প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফল নিয়ে ভজঘট লাগানোর অভিযোগে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর সুপারিশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ঘটনাটি সঠিকভাবে তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার নাম মো. মেহতাব কায়েস, যিনি বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নবম গ্রেডভুক্ত সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার পদে কর্মরত আছেন।
বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন। প্রকৃতপক্ষে বৃহস্পতিবারই দেশজুড়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। কিন্তু শীর্ষ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের আগেই প্রস্তুত করা ফলাফল অসদুপায়ে ওয়েবসাইটে আপলোড করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে ওই সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে।
দীর্ঘ তিন বছরের বিরতি কাটিয়ে গত এপ্রিলে নেওয়া প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রস্তুতের কাজ শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে তা বৃহস্পতিবার প্রকাশ করতে চেয়েছিল অধিদপ্তর। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সাখাওয়াৎ হোসেনকে পাঠানো চিঠিতে মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী লিখেছেন, গত ৮ জুলাই পরীক্ষার প্রস্তুতকৃত ফলাফল ওয়েব পোর্টালে আপলোড করতে প্রয়োজনীয় লিংক তৈরি করার জন্য মেহতাব কায়েসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তখন যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক চূড়ান্তভাবে ফলাফল প্রকাশের আগে তা কোনোভাবেই ওয়েব পোর্টালে আপলোড না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই আদেশ অমান্য করে বৃহস্পতিবার ঢাকা বিভাগের ৯টি জেলার ফলাফল লাইভ সার্ভারে আপলোড করা হয়। অল্প সময় সেই লিংকটি সচল থাকায় সাধারণ ব্যবহারকারীরা তা দ্রুত ডাউনলোড করে নেন এবং মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে দিলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তদন্তে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মিরাজুল ইসলাম উকিলকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে অধিদপ্তর। এই কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় অধিদপ্তরের তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন ইতোমধ্যে জমা দিয়েছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
সেখানে বলা হয়, লাইভ সার্ভারে লিংক তৈরি ও আপলোড করার ক্ষেত্রে যে ধরনের কঠোর নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে চলা উচিত ছিল, অভিযুক্ত কর্মকর্তা তা মোটেও অনুসরণ করেননি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েসের সঙ্গে টেলিফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. তানভীর মিয়া জানান, অসাবধানতাবশত আপলোড করা ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোর ফল সার্ভার থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। ফল প্রস্তুত করার কিছু কাজ এখনও বাকি আছে এবং আশা করা হচ্ছে, আগামী রোববার (১২ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন করে বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।




























