যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বিশ্ববাসীকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার দূরদর্শী নেতৃত্বে সিরিয়া এখন ‘খুবই স্থিতিশীল’ এবং একটি ইতিবাচক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই বৈরী কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় আয়োজিত ন্যাটো সম্মেলনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাঁকে আল-শারার সঙ্গে এক সফল বৈঠকের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বড় ঘোষণাটি দেন। দুই নেতার মধ্যকার এই বৈঠকটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল এবং আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প জানান যে, বর্তমান পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে লেবানন এবং হিজবুল্লাহ-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিল আঞ্চলিক ইস্যুতে সিরিয়া রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে দারুণভাবে সহযোগিতা করতে পারে।
একই সঙ্গে ট্রাম্প আরও বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি মধ্যস্থতায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি যদি ঠিকঠাকভাবে কার্যকর থাকে, তবে খুব দ্রুতই দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পথ সুগম হবে। এই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য সিরিয়ার বর্তমান প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে হোয়াইট হাউজ। আঙ্কারার এই বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা সম্পন্ন হয়।
গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সিরিয়ার ওপর থেকে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং দামেস্কের প্রতি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের একপেশে নীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, মার্কিন প্রশাসনের এই ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের জন্য সিরিয়ার সাধারণ জনগণ দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পাবে এবং তারা এই পদক্ষেপের জন্য অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।
সাবেক একনায়ক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের নাটকীয় পতনের পর সিরিয়ার ওপর আরোপিত বেশিরভাগ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইতোমধ্যে তুলে নেওয়া হলেও, ১৯৭৯ সাল থেকে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ তালিকায় বন্দি ছিল। এই তালিকায় থাকার কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সিরিয়া এতদিন চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। ট্রাম্পের এই নতুন এবং আকস্মিক ঘোষণার ফলে অবশেষে সিরিয়ার সেই দীর্ঘমেয়াদি বন্দি অবস্থার আমূল পরিবর্তনের ১টি বাস্তব পথ তৈরি হতে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সন্ত্রাসে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম বাদ পড়ার এই প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব পুনর্প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করবে। এর ফলে সিরিয়া পুনর্গঠনের কাজে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এগিয়ে আসতে পারবে। আহমেদ আল-শারার নতুন সরকারকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের এই ঘোষণাটি একটি অন্যতম মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


























