ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মেট্রোরেল কমলাপুর: ২০২৭ সালের এপ্রিলে চালুর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য Logo সকালের নাস্তায় সেদ্ধ ডিম কেন খাবেন? জানুন চমকপ্রদ স্বাস্থ্য উপকারিতা Logo ফরিদপুরে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুই বন্ধুর Logo আড়াইহাজারে বিএনপি নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যকর্মীকে মারধরের অভিযোগ Logo বলিউডে নারী–পুরুষের বৈষম্য নিয়ে মুখ খুললেন কৃতি স্যানন Logo নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে তরুণকে খুঁটিতে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা Logo চীন-রাশিয়া যৌথ সামরিক মহড়া শুরু ৬ জুলাই Logo পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তাকে বদলি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রজ্ঞাপন Logo আমিনবাজারে ময়লা অপসারণে ৩০ দিনের আল্টিমেটাম Logo আলফা বক্স অফিস: দুর্দান্ত আয়েও থামছে না সমালোচনা

ট্রাম্প–পুতিন ফোনালাপ, জেলেনস্কির সঙ্গেও কী কথা হলো?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:৫১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৩

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ফোনালাপে ট্রাম্প, পুতিন ও জেলেনস্কি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান নিয়ে পৃথকভাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। প্রায় ৯০ মিনিটের ফোনালাপে ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধে সহায়তার প্রস্তাব দেন। অন্যদিকে জেলেনস্কি ফোনালাপকে ‘খুবই ভালো’ উল্লেখ করে যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সহযোগী ইউরি উশাকভ জানান, শনিবার ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে দীর্ঘ ফোনালাপ হয়। আগামী সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর কূটনৈতিক গুরুত্বও বাড়িয়েছে।

উশাকভের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প আবারও ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার এবং সংকটের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আলোচনাটি ছিল ‘বেশ গঠনমূলক’ এবং দুই নেতা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে খোলামেলা মতবিনিময় করেছেন।

পুতিন ট্রাম্পকে জানান, রাশিয়া এখনো ইউক্রেন সংকটের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান চায়। তবে সেটি অবশ্যই রাশিয়ার মৌলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবস্থান বিবেচনায় রেখেই হতে হবে।

একই সঙ্গে উশাকভ অভিযোগ করেন, ইউক্রেন এবং তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, তারা রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি হামলার লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার তেলশিল্প-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা। এসব হামলার কারণে কয়েকটি অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটেছে বলে দাবি করেছে মস্কো।

ফোনালাপে পুতিন আরও বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনী ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর হচ্ছে এবং নতুন নতুন এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে। তাঁর দাবি, রাশিয়ার সামরিক অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে।

রাশিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা শুক্রবার দাবি করেন, পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ানতিনিভকা রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, শহরটির নিয়ন্ত্রণ এখনো ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতেই রয়েছে এবং রাশিয়ার দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

রাশিয়া আগেই জানিয়ে রেখেছে, যুদ্ধের যেকোনো রাজনৈতিক সমাধানের অংশ হিসেবে পুরো দনবাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ মস্কোর হাতে দিতে হবে। তবে ইউক্রেন সেই দাবি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

উশাকভ জানান, ফোনালাপে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। প্রয়োজন হলে তাঁরা আবারও মস্কো সফরে যেতে প্রস্তুত।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটনের প্রধান মনোযোগ বর্তমানে ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক সংকটের দিকে সরে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

এদিকে শনিবারই প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও ট্রাম্পের সঙ্গে পৃথক ফোনালাপ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, দুই নেতার আলোচনা ছিল ‘খুবই ভালো’ এবং ফলপ্রসূ।

জেলেনস্কি বলেন, প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ যুদ্ধফ্রন্টের সর্বশেষ পরিস্থিতি, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই যুদ্ধের অবসান হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তাঁর মতে, ওয়াশিংটনের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে।

জেলেনস্কি জানান, আগামী ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ শান্তি উদ্যোগ নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা চালিয়ে যেতে দুই নেতা একমত হয়েছেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিন ও জেলেনস্কির পৃথক ফোনালাপ এমন এক সময়ে হলো, যখন যুদ্ধের ময়দানে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো অনিশ্চিত। তবে এই ধারাবাহিক যোগাযোগকে ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেট্রোরেল কমলাপুর: ২০২৭ সালের এপ্রিলে চালুর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ট্রাম্প–পুতিন ফোনালাপ, জেলেনস্কির সঙ্গেও কী কথা হলো?

Update Time : ০৬:৫১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান নিয়ে পৃথকভাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। প্রায় ৯০ মিনিটের ফোনালাপে ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধে সহায়তার প্রস্তাব দেন। অন্যদিকে জেলেনস্কি ফোনালাপকে ‘খুবই ভালো’ উল্লেখ করে যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সহযোগী ইউরি উশাকভ জানান, শনিবার ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে দীর্ঘ ফোনালাপ হয়। আগামী সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর কূটনৈতিক গুরুত্বও বাড়িয়েছে।

উশাকভের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প আবারও ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার এবং সংকটের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আলোচনাটি ছিল ‘বেশ গঠনমূলক’ এবং দুই নেতা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে খোলামেলা মতবিনিময় করেছেন।

পুতিন ট্রাম্পকে জানান, রাশিয়া এখনো ইউক্রেন সংকটের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান চায়। তবে সেটি অবশ্যই রাশিয়ার মৌলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবস্থান বিবেচনায় রেখেই হতে হবে।

একই সঙ্গে উশাকভ অভিযোগ করেন, ইউক্রেন এবং তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, তারা রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি হামলার লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার তেলশিল্প-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা। এসব হামলার কারণে কয়েকটি অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটেছে বলে দাবি করেছে মস্কো।

ফোনালাপে পুতিন আরও বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনী ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর হচ্ছে এবং নতুন নতুন এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে। তাঁর দাবি, রাশিয়ার সামরিক অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে।

রাশিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা শুক্রবার দাবি করেন, পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ানতিনিভকা রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, শহরটির নিয়ন্ত্রণ এখনো ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতেই রয়েছে এবং রাশিয়ার দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

রাশিয়া আগেই জানিয়ে রেখেছে, যুদ্ধের যেকোনো রাজনৈতিক সমাধানের অংশ হিসেবে পুরো দনবাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ মস্কোর হাতে দিতে হবে। তবে ইউক্রেন সেই দাবি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

উশাকভ জানান, ফোনালাপে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। প্রয়োজন হলে তাঁরা আবারও মস্কো সফরে যেতে প্রস্তুত।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটনের প্রধান মনোযোগ বর্তমানে ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক সংকটের দিকে সরে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

এদিকে শনিবারই প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও ট্রাম্পের সঙ্গে পৃথক ফোনালাপ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, দুই নেতার আলোচনা ছিল ‘খুবই ভালো’ এবং ফলপ্রসূ।

জেলেনস্কি বলেন, প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ যুদ্ধফ্রন্টের সর্বশেষ পরিস্থিতি, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই যুদ্ধের অবসান হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তাঁর মতে, ওয়াশিংটনের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে।

জেলেনস্কি জানান, আগামী ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ শান্তি উদ্যোগ নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা চালিয়ে যেতে দুই নেতা একমত হয়েছেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিন ও জেলেনস্কির পৃথক ফোনালাপ এমন এক সময়ে হলো, যখন যুদ্ধের ময়দানে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো অনিশ্চিত। তবে এই ধারাবাহিক যোগাযোগকে ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।