ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১১ লাখ কোটি টাকার, রেকর্ড চট্টগ্রাম বন্দরে গড়ল

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বেড়েছে আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণ। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে আমদানি ও রপ্তানি মিলিয়ে ১১ লাখ কোটি টাকার বেশি মূল্যের পণ্য পরিবহন হয়েছে। একই সময়ে সরকারি কোষাগার এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, পণ্য পরিবহন বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে বন্দর দিয়ে প্রায় ১০ কোটি ৭৫ লাখ টন আমদানি পণ্য খালাস হয়েছে। এসব পণ্যের শুল্কায়িত মূল্য ছিল প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। চট্টগ্রাম কাস্টমস, কমলাপুর আইসিডি, পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনাল এবং চট্টগ্রাম ইপিজেড কাস্টমস স্টেশনের মাধ্যমে এসব পণ্যের বিপরীতে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় আমদানি পণ্য পরিবহন প্রায় ৬ শতাংশ এবং রাজস্ব আদায় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।

রপ্তানি খাতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বিদায়ী অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রায় ৪৯ লাখ টন রপ্তানি পণ্য পরিবহন হয়েছে, যার শুল্কায়িত মূল্য ছিল প্রায় ৫ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও শুল্কায়িত মূল্যের প্রবৃদ্ধি ছিল ১ শতাংশের কম। তবে অধিকাংশ রপ্তানি পণ্যে শুল্ক না থাকায় এই খাত থেকে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে সীমিত রয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানিয়েছেন, শুধু চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসেই আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায়ে ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান হিসাব সাময়িক এবং চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশের পর রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ আরও কিছুটা বাড়তে পারে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, পরিচালন খাতের রাজস্ব আয় প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৮৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কনটেইনার ও বাল্ক কার্গো পরিবহন বৃদ্ধি এবং ট্যারিফ সমন্বয়ের ফলে বন্দরের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই আয়ের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে জমা হয়, আর বাকি অর্থ বন্দরের উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয়। ফলে বন্দর পরিচালনার সক্ষমতাও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে সরকারি রাজস্বের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। ২০টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপো, শিপিং লাইন, টার্মিনাল অপারেটর, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান অপারেটরসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান এই বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। যদিও এসব খাতের সম্মিলিত লেনদেনের নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই, সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রতিবছর কয়েক হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

১১ লাখ কোটি টাকার, রেকর্ড চট্টগ্রাম বন্দরে গড়ল

Update Time : ০৮:২৬:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে আমদানি ও রপ্তানি মিলিয়ে ১১ লাখ কোটি টাকার বেশি মূল্যের পণ্য পরিবহন হয়েছে। একই সময়ে সরকারি কোষাগার এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, পণ্য পরিবহন বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে বন্দর দিয়ে প্রায় ১০ কোটি ৭৫ লাখ টন আমদানি পণ্য খালাস হয়েছে। এসব পণ্যের শুল্কায়িত মূল্য ছিল প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। চট্টগ্রাম কাস্টমস, কমলাপুর আইসিডি, পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনাল এবং চট্টগ্রাম ইপিজেড কাস্টমস স্টেশনের মাধ্যমে এসব পণ্যের বিপরীতে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় আমদানি পণ্য পরিবহন প্রায় ৬ শতাংশ এবং রাজস্ব আদায় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।

আরও পড়ুন  সিগারেট শুল্ক-কর আদায়ে বড় ধাক্কা, কমছে রাজস্ব

রপ্তানি খাতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বিদায়ী অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রায় ৪৯ লাখ টন রপ্তানি পণ্য পরিবহন হয়েছে, যার শুল্কায়িত মূল্য ছিল প্রায় ৫ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও শুল্কায়িত মূল্যের প্রবৃদ্ধি ছিল ১ শতাংশের কম। তবে অধিকাংশ রপ্তানি পণ্যে শুল্ক না থাকায় এই খাত থেকে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে সীমিত রয়েছে।

আরও পড়ুন  আজ থেকে বাধ্যতামূলক বাংলা কিউআর:বাংলাদেশ ব্যাংক

চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানিয়েছেন, শুধু চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসেই আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায়ে ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান হিসাব সাময়িক এবং চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশের পর রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ আরও কিছুটা বাড়তে পারে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, পরিচালন খাতের রাজস্ব আয় প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৮৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কনটেইনার ও বাল্ক কার্গো পরিবহন বৃদ্ধি এবং ট্যারিফ সমন্বয়ের ফলে বন্দরের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই আয়ের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে জমা হয়, আর বাকি অর্থ বন্দরের উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয়। ফলে বন্দর পরিচালনার সক্ষমতাও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

আরও পড়ুন  সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগ

চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে সরকারি রাজস্বের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। ২০টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপো, শিপিং লাইন, টার্মিনাল অপারেটর, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান অপারেটরসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান এই বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। যদিও এসব খাতের সম্মিলিত লেনদেনের নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই, সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রতিবছর কয়েক হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয়।