বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে জ্বালানি, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিম।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠিত টেলিফোন আলাপে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। পরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।
আলোচনায় বাংলাদেশের চলমান গ্যাস সরবরাহ সংকট বিশেষ গুরুত্ব পায়। সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের মাধ্যমে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়।
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির কারণে বিভিন্ন শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে এলএনজি আমদানির মাধ্যমে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
ফোনালাপে মালয়েশিয়ার পেট্রোনাসের মাধ্যমে এলএনজি সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধি নিয়েও দুই নেতা আলোচনা করেন।
বৈঠকে মালয়েশিয়ার অন্যতম বৃহৎ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এক্সিটা গ্রুপ বারহাডের বাংলাদেশে বিনিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কৌশলগত অংশীদারত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া এমএমসি কর্পোরেশন বারহাডের মাধ্যমে বন্দর ও অবকাঠামো খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়েও দুই দেশের নেতারা মতবিনিময় করেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্কের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও বাড়াতে দেশটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার মাধ্যমে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।





























