শহরের ব্যস্ত জীবনে ঘর যতই পরিষ্কার করা হোক না কেন, ধুলাবালির সমস্যা যেন লেগেই থাকে। তবে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে ঘরে ধুলাবালি জমার পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষ করে জুতা বাইরে রাখা, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জানালা ব্যবহারে সচেতনতা এবং কাপড়-চোপড় ধোয়ার অভ্যাস ঘরকে দীর্ঘ সময় পরিচ্ছন্ন রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
কেন ঘরে বেশি ধুলাবালি জমে?
শহরের যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজ, খোলা জানালা এবং প্রতিদিনের যাতায়াতের মাধ্যমে ধুলাবালি সহজেই ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। এছাড়া নিয়মিত ফ্যান, এসি বা পর্দা পরিষ্কার না করলে ধুলা দ্রুত জমে এবং বাতাসের সঙ্গে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘর ধুলাবালিমুক্ত রাখতে যা করবেন
- জুতা বাইরে রাখুন: ফ্ল্যাটের মূল দরজার বাইরে জুতার র্যাক বা আলমারি রাখুন। বাইরে থেকে ফিরে জুতা খুলে তারপর ঘরে প্রবেশ করুন।
- দুই পাশে পাপোশ ব্যবহার করুন: দরজার বাইরে ও ভেতরে পাপোশ রাখলে পায়ের সঙ্গে আসা ধুলাবালি অনেকটাই আটকে যায়।
- সপ্তাহে একদিন ডিপ ক্লিন করুন: পুরো ঘর ঝাড়ু দিয়ে সাবান-পানি বা উপযুক্ত ক্লিনার দিয়ে মুছে নিন। অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলুন।
- বের হওয়ার সময় জানালা বন্ধ রাখুন: দিনের বেলায় বাইরে গেলে জানালা ও বারান্দার দরজা বন্ধ রাখলে বাইরের ধুলা কম প্রবেশ করবে।
- প্রতিদিন আসবাব মুছুন: টেবিল, শেলফ, আলমারি ও অন্যান্য আসবাব প্রতিদিন একবার ভেজা কাপড়ে মুছে নিলে ধুলা জমতে পারে না।
- রাস্তার পাশের জানালা কম খুলুন: যেসব জানালা সরাসরি রাস্তার দিকে, সেগুলো প্রয়োজন ছাড়া খোলা না রাখাই ভালো।
- জানালার পাশে গাছ রাখুন: ছোট টবের গাছ ধুলার একটি অংশ আটকে রাখতে সাহায্য করে এবং ঘরের পরিবেশও সতেজ রাখে।
- ফ্যান ও এসি পরিষ্কার রাখুন: নিয়মিত পরিষ্কার না করলে এগুলো থেকেই ঘরে ধুলা ছড়িয়ে পড়ে।
- কাপড় ও পর্দা নিয়মিত ধুয়ে নিন: সপ্তাহে একবার বিছানার চাদর, বালিশের কভার, কুশন কভার ও টেবিল ক্লথ ধুয়ে ফেলুন। মাসে অন্তত একবার পর্দা পরিষ্কার করুন।
- কার্পেটের বদলে পাটি ব্যবহার করুন: কার্পেটে বেশি ধুলা জমে, তাই সম্ভব হলে পাটি ব্যবহার করলে পরিষ্কার রাখা সহজ হয়।
নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসই সমাধান
ধুলাবালি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে এর প্রভাব অনেকটাই কমানো যায়। প্রতিদিন অল্প সময় ব্যয় করে ঘর পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুললে ঘর যেমন সুন্দর থাকবে, তেমনি পরিবারের সদস্যদেরও ধুলাজনিত অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি কমবে।
























