ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অংশ নেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের দূতাবাস। রোববার (৫ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত বলেন, খামেনির জানাজায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে, তা দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন। এ জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও বৈঠকে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে বাংলাদেশের গভীর শোক পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের জনগণ ইরানের জনগণের পাশে রয়েছে এবং তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা ছাড়া এ অঞ্চলের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। তাই বিরোধ নিরসনে আলোচনার বিকল্প নেই।
সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ইরানের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়। উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং কূটনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে।
বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতেও দুই দেশ নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে আসছে। সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক সৌজন্য বিনিময় ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শোকের মুহূর্তে এক দেশের প্রতি অন্য দেশের সহমর্মিতা ও সংহতি প্রকাশ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি সেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কেরই একটি প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রদূতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শোক ও সংহতির বার্তা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

























