২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের অন্যতম শিরোপা দাবিদার হিসেবে আরও একবার প্রমাণ দিল ফ্রান্স। কোয়ার্টার ফাইনালে আফ্রিকার শেষ প্রতিনিধি মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরুতেই নাটকীয় মুহূর্তের জন্ম দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। প্রথমার্ধে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ফরাসি এই সুপারস্টার। এতে অনেকের মনেই শঙ্কা তৈরি হয়—ব্রাজিলের মতো কি ফ্রান্সও অঘটনের শিকার হতে যাচ্ছে? কারণ এবারের বিশ্বকাপেই পেনাল্টি মিসের পর শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে সেই হতাশা ভুলিয়ে দেন এমবাপ্পে। দুর্দান্ত এক গোল করার পাশাপাশি আরেকটি নিখুঁত পাস বাড়িয়ে উসমান দেম্বেলেকে দিয়ে গোল করিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ম্যাচ শেষে এমবাপ্পেই ছিলেন ফ্রান্সের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে প্রথমার্ধ
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। বলের দখল বেশি ছিল ফ্রান্সের কাছে, তবে মরক্কোও দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক দিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা করে।
ষষ্ঠ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পায় ফ্রান্স। দায়োত উপামেকানোর শক্তিশালী হেড দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। এরপরও আঁতোয়ান গ্রিজমান, দেম্বেলে ও এমবাপ্পের একাধিক আক্রমণ রুখে দেন মরক্কোর ডিফেন্ডাররা।
অন্যদিকে মরক্কোর হয়ে সোফিয়ান রহমানি ও ইউসুফ এন-নেসিরি কয়েকটি আক্রমণ সাজালেও সেগুলো খুব বেশি পরীক্ষা নিতে পারেনি ফরাসি গোলরক্ষকের।
পেনাল্টি মিসেও ভেঙে পড়েননি এমবাপ্পে
২৬ মিনিটে ফরাসিদের দ্রুতগতির আক্রমণে ছোট ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হন কিলিয়ান এমবাপ্পে। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান।
কিন্তু স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন এমবাপ্পে। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, হয়তো ভাগ্য আজ মরক্কোর পক্ষেই।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে মাঠে নামে ফ্রান্স। ৫৬ মিনিটে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় তারা। মাঝমাঠ থেকে দারুণ পাস পেয়ে বক্সে ঢুকে শক্তিশালী শটে বল জালে জড়িয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। পেনাল্টি মিসের হতাশা মুহূর্তেই ভুলে যায় পুরো ফরাসি শিবির।
গোল হজমের পর মরক্কো আক্রমণের গতি বাড়ালেও ফ্রান্সের রক্ষণভাগ ছিল অত্যন্ত সংগঠিত। উপামেকানো, উইলিয়াম সালিবা ও থিও হার্নান্দেজের দৃঢ় ডিফেন্স মরক্কোর সব আক্রমণ ব্যর্থ করে দেয়।
দেম্বেলের গোলে নিশ্চিত হয় জয়
ম্যাচের শেষ দিকে মরক্কো সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায়। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাল্টা আক্রমণে দ্বিতীয় গোলটি করে ফ্রান্স।
৮২ মিনিটে এমবাপ্পের নিখুঁত পাস থেকে উসমান দেম্বেলে সহজেই বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন। এই গোলের পরই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।
মরক্কোর স্বপ্নযাত্রার সমাপ্তি
২০২২ বিশ্বকাপের মতো এবারও মরক্কো ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখেছিল। আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করে তারা আবারও শেষ আটে পৌঁছায়। তবে শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত আর চমক দেখাতে পারেনি।
চার বছর আগে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্স। এবার কোয়ার্টার ফাইনালেও একই ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে মরক্কোর স্বপ্নভঙ্গ করল ‘লে ব্লু’রা।
ম্যাচের পরিসংখ্যান
- ফল: ফ্রান্স ২-০ মরক্কো
- গোল: কিলিয়ান এমবাপ্পে (৫৬’), উসমান দেম্বেলে (৮২’)
- পেনাল্টি মিস: কিলিয়ান এমবাপ্পে (২৬’)
- ভেন্যু: বোস্টন, যুক্তরাষ্ট্র
- ম্যান অব দ্য ম্যাচ: কিলিয়ান এমবাপ্পে
সেমিফাইনালে ফ্রান্স
এই জয়ের মাধ্যমে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ফরাসিরা এখন সেমিফাইনালে নিজেদের পরবর্তী প্রতিপক্ষের অপেক্ষায়। এমবাপ্পের দুর্দান্ত ফর্ম এবং দেম্বেলে-গ্রিজমানদের আক্রমণভাগ ফ্রান্সকে শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।



























