সরকারি রাস্তা দখল ঘিরে ফরিদপুরের একটি গ্রামে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর ধরে ব্যবহৃত একটি সরকারি মাটির রাস্তার অংশ দখল করে সেখানে ঘর ও পাকা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে এলাকার প্রায় ১০০টি পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের সাব্বির খানের বাড়ি থেকে মমিন খানের বাড়ি পর্যন্ত সরকারি এই রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর প্রধান চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। স্থানীয়দের দাবি, রাস্তাটি উন্নয়নের জন্য সরকারি উদ্যোগে ইট বসানোর পরিকল্পনাও ছিল। তাই এটি শুধু একটি গ্রামের রাস্তা নয়, পুরো এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ।
লিখিত অভিযোগে শাহিন বেপারী উল্লেখ করেন, একই গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে সরকারি রাস্তা দখল করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করছেন। অভিযোগে ইদ্রিস বেপারী, সোনা মীর, কালাম মীর ও সালাম মীরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রাস্তার অংশ দখল করে পাকা দেয়াল ও ঘর নির্মাণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এতে রাস্তার প্রস্থ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। এলাকাবাসী সরকারি রাস্তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা দ্রুত প্রকাশ করা প্রয়োজন। তারা মনে করছেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে আর কেউ সরকারি জমি বা রাস্তা দখল করতে না পারে, সে বিষয়েও নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত আনজুম পিয়া জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, জনগণের চলাচলের রাস্তার ওপর কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে জনগণের চলাচলের জন্য রাস্তা উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



























