ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘লোকে বলে প্রেম আমি বলি জ্বালা’, আত্মজীবনী নিয়ে এলেন ফেরদৌসী রহমান

শিল্পী ফেরদৌসী রহমান। ছবি - সংগৃহীত

বাংলা সংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি শিল্পী ফেরদৌসী রহমানের আত্মজীবনী ‘লোকে বলে প্রেম আমি বলি জ্বালা’ অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোর মুখ দেখেছে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন সংগীতের ইতিহাস  কাঁপানো গুণীজনেরা।

নিজের জনপ্রিয় একটি গানের বিখ্যাত লাইন থেকে এই বইয়ের নামকরণ করার পেছনে চমৎকার এক ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই গুণী সংগীতশিল্পী। সংগীতের প্রতি ভালোবাসাটাই তাঁর কাছে আসল ‘প্রেম’, আর সেই ভালোবাসার সাধনাকে ধরে রাখতে যে নিরন্তর ত্যাগ ও তীব্র পরিশ্রম করতে হয়েছে, সেটিকেই তিনি মধুর ‘জ্বালা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

এই মূল্যবান বইটিতে শুধু তাঁর একক সংগীত জীবনের গল্পই নয়, বরং পুরনো ঢাকার হারিয়ে যাওয়া বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য ও চমৎকার সব সামাজিক রীতিনীতির চিত্র ফুটে উঠেছে। দেশভাগের আগে কুচবিহারে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী তাঁর বাবা পল্লীগীতি সম্রাট আব্বাসউদ্দীন আহমদের হাত ধরে বাংলা সংগীত চর্চা শুরু করার দারুণ সব গল্প তুলে ধরেছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত তাঁর দীর্ঘদিনের পরম সুহৃদ ও সহশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদি জানান, ১৯৬5 সালে ‘ডাকবাবু’ চলচ্চিত্রে প্রথমবার দ্বৈত কণ্ঠে গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁদের দীর্ঘ পেশাদার সম্পর্কের যাত্রা তৈরি হয়েছিল। আব্বাসউদ্দীন আহমদের সুযোগ্য কন্যা হওয়ায় উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞদের খুব কাছ থেকে সান্নিধ্য পেয়েছিলেন তিনি, যা তাঁর শিল্পীমনকে ভীষণ সমৃদ্ধ করেছে।

অন্যতম সেরা কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা গুণী এই শিল্পীকে বাংলা গানের ‘হিমালয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। আধুনিক গান, নজরুলসংগীত, ধ্রুপদী গান থেকে শুরু করে পল্লীগীতি—সব ধারার সংগীতে তাঁর সমান দক্ষতা ও পারদর্শিতা সত্যিই পুরো উপমহাদেশে এক বিরল দৃষ্টান্ত।

বিটিভির তুমুল জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘এসো গান শিখি’-র ‘খালার’ পরিচয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পাওয়া এই শিল্পী জাতীয় জীবনে একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ফেরদৌসী রহমানের আত্মজীবনী প্রকাশের মাধ্যমে এবার পাঠক সমাজ এক সুদীর্ঘ কালজয়ী সংগীত অধ্যায়, এক অনন্য ঢাকা এবং তৎকালীন সময়ের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক স্মৃতি অবলোকন করতে পারবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘লোকে বলে প্রেম আমি বলি জ্বালা’, আত্মজীবনী নিয়ে এলেন ফেরদৌসী রহমান

Update Time : ০৬:২৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

বাংলা সংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি শিল্পী ফেরদৌসী রহমানের আত্মজীবনী ‘লোকে বলে প্রেম আমি বলি জ্বালা’ অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোর মুখ দেখেছে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন সংগীতের ইতিহাস  কাঁপানো গুণীজনেরা।

নিজের জনপ্রিয় একটি গানের বিখ্যাত লাইন থেকে এই বইয়ের নামকরণ করার পেছনে চমৎকার এক ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই গুণী সংগীতশিল্পী। সংগীতের প্রতি ভালোবাসাটাই তাঁর কাছে আসল ‘প্রেম’, আর সেই ভালোবাসার সাধনাকে ধরে রাখতে যে নিরন্তর ত্যাগ ও তীব্র পরিশ্রম করতে হয়েছে, সেটিকেই তিনি মধুর ‘জ্বালা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

আরও পড়ুন  গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিতে যোগদান

এই মূল্যবান বইটিতে শুধু তাঁর একক সংগীত জীবনের গল্পই নয়, বরং পুরনো ঢাকার হারিয়ে যাওয়া বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য ও চমৎকার সব সামাজিক রীতিনীতির চিত্র ফুটে উঠেছে। দেশভাগের আগে কুচবিহারে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী তাঁর বাবা পল্লীগীতি সম্রাট আব্বাসউদ্দীন আহমদের হাত ধরে বাংলা সংগীত চর্চা শুরু করার দারুণ সব গল্প তুলে ধরেছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত তাঁর দীর্ঘদিনের পরম সুহৃদ ও সহশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদি জানান, ১৯৬5 সালে ‘ডাকবাবু’ চলচ্চিত্রে প্রথমবার দ্বৈত কণ্ঠে গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁদের দীর্ঘ পেশাদার সম্পর্কের যাত্রা তৈরি হয়েছিল। আব্বাসউদ্দীন আহমদের সুযোগ্য কন্যা হওয়ায় উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞদের খুব কাছ থেকে সান্নিধ্য পেয়েছিলেন তিনি, যা তাঁর শিল্পীমনকে ভীষণ সমৃদ্ধ করেছে।

আরও পড়ুন  আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ৬ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

অন্যতম সেরা কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা গুণী এই শিল্পীকে বাংলা গানের ‘হিমালয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। আধুনিক গান, নজরুলসংগীত, ধ্রুপদী গান থেকে শুরু করে পল্লীগীতি—সব ধারার সংগীতে তাঁর সমান দক্ষতা ও পারদর্শিতা সত্যিই পুরো উপমহাদেশে এক বিরল দৃষ্টান্ত।

বিটিভির তুমুল জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘এসো গান শিখি’-র ‘খালার’ পরিচয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পাওয়া এই শিল্পী জাতীয় জীবনে একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ফেরদৌসী রহমানের আত্মজীবনী প্রকাশের মাধ্যমে এবার পাঠক সমাজ এক সুদীর্ঘ কালজয়ী সংগীত অধ্যায়, এক অনন্য ঢাকা এবং তৎকালীন সময়ের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক স্মৃতি অবলোকন করতে পারবেন।

আরও পড়ুন  আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে আদালত: ডা. জাহেদ