ঢাকা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংস্কৃতিক আয়ে চমক, জাদুঘর-সার্কাস এগিয়ে, নাটক-থিয়েটার সবচেয়ে পিছিয়ে

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৩৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৫

বিবিএসের সমীক্ষায় জাদুঘর ও সার্কাসে বেশি আয়ের তথ্য উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

সাংস্কৃতিক আয় নিয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশ করেছে নতুন চিত্র। সংস্থাটির সর্বশেষ সমীক্ষা বলছে, দেশের শিল্প ও বিনোদন খাতে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে সার্কাস, অর্কেস্ট্রা ও ব্যান্ড শো থেকে। অন্যদিকে নাটক, থিয়েটার, গান ও নৃত্যের মতো সৃজনশীল সাংস্কৃতিক আয়োজনের আয় তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সার্কাস, অর্কেস্ট্রা ও ব্যান্ড শোর সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় হয়েছে প্রায় ২২ কোটি টাকা। একই সময়ে জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থান থেকে এসেছে ১৯ কোটির বেশি আয়। এছাড়া চিড়িয়াখানা, উদ্ভিদ উদ্যান, স্পোর্টস ক্লাব ও বিভিন্ন বিনোদন পার্ক মিলিয়ে আয় হয়েছে ৪ কোটির বেশি।

অন্যদিকে, নাটক, থিয়েটার, গান, নাচ, কনসার্ট ও অপেরার মতো সৃজনশীল আয়োজন থেকে আয় হয়েছে মাত্র প্রায় ৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ, সাংস্কৃতিক গুরুত্ব থাকলেও এই খাতগুলো এখনো অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি।

বিবিএস জানায়, শিল্প ও বিনোদন খাতের অর্থনৈতিক অবদান মূল্যায়নের জন্য ১০ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩১৮টি প্রতিষ্ঠানের ওপর এই সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) শিল্প ও বিনোদন খাতের অবদান বর্তমানে ০.১৫ শতাংশ, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নাটক ও থিয়েটারের মতো সৃজনশীল খাতে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের ঘাটতি রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই খাত থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আশা করা কঠিন। তবে এসব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্য অর্থনৈতিক আয়ের চেয়েও অনেক বেশি।

তার মতে, নাটক, গান ও নৃত্য শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এগুলো সমাজের মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই খাতকে টেকসই করতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগও বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও দর্শকের অংশগ্রহণ বাড়লে ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক আয় আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংস্কৃতিক আয়ে চমক, জাদুঘর-সার্কাস এগিয়ে, নাটক-থিয়েটার সবচেয়ে পিছিয়ে

Update Time : ০৮:৩৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সাংস্কৃতিক আয় নিয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশ করেছে নতুন চিত্র। সংস্থাটির সর্বশেষ সমীক্ষা বলছে, দেশের শিল্প ও বিনোদন খাতে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে সার্কাস, অর্কেস্ট্রা ও ব্যান্ড শো থেকে। অন্যদিকে নাটক, থিয়েটার, গান ও নৃত্যের মতো সৃজনশীল সাংস্কৃতিক আয়োজনের আয় তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সার্কাস, অর্কেস্ট্রা ও ব্যান্ড শোর সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় হয়েছে প্রায় ২২ কোটি টাকা। একই সময়ে জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থান থেকে এসেছে ১৯ কোটির বেশি আয়। এছাড়া চিড়িয়াখানা, উদ্ভিদ উদ্যান, স্পোর্টস ক্লাব ও বিভিন্ন বিনোদন পার্ক মিলিয়ে আয় হয়েছে ৪ কোটির বেশি।

আরও পড়ুন  পুঁজিবাজার সংস্কার: বড় উদ্যোগের তথ্য জানালেন অর্থমন্ত্রী

অন্যদিকে, নাটক, থিয়েটার, গান, নাচ, কনসার্ট ও অপেরার মতো সৃজনশীল আয়োজন থেকে আয় হয়েছে মাত্র প্রায় ৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ, সাংস্কৃতিক গুরুত্ব থাকলেও এই খাতগুলো এখনো অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি।

বিবিএস জানায়, শিল্প ও বিনোদন খাতের অর্থনৈতিক অবদান মূল্যায়নের জন্য ১০ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩১৮টি প্রতিষ্ঠানের ওপর এই সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) শিল্প ও বিনোদন খাতের অবদান বর্তমানে ০.১৫ শতাংশ, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন  সৈয়দ আব্দুল হাদী বিশেষ সম্মাননা: শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে কিংবদন্তি গায়কের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, নাটক ও থিয়েটারের মতো সৃজনশীল খাতে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের ঘাটতি রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই খাত থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আশা করা কঠিন। তবে এসব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্য অর্থনৈতিক আয়ের চেয়েও অনেক বেশি।

তার মতে, নাটক, গান ও নৃত্য শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এগুলো সমাজের মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই খাতকে টেকসই করতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগও বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও দর্শকের অংশগ্রহণ বাড়লে ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক আয় আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

আরও পড়ুন  ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে ট্রাম্পের ১ বিলিয়নেরও বেশি ডলার আয়