহ দেখিয়েছেন।

শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে সিলেট নগরীর লালবাজার এলাকায় অবস্থিত আল-ফালাহ কমপ্লেক্সের চতুর্থ তলায় হলি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড পরিচালিত ‘হলি বাজার’ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সর্বনিম্ন মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতেই সেখানে যান মন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, দেশের বহু শিল্পকারখানা নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের জমি, অবকাঠামো ও জনবলকে কাজে লাগিয়ে নতুন করে উৎপাদনমুখী পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে। তিনি জানান, শিল্প খাতকে সুশৃঙ্খলভাবে পুনর্গঠন করে দ্রুত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে চীনা বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের শিল্প খাতে সম্ভাবনা দেখছেন। তারা বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর পাশাপাশি নতুন শিল্প স্থাপনেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন  সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ১৯৯ টাকা , কখন কমবে জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নীতিগত সহায়তা দিচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জ্বালানি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই শিল্প পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতি জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

শিল্প খাতের পাশাপাশি গবেষণা ও বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব নিয়েও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিজ্ঞান গবেষণায় ব্যর্থতা বলে কিছু নেই। গবেষণার প্রতিটি ধাপ নতুন জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনার জন্ম দেয়, যা ভবিষ্যতের উদ্ভাবনের ভিত্তি তৈরি করে।

তিনি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চায় আরও উৎসাহী করে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তার মতে, গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা একটি জাতিকে টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পারে। নতুন প্রজন্মকে উদ্ভাবনী চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করাই এখন সময়ের দাবি।

খন্দকার মুক্তাদির বলেন, একটি দেশের প্রকৃত অগ্রগতির মূল শক্তি হলো জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও গবেষণা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক জ্ঞানচর্চার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, উন্নত দেশগুলো গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমেই অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ সমাজের মধ্যেও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা, গবেষণাগার এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত বিজ্ঞান মেলার আয়োজনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন  তেলসংকটের পর চীনের ইভির উত্থান, বিশ্ববাজারে চাপ

বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, তাদের সাহস, সৃজনশীলতা ও নতুন কিছু করার মানসিকতা দেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তরুণদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে উঠলে দেশ ভবিষ্যতে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে যেতে পারবে।

দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধানে দেশীয় গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণা বাড়াতে হবে। স্থানীয় সমস্যার কার্যকর সমাধান দেশীয় উদ্ভাবন থেকেই আসতে পারে।

এ প্রসঙ্গে তিনি ডায়রিয়া প্রতিরোধে খাবার স্যালাইনের উদ্ভাবনের উদাহরণ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে পেঁয়াজ ও আলু সংরক্ষণে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেন। এসব উদ্ভাবন দেশের মানুষের প্রয়োজন থেকেই এসেছে এবং বাস্তব জীবনে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিজ্ঞানচর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। নিয়মিত বিজ্ঞান মেলা, গবেষণা প্রদর্শনী ও উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার আয়োজন নতুন নতুন ধারণা ও প্রযুক্তির বিকাশে সহায়ক হবে। তরুণদের সৃজনশীল চিন্তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উৎসাহিত করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় বিভিন্ন সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, এম এ মালিক, ড. এসএম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী এবং ড. মো. আলিমুল ইসলাম

আরও পড়ুন  এআই দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ, সিন্ডিকেট বন্ধের আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীর

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, মো. সারওয়ার আলম, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি মো. আনোয়ারুল হক এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। তাদের উপস্থিতিতে শিল্প, বিনিয়োগ ও গবেষণাভিত্তিক উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষও মন্ত্রীর বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো চালু হলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হবে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করতে পারলে দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শিল্প খাত ও গবেষণাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। সরকার যদি শিক্ষা, গবেষণা ও শিল্প বিনিয়োগকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আঞ্চলিক অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।