ঢাকা ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০ হাজার ছাড়াল দেশে Logo নাঈম হাসানকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা: তদন্ত দাবিতে এবি পার্টির উদ্বেগ Logo রোনালদোর জবাবেই থামল বিতর্ক, বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাসী Logo প্রিমিয়ার লিগে নতুন নিয়ম: চুল টানলেই আর লাল কার্ড নয় Logo সৈয়দ আব্দুল হাদীকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা, দেশপ্রেমের আহ্বানে আবেগঘন সন্ধ্যা Logo মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ, নেইমার ছাড়াই চমক Logo বিশ্বকাপে ভিএআরের নতুন ইতিহাস, ‘ভুল পরিচয়’ শনাক্তে নজির Logo ভিনিসিয়ুসের হুঁশিয়ারি: বিশ্বকাপ জিততেই এসেছে ব্রাজিল Logo পার্ট-টাইম চাকরি: পড়াশোনার পাশাপাশি আয়ের ৫ জনপ্রিয় উপায় Logo টাকা সঞ্চয়ের টিপস: পকেট খালি হলেও গড়ুন সঞ্চয়ের অভ্যাস

শাহবাগে ডাকসু নেতার ওপর হামলা: জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আহত

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:২৯:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৮৩

শাহবাগে ডাকসু নেতার ওপর হামলার সময়ের দৃশ্য | ছবি: সূত্র

শাহবাগে ডাকসু নেতার ওপর হামলা

শাহবাগে ডাকসু নেতার ওপর হামলা ঘটনায় জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আহত হয়েছেন। ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শাহবাগ থানার সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।  ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর শাহবাগ থানা-এর সামনে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে ডাকসুর দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা এ বি জুবায়ের (যুবাইর বিন নেছারী) ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ হামলার শিকার হন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহবাগ থানার সামনে হঠাৎ করেই উত্তেজনা তৈরি হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিককে উদ্ধার করে থানার ভেতরে নেওয়া হয় এবং নিরাপত্তার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে রাখা হয়।

এ বি জুবায়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-এর সমাজসেবা সম্পাদক এবং মুসাদ্দিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত বছরের ডাকসু নির্বাচনে তারা ইসলামী ছাত্রশিবির-এর সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হন। ফলে এই হামলার ঘটনাটি ছাত্ররাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার পরপরই ইসলামী ছাত্রশিবির অভিযোগ করে যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর নেতা–কর্মীরা বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ।

শাহবাগে ডাকসু নেতার ওপর হামলার সময়ের দৃশ্য
শাহবাগে ডাকসু নেতার ওপর হামলার সময়ের দৃশ্য | ছবি: সূত্র

অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তারা বলছে, একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই পোস্টে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। এরই প্রেক্ষিতে শাহবাগ থানায় জড়ো হওয়া শিক্ষার্থী ও বিক্ষুব্ধ জনতার মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ছাত্রদলের একজন নেতা দাবি করেন, তারা সরাসরি হামলায় অংশ নেয়নি, বরং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে। এমনকি তাদের কয়েকজন নেতা নাকি হামলার হাত থেকে ভুক্তভোগীদের রক্ষার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। তবে এই দাবির বিপরীতে ছাত্রশিবির বলছে, হামলার মূল হোতারা ছিল ছাত্রদলের কর্মীরাই।

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একটি ভুয়া ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়া। ইসলামী ছাত্রশিবিরের দাবি, ওই পোস্টটি তাদের কোনো কর্মী দেয়নি, বরং অন্য একটি আইডি থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং পরে সেটিকে তাদের সদস্যের নামে প্রচার করা হয়। এই ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে তা গ্রহণে বিলম্ব করা হয়। এতে করে ক্ষোভ আরও বাড়ে এবং থানার সামনেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সময় থানার সামনে বিপুল সংখ্যক লোক জড়ো হয়, যার মধ্যে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী এবং সাধারণ মানুষও ছিলেন। এতে করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং যান চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।

রাতের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা নেয়। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে আহতদের থানার পাশের গেট দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমানে এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কে বা কারা প্রকৃতপক্ষে এই হামলার জন্য দায়ী—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যই এই ঘটনার মূল কারণ হতে পারে।

সব মিলিয়ে, শাহবাগে ডাকসু নেতার ওপর হামলা ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি দেশের ক্যাম্পাস রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতির একটি প্রতিচ্ছবি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে এড়াতে হলে পারস্পরিক সহনশীলতা এবং তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০ হাজার ছাড়াল দেশে

শাহবাগে ডাকসু নেতার ওপর হামলা: জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আহত

Update Time : ১১:২৯:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

শাহবাগে ডাকসু নেতার ওপর হামলা

শাহবাগে ডাকসু নেতার ওপর হামলা ঘটনায় জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আহত হয়েছেন। ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শাহবাগ থানার সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।  ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর শাহবাগ থানা-এর সামনে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে ডাকসুর দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা এ বি জুবায়ের (যুবাইর বিন নেছারী) ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ হামলার শিকার হন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহবাগ থানার সামনে হঠাৎ করেই উত্তেজনা তৈরি হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিককে উদ্ধার করে থানার ভেতরে নেওয়া হয় এবং নিরাপত্তার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে রাখা হয়।

এ বি জুবায়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-এর সমাজসেবা সম্পাদক এবং মুসাদ্দিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত বছরের ডাকসু নির্বাচনে তারা ইসলামী ছাত্রশিবির-এর সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হন। ফলে এই হামলার ঘটনাটি ছাত্ররাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন  নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, ঝিনাইদহে ৮ জনের নামে মামলা দায়ের

ঘটনার পরপরই ইসলামী ছাত্রশিবির অভিযোগ করে যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর নেতা–কর্মীরা বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ।

শাহবাগে ডাকসু নেতার ওপর হামলার সময়ের দৃশ্য
শাহবাগে ডাকসু নেতার ওপর হামলার সময়ের দৃশ্য | ছবি: সূত্র

অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তারা বলছে, একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই পোস্টে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। এরই প্রেক্ষিতে শাহবাগ থানায় জড়ো হওয়া শিক্ষার্থী ও বিক্ষুব্ধ জনতার মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ছাত্রদলের একজন নেতা দাবি করেন, তারা সরাসরি হামলায় অংশ নেয়নি, বরং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছে। এমনকি তাদের কয়েকজন নেতা নাকি হামলার হাত থেকে ভুক্তভোগীদের রক্ষার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। তবে এই দাবির বিপরীতে ছাত্রশিবির বলছে, হামলার মূল হোতারা ছিল ছাত্রদলের কর্মীরাই।

আরও পড়ুন  নারী সেজে টিকটক করা ছাত্রদল নেতা রেদোয়ান বহিষ্কার

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একটি ভুয়া ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়া। ইসলামী ছাত্রশিবিরের দাবি, ওই পোস্টটি তাদের কোনো কর্মী দেয়নি, বরং অন্য একটি আইডি থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং পরে সেটিকে তাদের সদস্যের নামে প্রচার করা হয়। এই ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে তা গ্রহণে বিলম্ব করা হয়। এতে করে ক্ষোভ আরও বাড়ে এবং থানার সামনেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সময় থানার সামনে বিপুল সংখ্যক লোক জড়ো হয়, যার মধ্যে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী এবং সাধারণ মানুষও ছিলেন। এতে করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং যান চলাচলেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।

আরও পড়ুন  গণভোটের রায় অস্বীকার করছে সরকার, সংকটের আশঙ্কা: মিয়া গোলাম পরওয়ার

রাতের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা নেয়। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে আহতদের থানার পাশের গেট দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

বর্তমানে এই ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কে বা কারা প্রকৃতপক্ষে এই হামলার জন্য দায়ী—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যই এই ঘটনার মূল কারণ হতে পারে।

সব মিলিয়ে, শাহবাগে ডাকসু নেতার ওপর হামলা ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি দেশের ক্যাম্পাস রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতির একটি প্রতিচ্ছবি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে এড়াতে হলে পারস্পরিক সহনশীলতা এবং তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।