ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

রোহিঙ্গাদের জন্য ১ কোটি ডলার অনুদানের ঘোষণা কানাডার

রোহিঙ্গাদের জন্য ১ কোটি ডলার অনুদানের ঘোষণা কানাডার

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জীবনমান উন্নয়ন এবং নিরাপদ রান্নার পরিবেশ নিশ্চিতে ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার অনুদান দিচ্ছে কানাডা। রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকায় কানাডিয়ান হাইকমিশন এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। এই অনুদানের বিশাল অর্থ যৌথভাবে কাজে লাগাবে ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

বনভূমি রক্ষা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাসের ব্যবহার শুরুর পর থেকে জ্বালানি কাঠের নির্ভরতা প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে শুধু যে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক বনভূমি রক্ষা পাচ্ছে তা নয়, প্রতি বছর প্রায় চার লাখ সাত হাজার টন ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণও রোধ করা সম্ভব হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা হলো, এই উদ্যোগটি রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখছে। আগে গভীর জঙ্গলে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা প্রতিনিয়ত যেসব বিপদের সম্মুখীন হতেন, এলপিজি ব্যবহারের ফলে সেই ঝুঁকি এখন অনেকটাই কমে এসেছে।

কী বলছেন সংশ্লিষ্টরা? এই সহায়তা প্রসঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং জানান, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে কানাডা সবসময়ই বাংলাদেশের পাশে আছে। নতুন এই জলবায়ু-বান্ধব অনুদান শুধু শরণার্থীদের দৈনন্দিন জীবনই সহজ করবে না, পাশাপাশি কক্সবাজারের মতো পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় দারুণ ভূমিকা রাখবে।

দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বাস্তুচ্যুত হয়ে থাকা এই মানুষগুলোর জন্য কানাডার এই সহায়তা তাদের জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি আনবে বলে মনে করেন ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ জুলিয়েট মুরেকিইসোনি। অন্যদিকে আইওএম বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন চিফ অব মিশন জ্যাসেপ্পে লোপ্রিটে জানান, এই নিরাপদ জ্বালানি ব্যবস্থা পরিবারগুলোর মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কাঠ সংগ্রহের মতো বিপজ্জনক কাজ থেকে তাদের দূরে রাখছে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে ঘরের ভেতরের বাতাস আগের চেয়ে বিশুদ্ধ হয়েছে এবং রান্নার খরচ কমেছে।

ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম আশা করছে, কানাডার দেওয়া নতুন এই তহবিলের সাহায্যে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ শরণার্থী পরিবারের এলপিজি সুবিধা নিশ্চিত হবে। একইসঙ্গে কক্সবাজারের প্রায় ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষা পাবে, পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমবে এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যকার সংঘাতও অনেকাংশে কমে আসবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

রোহিঙ্গাদের জন্য ১ কোটি ডলার অনুদানের ঘোষণা কানাডার

Update Time : ০৭:৫৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জীবনমান উন্নয়ন এবং নিরাপদ রান্নার পরিবেশ নিশ্চিতে ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার অনুদান দিচ্ছে কানাডা। রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকায় কানাডিয়ান হাইকমিশন এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। এই অনুদানের বিশাল অর্থ যৌথভাবে কাজে লাগাবে ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

বনভূমি রক্ষা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাসের ব্যবহার শুরুর পর থেকে জ্বালানি কাঠের নির্ভরতা প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে শুধু যে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক বনভূমি রক্ষা পাচ্ছে তা নয়, প্রতি বছর প্রায় চার লাখ সাত হাজার টন ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণও রোধ করা সম্ভব হচ্ছে।

আরও পড়ুন  পশ্চিমবঙ্গে কোরবানির বিধিনিষেধে আতঙ্কে মুসলিম সম্প্রদায়

সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা হলো, এই উদ্যোগটি রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখছে। আগে গভীর জঙ্গলে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা প্রতিনিয়ত যেসব বিপদের সম্মুখীন হতেন, এলপিজি ব্যবহারের ফলে সেই ঝুঁকি এখন অনেকটাই কমে এসেছে।

কী বলছেন সংশ্লিষ্টরা? এই সহায়তা প্রসঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং জানান, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে কানাডা সবসময়ই বাংলাদেশের পাশে আছে। নতুন এই জলবায়ু-বান্ধব অনুদান শুধু শরণার্থীদের দৈনন্দিন জীবনই সহজ করবে না, পাশাপাশি কক্সবাজারের মতো পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় দারুণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন  থালাপতি বিজয়ের সরকার গঠন নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বাস্তুচ্যুত হয়ে থাকা এই মানুষগুলোর জন্য কানাডার এই সহায়তা তাদের জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি আনবে বলে মনে করেন ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ জুলিয়েট মুরেকিইসোনি। অন্যদিকে আইওএম বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন চিফ অব মিশন জ্যাসেপ্পে লোপ্রিটে জানান, এই নিরাপদ জ্বালানি ব্যবস্থা পরিবারগুলোর মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কাঠ সংগ্রহের মতো বিপজ্জনক কাজ থেকে তাদের দূরে রাখছে।

আরও পড়ুন  হাম টিকা ইস্যুতে ড. ইউনূসের ভূমিকা তদন্ত চেয়ে রিট, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দাবি

ভবিষ্যৎ প্রভাব উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে ঘরের ভেতরের বাতাস আগের চেয়ে বিশুদ্ধ হয়েছে এবং রান্নার খরচ কমেছে।

ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম আশা করছে, কানাডার দেওয়া নতুন এই তহবিলের সাহায্যে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ শরণার্থী পরিবারের এলপিজি সুবিধা নিশ্চিত হবে। একইসঙ্গে কক্সবাজারের প্রায় ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষা পাবে, পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমবে এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যকার সংঘাতও অনেকাংশে কমে আসবে।