ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ফল প্রকাশের আগেই ওয়েবসাইটে আপলোড, কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সুপারিশ Logo যৌন নিপীড়ন মামলায় ট্রাম্পের বড় ধাক্কা, ৫০ লাখ ডলার দিতে নির্দেশ Logo সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ তালিকা থেকে সরানোর ঘোষণা ট্রাম্পের Logo অন্তর্বর্তী সরকারের সেই বিতর্কিত প্রকল্প বাতিল Logo মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও যে ৭ খাবার আপনি নিরাপদে খেতে পারবেন Logo ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ফরেন ল্যাংগুয়েজ সেন্টারের উদ্বোধন Logo উড়ন্ত বিমানে হঠাৎ দরজা খুলে ঝাঁপ দিলেন আর্জেন্টাইন পাইলট Logo ৫১ বছরে কনকর্ড: বাংলাদেশের অবকাঠামো ও আধুনিকায়নের গৌরবময় পথচলা Logo বাংলাদেশে আসছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী Logo তত্ত্বাবধায়ক-গণভোট ফেরানোর রায় বহাল, বাকি সুরাহা সংসদে

টাঙ্গাইলে জঙ্গল থেকে নবজাতক উদ্ধার

বাসাইল উপজেলার জঙ্গল থেকে জীবিত নবজাতক উদ্ধারের স্থান। ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নে সড়কের পাশের একটি জঙ্গল থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এক নবজাতক কন্যাশিশুকে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বিয়ালা মাদরাসার পূর্বপাশের জঙ্গল থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

কান্নার শব্দ শুনেই উদ্ধার

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসাইল-টাঙ্গাইল সড়কের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জঙ্গল থেকে নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনতে পান কয়েকজন পথচারী। বিষয়টি আশপাশের মানুষকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি কন্যাশিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

শরীরজুড়ে ছিল পিঁপড়া

শিশুটিকে উদ্ধারকারী স্থানীয় বাসিন্দা শারমিন বেগম জানান, প্রথমে তিনি জঙ্গল থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পান। পরে তার ভাগ্নেকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গিয়ে নবজাতকটিকে উদ্ধার করেন।

তার ভাষায়, “শিশুটির পুরো শরীরে পিঁপড়া ছিল। আমরা দ্রুত তাকে কোলে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাই। একটু দেরি হলে হয়তো বড় ধরনের বিপদ হতে পারত।”

হাসপাতালে ছুটে যান ইউএনও

ঘটনার খবর পেয়ে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল হোসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান এবং শিশুটির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। পরে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে উন্নত চিকিৎসার জন্য নবজাতকটিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ইউএনও জানান, শিশুটির মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে।

কে রেখে গেছে, জানা যায়নি

এখন পর্যন্ত কে বা কারা নবজাতকটিকে জঙ্গলে ফেলে গেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় আশপাশের এলাকার তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত করা হবে।

সমাজসেবা বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকবে শিশু

শিশুটি বর্তমানে উপজেলা সমাজসেবা বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রয়োজনে শিশুটিকে সরকারি শিশু সুরক্ষা কেন্দ্র বা অনুমোদিত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হতে পারে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তার অভিভাবকত্ব বা পুনর্বাসনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের মানবিক উদ্যোগ

এ ঘটনায় স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করছেন অনেকেই। সময়মতো কান্নার শব্দ শুনে উদ্ধার না করা হলে নবজাতকটির জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারত বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

শিশু পরিত্যাগ আইনত দণ্ডনীয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, নবজাতককে পরিত্যাগ করা শুধু অমানবিকই নয়, এটি আইনগতভাবেও অপরাধ। কোনো পরিবার যদি নবজাতককে লালন-পালন করতে অসমর্থ হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা বা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনসম্মত সহায়তা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে শিশুটির প্রকৃত পরিচয় এবং কী পরিস্থিতিতে তাকে জঙ্গলে ফেলে যাওয়া হয়েছিল, তা উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফল প্রকাশের আগেই ওয়েবসাইটে আপলোড, কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সুপারিশ

টাঙ্গাইলে জঙ্গল থেকে নবজাতক উদ্ধার

Update Time : ০৯:৪৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নে সড়কের পাশের একটি জঙ্গল থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এক নবজাতক কন্যাশিশুকে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বিয়ালা মাদরাসার পূর্বপাশের জঙ্গল থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

কান্নার শব্দ শুনেই উদ্ধার

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসাইল-টাঙ্গাইল সড়কের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জঙ্গল থেকে নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনতে পান কয়েকজন পথচারী। বিষয়টি আশপাশের মানুষকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি কন্যাশিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

শরীরজুড়ে ছিল পিঁপড়া

শিশুটিকে উদ্ধারকারী স্থানীয় বাসিন্দা শারমিন বেগম জানান, প্রথমে তিনি জঙ্গল থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পান। পরে তার ভাগ্নেকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গিয়ে নবজাতকটিকে উদ্ধার করেন।

আরও পড়ুন  টিসিবির পণ্য নিম্নমানের—অভিযোগ উপকারভোগীদের

তার ভাষায়, “শিশুটির পুরো শরীরে পিঁপড়া ছিল। আমরা দ্রুত তাকে কোলে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাই। একটু দেরি হলে হয়তো বড় ধরনের বিপদ হতে পারত।”

হাসপাতালে ছুটে যান ইউএনও

ঘটনার খবর পেয়ে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল হোসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান এবং শিশুটির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। পরে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে উন্নত চিকিৎসার জন্য নবজাতকটিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ইউএনও জানান, শিশুটির মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প: ধ্বংসস্তূপ থেকে নবজাতক উদ্ধার

কে রেখে গেছে, জানা যায়নি

এখন পর্যন্ত কে বা কারা নবজাতকটিকে জঙ্গলে ফেলে গেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় আশপাশের এলাকার তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত করা হবে।

সমাজসেবা বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকবে শিশু

শিশুটি বর্তমানে উপজেলা সমাজসেবা বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রয়োজনে শিশুটিকে সরকারি শিশু সুরক্ষা কেন্দ্র বা অনুমোদিত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হতে পারে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তার অভিভাবকত্ব বা পুনর্বাসনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন  যাত্রাবাড়ী ও মুগদা এলাকায় ২৯ জন গ্রেপ্তার

স্থানীয়দের মানবিক উদ্যোগ

এ ঘটনায় স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করছেন অনেকেই। সময়মতো কান্নার শব্দ শুনে উদ্ধার না করা হলে নবজাতকটির জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারত বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

শিশু পরিত্যাগ আইনত দণ্ডনীয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, নবজাতককে পরিত্যাগ করা শুধু অমানবিকই নয়, এটি আইনগতভাবেও অপরাধ। কোনো পরিবার যদি নবজাতককে লালন-পালন করতে অসমর্থ হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা বা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনসম্মত সহায়তা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে শিশুটির প্রকৃত পরিচয় এবং কী পরিস্থিতিতে তাকে জঙ্গলে ফেলে যাওয়া হয়েছিল, তা উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।