সাজেক ভ্যালি বন্ধ ঘোষণা করেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন। টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ধসের আশঙ্কা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্রে সব ধরনের ভ্রমণ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্ণফুলী নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে চন্দ্রঘোনা-রাইখালী নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ সময় সাজেকের সব পর্যটন স্পট, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, ভিউ পয়েন্ট এবং দুর্গম এলাকায় প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। শুধু পর্যটকই নন, ট্যুর অপারেটর, গাইড এবং অন্যান্য দর্শনার্থীদেরও এসব এলাকায় না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পার্বত্য অঞ্চলে আরও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় যেকোনো সময় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এমন পরিস্থিতিতে পাহাড়ি সড়ক ধসে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে কর্ণফুলী নদীতে পানির প্রবল স্রোতের কারণে চন্দ্রঘোনা-রাইখালী নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নদীর স্রোত স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফেরি চালু করা সম্ভব হবে না। এতে দুই জেলার বাসিন্দা ও পণ্য পরিবহনেও সাময়িক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশনা বহাল থাকবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি পর্যটকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি স্থানীয়দেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সাজেক ভ্যালি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হওয়ায় প্রতিদিন শত শত পর্যটক এখানে ভ্রমণে আসেন। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারী বৃষ্টির সময় পাহাড়ধস, সড়ক ভেঙে যাওয়া এবং আকস্মিক জলপ্রবাহের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। তাই প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাজেকে ভ্রমণের পরিকল্পনা স্থগিত রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।




























