ঢাকা ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০০ টাকা নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিলেন, আজ ৫৩ কোটির সম্পদের মালিক-যশ

সংগ্রাম পেরিয়ে আন্তর্জাতিক তারকা হয়েছেন যশ। ছবি: সংগৃহীত

যশ এখন ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তবে এই সাফল্য একদিনে আসেনি। মাত্র ৩০০ টাকা পকেটে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেঙ্গালুরুতে পাড়ি দেওয়া এক তরুণের জীবনের গল্প আজ লাখো মানুষের অনুপ্রেরণা। ‘কেজিএফ’ সিনেমার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পাওয়া এই তারকা বর্তমানে প্রায় ৫৩ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও নিজের অবস্থান শক্ত করছেন তিনি। দীর্ঘ সংগ্রাম, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাসই তাঁকে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।

যশের জন্ম কর্ণাটকের একটি সাধারণ পরিবারে। তাঁর বাবা ছিলেন সরকারি বাসচালক এবং সীমিত আয়ের মধ্যেই চলত সংসার। একসময় তাঁর বাবার দৈনিক মজুরি ছিল মাত্র ১৪ টাকা। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল যশের। কিন্তু পরিবারের সবাই সেই স্বপ্নকে সহজভাবে গ্রহণ করেননি। তবুও নিজের লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়াননি তিনি। মাত্র ৩০০ টাকা সঙ্গে নিয়ে একদিন বাড়ি ছেড়ে বেঙ্গালুরুতে চলে যান অভিনয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে।

নতুন শহরে জীবন ছিল কঠিন। পরিচিত কেউ ছিল না, নিশ্চিত কোনো কাজও ছিল না। অনেক রাত তাঁকে ফুটপাতে কিংবা খোলা আকাশের নিচে কাটাতে হয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে যশ বলেছিলেন, মাঝরাতে পুলিশের তাড়ায় ঘুম ভেঙে যাওয়ার ভয় নিয়েই রাস্তায় রাত কাটাতেন। ঠিক এমন এক রাতেই তিনি নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেন, একদিন সফল অভিনেতা হবেন এবং আর কখনো এমন অসহায় অবস্থায় ফিরবেন না। এরপর থিয়েটার, টেলিভিশন নাটক এবং ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন।

কন্নড় চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তা অর্জনের পর ‘কেজিএফ’ সিরিজে ‘রকি ভাই’ চরিত্রে অভিনয় যশের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সিনেমাটি শুধু বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস গড়েনি, কন্নড় চলচ্চিত্রকেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তোলে। এখন তাঁর অভিনীত ‘টক্সিক’ সিনেমা নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা তুঙ্গে। পাশাপাশি তিনি প্রযোজক হিসেবেও যুক্ত হয়েছেন বহুল আলোচিত ‘রামায়ণ’ প্রকল্পে। ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুই পর্বে নির্মিত এই সিনেমার সম্ভাব্য বাজেট প্রায় ৪ হাজার কোটি রুপি, যা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল প্রকল্প হতে পারে।

সাফল্যের পরও যশের জীবনদর্শনে খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। তাঁর বাবা দীর্ঘদিন বাসচালকের চাকরি চালিয়ে যান এবং অবসরের আগে পর্যন্ত সেই পেশা ছাড়েননি। যশ একাধিকবার বলেছেন, বাবার আত্মসম্মান, পরিশ্রম এবং কর্মনিষ্ঠাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তিনি নিজেও প্রচারের চেয়ে কাজকে বেশি গুরুত্ব দেন। খুব কম সাক্ষাৎকার দিলেও বারবার বলেছেন, তাঁর হয়ে কথা বলবে তাঁর কাজ। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও নিয়মিত যুক্ত রয়েছেন তিনি।

বর্তমানে যশের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫৩ কোটি টাকা। প্রতি মাসে তাঁর আয় প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ লাখ টাকা এবং বছরে আয় প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা। একটি সিনেমার জন্য তিনি ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন। বেঙ্গালুরুর অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়িতে স্ত্রী রাধিকা পণ্ডিত, দুই সন্তান আইরা ও আয়ুশ এবং মা-বাবাকে নিয়ে বসবাস করেন তিনি। তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ির সংগ্রহে রয়েছে মার্সিডিজ-বেঞ্জ, অডি ও বিএমডব্লিউর মতো বিলাসবহুল ব্র্যান্ড। সংগ্রাম থেকে সাফল্যের এই অসাধারণ যাত্রাই যশকে আজ কোটি কোটি ভক্তের অনুপ্রেরণায় পরিণত করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

৩০০ টাকা নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিলেন, আজ ৫৩ কোটির সম্পদের মালিক-যশ

Update Time : ০৮:৩৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

যশ এখন ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তবে এই সাফল্য একদিনে আসেনি। মাত্র ৩০০ টাকা পকেটে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেঙ্গালুরুতে পাড়ি দেওয়া এক তরুণের জীবনের গল্প আজ লাখো মানুষের অনুপ্রেরণা। ‘কেজিএফ’ সিনেমার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পাওয়া এই তারকা বর্তমানে প্রায় ৫৩ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও নিজের অবস্থান শক্ত করছেন তিনি। দীর্ঘ সংগ্রাম, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাসই তাঁকে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।

যশের জন্ম কর্ণাটকের একটি সাধারণ পরিবারে। তাঁর বাবা ছিলেন সরকারি বাসচালক এবং সীমিত আয়ের মধ্যেই চলত সংসার। একসময় তাঁর বাবার দৈনিক মজুরি ছিল মাত্র ১৪ টাকা। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল যশের। কিন্তু পরিবারের সবাই সেই স্বপ্নকে সহজভাবে গ্রহণ করেননি। তবুও নিজের লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়াননি তিনি। মাত্র ৩০০ টাকা সঙ্গে নিয়ে একদিন বাড়ি ছেড়ে বেঙ্গালুরুতে চলে যান অভিনয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে।

আরও পড়ুন  সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলন, হবে ফের ময়নাতদন্ত

নতুন শহরে জীবন ছিল কঠিন। পরিচিত কেউ ছিল না, নিশ্চিত কোনো কাজও ছিল না। অনেক রাত তাঁকে ফুটপাতে কিংবা খোলা আকাশের নিচে কাটাতে হয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে যশ বলেছিলেন, মাঝরাতে পুলিশের তাড়ায় ঘুম ভেঙে যাওয়ার ভয় নিয়েই রাস্তায় রাত কাটাতেন। ঠিক এমন এক রাতেই তিনি নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেন, একদিন সফল অভিনেতা হবেন এবং আর কখনো এমন অসহায় অবস্থায় ফিরবেন না। এরপর থিয়েটার, টেলিভিশন নাটক এবং ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন।

কন্নড় চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তা অর্জনের পর ‘কেজিএফ’ সিরিজে ‘রকি ভাই’ চরিত্রে অভিনয় যশের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সিনেমাটি শুধু বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস গড়েনি, কন্নড় চলচ্চিত্রকেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তোলে। এখন তাঁর অভিনীত ‘টক্সিক’ সিনেমা নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা তুঙ্গে। পাশাপাশি তিনি প্রযোজক হিসেবেও যুক্ত হয়েছেন বহুল আলোচিত ‘রামায়ণ’ প্রকল্পে। ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুই পর্বে নির্মিত এই সিনেমার সম্ভাব্য বাজেট প্রায় ৪ হাজার কোটি রুপি, যা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল প্রকল্প হতে পারে।

আরও পড়ুন  দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে সোনার বাংলা সার্কাসের ‘মহাশ্মশান যাত্রা’

সাফল্যের পরও যশের জীবনদর্শনে খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। তাঁর বাবা দীর্ঘদিন বাসচালকের চাকরি চালিয়ে যান এবং অবসরের আগে পর্যন্ত সেই পেশা ছাড়েননি। যশ একাধিকবার বলেছেন, বাবার আত্মসম্মান, পরিশ্রম এবং কর্মনিষ্ঠাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তিনি নিজেও প্রচারের চেয়ে কাজকে বেশি গুরুত্ব দেন। খুব কম সাক্ষাৎকার দিলেও বারবার বলেছেন, তাঁর হয়ে কথা বলবে তাঁর কাজ। অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও নিয়মিত যুক্ত রয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন  জয়া আহসানের সৌন্দর্যের সঙ্গে নিজের তুলনা: যা বললেন বিপাশা হায়াত

বর্তমানে যশের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫৩ কোটি টাকা। প্রতি মাসে তাঁর আয় প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ লাখ টাকা এবং বছরে আয় প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা। একটি সিনেমার জন্য তিনি ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন। বেঙ্গালুরুর অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়িতে স্ত্রী রাধিকা পণ্ডিত, দুই সন্তান আইরা ও আয়ুশ এবং মা-বাবাকে নিয়ে বসবাস করেন তিনি। তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ির সংগ্রহে রয়েছে মার্সিডিজ-বেঞ্জ, অডি ও বিএমডব্লিউর মতো বিলাসবহুল ব্র্যান্ড। সংগ্রাম থেকে সাফল্যের এই অসাধারণ যাত্রাই যশকে আজ কোটি কোটি ভক্তের অনুপ্রেরণায় পরিণত করেছে।