পুঁজিবাজার কারসাজি দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে সরকার বলেছে, অতীতে অনিয়ম ও কারসাজির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া হাজারো বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ধারাবাহিক সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সংসদে উল্লেখ করা হয়।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২১তম কার্যদিবসে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে। তদন্তে কয়েকজন অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার জন্য অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
সরকারপ্রধান জানান, পুঁজিবাজারে কারসাজির দায়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করেছে। শুধু জরিমানাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে অধিকতর তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের তালিকাও দুদকের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কেউ যেন আইনের বাইরে থাকতে না পারে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতের পুঁজিবাজার বিপর্যয়ের পেছনে একাধিক কারণ ছিল। এর মধ্যে শেয়ারদরের কৃত্রিম নিয়ন্ত্রণ, আইপিও ও বন্ড ইস্যুতে অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল তদারকি, করপোরেট সুশাসনের অভাব, আর্থিক তথ্য প্রকাশে অস্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ, বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা, নীতিগত অসামঞ্জস্য এবং পুঁজিবাজারবান্ধব করনীতির ঘাটতির বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়। এসব সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগও সংসদে তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে বিএসইসিতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ, বিনিয়োগে বাধা কমাতে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, লাভজনক সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে উৎসাহ দেওয়া, ভালো মৌলভিত্তির ও এসএমই কোম্পানিকে বাজারে আনার উদ্যোগ এবং বাজার কারসাজি রোধে তথ্যদাতাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাজারকে আরও কার্যকর ও বিনিয়োগবান্ধব করতে সহায়ক হবে বলে সরকারের প্রত্যাশা।
বর্তমানে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সরকার আশা করছে, চলমান তদন্ত, আইনগত ব্যবস্থা এবং সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে বাজারে আস্থা ফিরবে এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে উঠবে। এতে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।




























