ঢাকা ১২:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বিদেশে পড়াশোনায় ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়, কেন বাড়ছে খরচ? Logo যশোর বিমানবন্দরে কেন একের পর এক ফ্লাইট বন্ধ হচ্ছে? Logo আদনান আল রাজীবের প্রথম সিনেমা, নায়ক সিয়াম Logo এ আর রহমানের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বাংলাদেশের দুই শিল্পী Logo ঢাকায় কনসার্টে সঞ্জয়-প্রীতম, ফাইনালের আগে বড় চমক Logo একজন পুরুষের যে গুণে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ হন জেনিফার লোপেজ Logo সালমান খান মামলা: বিস্ফোরক টিজারে বড় চমক, কেন গেলেন আদালতে? Logo ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী তালিকা প্রকাশ, সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী কারা! Logo মিরসরাইয়ে চীনের ৩৬৬ কোটি টাকার বস্ত্র কারখানা, হবে ৫৮০ জনের কর্মসংস্থান Logo চাকরি–সংস্কৃতি বদলাচ্ছে: কর্মীর আস্থা ও দক্ষতায় গড়বে সফল প্রতিষ্ঠান

রোহিঙ্গাদের জন্য ১ কোটি ডলার অনুদানের ঘোষণা কানাডার

রোহিঙ্গাদের জন্য ১ কোটি ডলার অনুদানের ঘোষণা কানাডার

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জীবনমান উন্নয়ন এবং নিরাপদ রান্নার পরিবেশ নিশ্চিতে ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার অনুদান দিচ্ছে কানাডা। রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকায় কানাডিয়ান হাইকমিশন এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। এই অনুদানের বিশাল অর্থ যৌথভাবে কাজে লাগাবে ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

বনভূমি রক্ষা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাসের ব্যবহার শুরুর পর থেকে জ্বালানি কাঠের নির্ভরতা প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে শুধু যে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক বনভূমি রক্ষা পাচ্ছে তা নয়, প্রতি বছর প্রায় চার লাখ সাত হাজার টন ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণও রোধ করা সম্ভব হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা হলো, এই উদ্যোগটি রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখছে। আগে গভীর জঙ্গলে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা প্রতিনিয়ত যেসব বিপদের সম্মুখীন হতেন, এলপিজি ব্যবহারের ফলে সেই ঝুঁকি এখন অনেকটাই কমে এসেছে।

কী বলছেন সংশ্লিষ্টরা? এই সহায়তা প্রসঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং জানান, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে কানাডা সবসময়ই বাংলাদেশের পাশে আছে। নতুন এই জলবায়ু-বান্ধব অনুদান শুধু শরণার্থীদের দৈনন্দিন জীবনই সহজ করবে না, পাশাপাশি কক্সবাজারের মতো পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় দারুণ ভূমিকা রাখবে।

দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বাস্তুচ্যুত হয়ে থাকা এই মানুষগুলোর জন্য কানাডার এই সহায়তা তাদের জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি আনবে বলে মনে করেন ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ জুলিয়েট মুরেকিইসোনি। অন্যদিকে আইওএম বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন চিফ অব মিশন জ্যাসেপ্পে লোপ্রিটে জানান, এই নিরাপদ জ্বালানি ব্যবস্থা পরিবারগুলোর মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কাঠ সংগ্রহের মতো বিপজ্জনক কাজ থেকে তাদের দূরে রাখছে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে ঘরের ভেতরের বাতাস আগের চেয়ে বিশুদ্ধ হয়েছে এবং রান্নার খরচ কমেছে।

ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম আশা করছে, কানাডার দেওয়া নতুন এই তহবিলের সাহায্যে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ শরণার্থী পরিবারের এলপিজি সুবিধা নিশ্চিত হবে। একইসঙ্গে কক্সবাজারের প্রায় ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষা পাবে, পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমবে এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যকার সংঘাতও অনেকাংশে কমে আসবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশে পড়াশোনায় ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়, কেন বাড়ছে খরচ?

রোহিঙ্গাদের জন্য ১ কোটি ডলার অনুদানের ঘোষণা কানাডার

Update Time : ০৭:৫৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জীবনমান উন্নয়ন এবং নিরাপদ রান্নার পরিবেশ নিশ্চিতে ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার অনুদান দিচ্ছে কানাডা। রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকায় কানাডিয়ান হাইকমিশন এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। এই অনুদানের বিশাল অর্থ যৌথভাবে কাজে লাগাবে ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

বনভূমি রক্ষা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাসের ব্যবহার শুরুর পর থেকে জ্বালানি কাঠের নির্ভরতা প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে শুধু যে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক বনভূমি রক্ষা পাচ্ছে তা নয়, প্রতি বছর প্রায় চার লাখ সাত হাজার টন ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণও রোধ করা সম্ভব হচ্ছে।

আরও পড়ুন  অভিন্ন লক্ষ্যে দুই শহরে নামছে আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স

সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা হলো, এই উদ্যোগটি রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখছে। আগে গভীর জঙ্গলে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা প্রতিনিয়ত যেসব বিপদের সম্মুখীন হতেন, এলপিজি ব্যবহারের ফলে সেই ঝুঁকি এখন অনেকটাই কমে এসেছে।

কী বলছেন সংশ্লিষ্টরা? এই সহায়তা প্রসঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং জানান, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে কানাডা সবসময়ই বাংলাদেশের পাশে আছে। নতুন এই জলবায়ু-বান্ধব অনুদান শুধু শরণার্থীদের দৈনন্দিন জীবনই সহজ করবে না, পাশাপাশি কক্সবাজারের মতো পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় দারুণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন  বন্যপ্রাণী পাচারকারী গ্রেপ্তার: কক্সবাজারে উদ্ধার ক্যাপড ল্যাঙ্গুর ও ১২ কচ্ছপ

দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বাস্তুচ্যুত হয়ে থাকা এই মানুষগুলোর জন্য কানাডার এই সহায়তা তাদের জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি আনবে বলে মনে করেন ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ জুলিয়েট মুরেকিইসোনি। অন্যদিকে আইওএম বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন চিফ অব মিশন জ্যাসেপ্পে লোপ্রিটে জানান, এই নিরাপদ জ্বালানি ব্যবস্থা পরিবারগুলোর মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কাঠ সংগ্রহের মতো বিপজ্জনক কাজ থেকে তাদের দূরে রাখছে।

আরও পড়ুন  নবজাতক মৃত্যু সহায়তা: আদ্-দ্বীনের নতুন সিদ্ধান্ত কী?

ভবিষ্যৎ প্রভাব উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে ঘরের ভেতরের বাতাস আগের চেয়ে বিশুদ্ধ হয়েছে এবং রান্নার খরচ কমেছে।

ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম আশা করছে, কানাডার দেওয়া নতুন এই তহবিলের সাহায্যে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ শরণার্থী পরিবারের এলপিজি সুবিধা নিশ্চিত হবে। একইসঙ্গে কক্সবাজারের প্রায় ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষা পাবে, পাহাড়ধসের ঝুঁকি কমবে এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যকার সংঘাতও অনেকাংশে কমে আসবে।