ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটবলের সুপারস্টার হালান্ড, প্রেমের মাঠে কতটা সফল?

আর্লিং হালান্ডে ও ইসাবেল জোহানসেন

ফুটবল মাঠে গোল করার অসাধারণ দক্ষতার কারণে আর্লিং হালান্ডকে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে মাঠের বাইরের জীবন নিয়ে খুব কমই আলোচনায় আসেন নরওয়ের এই তারকা। দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ইসাবেল হাউগসেং জোহানসেনকে নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি শান্ত ও সুখী পারিবারিক জীবন, যা প্রচারের আলো থেকে অনেকটাই দূরে।

হালান্ড ও ইসাবেলের পরিচয় নতুন নয়। দুজনেরই বেড়ে ওঠা নরওয়ের ছোট শহর ব্রিনেতে এবং তারা স্থানীয় ক্লাব ব্রিনে এফকের হয়ে ফুটবলও খেলেছেন। তবে ছোটবেলার পরিচয় থাকলেও তাদের সম্পর্কের সূচনা হয় অনেক পরে। জানা যায়, একটি ব্যক্তিগত বার্তার মাধ্যমেই তাদের প্রেমের গল্পের শুরু।

বর্তমানে ২২ বছর বয়সী ইসাবেল একজন মডেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ। তবে মডেলিংয়ে আসার আগে তিনি ফুটবল খেলতেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ব্রিনে এফকের নারী দলের হয়ে ফরোয়ার্ড হিসেবে মাঠে নামেন এবং বেশ কিছু বছর খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এক সাক্ষাৎকারে হালান্ড জানান, ২০২১ সালে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে যোগ দেওয়ার পর ইসাবেলই প্রথম তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা পাঠান। তিনি মজা করে বলেন, “সেই আমাকে প্রথম বার্তা পাঠিয়েছিল। আমরা একই ক্লাবের হয়ে খেলতাম। আসলে সেই প্রথম আমাকে পছন্দ করেছিল, আমি নই।”

ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হওয়া সত্ত্বেও ব্যক্তিগত জীবনে হালান্ড ও ইসাবেল বেশ সাধারণ জীবনযাপন পছন্দ করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিলাসবহুল পার্টি বা আলোচিত আয়োজনের চেয়ে তারা ঘরে একসঙ্গে সময় কাটাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাদের সম্পর্কের অন্যতম শক্তি হলো পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ব্যক্তিগত সময়কে গুরুত্ব দেওয়া।

নিজেদের পছন্দের সময় কাটানোর বিষয়েও বেশ খোলামেলা কথা বলেছেন হালান্ড। তিনি রান্না করতে ভালোবাসেন, আর ইসাবেলের প্রিয় ভিডিও গেম ‘মাইনক্রাফট’। অবসরে তারা একসঙ্গে গেম খেলেন, ভার্চুয়াল জগতে ঘরবাড়ি তৈরি করেন এবং সুযোগ পেলে নিজেদের শহর ব্রিনেতে ফিরে গিয়ে প্রিয় কাবাব উপভোগ করেন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই দম্পতির জীবনে আসে নতুন আনন্দ। তাদের ঘরে জন্ম নেয় প্রথম সন্তান, একটি পুত্রসন্তান। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ায় এখন পর্যন্ত সন্তানের নাম কিংবা কোনো ছবি প্রকাশ করেননি তারা। এ বিষয়েও তারা বরাবরই সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন।

নরওয়ের ‘কেকে’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসাবেল বলেন, তিনি তার পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে চান। একই সঙ্গে মানুষ যেন তাকে একজন ব্যক্তি হিসেবেও চিনতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্য জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি।

বর্তমানে ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন হালান্ড ও ইসাবেল। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, হালান্ডের সাপ্তাহিক আয় প্রায় পাঁচ লাখ পাউন্ড। সম্প্রতি তিনি ইংল্যান্ডের চেশায়ারে প্রায় ৬২ লাখ পাউন্ড ব্যয়ে একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ কিনেছেন, যেখানে রয়েছে ১০টি শয়নকক্ষ, ব্যক্তিগত হ্রদ, খোলা সুইমিং পুল, বড় বাগান, কোচ হাউস এবং ঘোড়ার আস্তাবল।

এ ছাড়া তার মূল্যবান গাড়ির সংগ্রহের জন্য বিশেষ চারটি গ্যারেজ নির্মাণের অনুমতিও পেয়েছেন। সংগ্রহে রয়েছে বিরল ও অত্যাধুনিক বেশ কয়েকটি সুপারকার, যার মধ্যে বুগাত্তি টুরবিয়োঁ অন্যতম। তবুও ঘনিষ্ঠদের মতে, হালান্ডের কাছে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

হালান্ড বিশ্বাস করেন, ইসাবেলের ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতা তাদের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। কারণ একজন ফুটবলারের জীবন, চাপ, ব্যস্ততা এবং পেশাগত বাস্তবতা তিনি খুব ভালোভাবেই বোঝেন। হালান্ডের মতে, এই বোঝাপড়াই তাদের সম্পর্কের অন্যতম বড় ভিত্তি এবং সুখী সংসারের মূল শক্তি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুটবলের সুপারস্টার হালান্ড, প্রেমের মাঠে কতটা সফল?

Update Time : ১০:৩৪:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ফুটবল মাঠে গোল করার অসাধারণ দক্ষতার কারণে আর্লিং হালান্ডকে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে মাঠের বাইরের জীবন নিয়ে খুব কমই আলোচনায় আসেন নরওয়ের এই তারকা। দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ইসাবেল হাউগসেং জোহানসেনকে নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি শান্ত ও সুখী পারিবারিক জীবন, যা প্রচারের আলো থেকে অনেকটাই দূরে।

হালান্ড ও ইসাবেলের পরিচয় নতুন নয়। দুজনেরই বেড়ে ওঠা নরওয়ের ছোট শহর ব্রিনেতে এবং তারা স্থানীয় ক্লাব ব্রিনে এফকের হয়ে ফুটবলও খেলেছেন। তবে ছোটবেলার পরিচয় থাকলেও তাদের সম্পর্কের সূচনা হয় অনেক পরে। জানা যায়, একটি ব্যক্তিগত বার্তার মাধ্যমেই তাদের প্রেমের গল্পের শুরু।

বর্তমানে ২২ বছর বয়সী ইসাবেল একজন মডেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ। তবে মডেলিংয়ে আসার আগে তিনি ফুটবল খেলতেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ব্রিনে এফকের নারী দলের হয়ে ফরোয়ার্ড হিসেবে মাঠে নামেন এবং বেশ কিছু বছর খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল বনাম ভারত: শেফালির ঝড়ে ৫ উইকেটের হার

এক সাক্ষাৎকারে হালান্ড জানান, ২০২১ সালে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে যোগ দেওয়ার পর ইসাবেলই প্রথম তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা পাঠান। তিনি মজা করে বলেন, “সেই আমাকে প্রথম বার্তা পাঠিয়েছিল। আমরা একই ক্লাবের হয়ে খেলতাম। আসলে সেই প্রথম আমাকে পছন্দ করেছিল, আমি নই।”

ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হওয়া সত্ত্বেও ব্যক্তিগত জীবনে হালান্ড ও ইসাবেল বেশ সাধারণ জীবনযাপন পছন্দ করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিলাসবহুল পার্টি বা আলোচিত আয়োজনের চেয়ে তারা ঘরে একসঙ্গে সময় কাটাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাদের সম্পর্কের অন্যতম শক্তি হলো পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ব্যক্তিগত সময়কে গুরুত্ব দেওয়া।

নিজেদের পছন্দের সময় কাটানোর বিষয়েও বেশ খোলামেলা কথা বলেছেন হালান্ড। তিনি রান্না করতে ভালোবাসেন, আর ইসাবেলের প্রিয় ভিডিও গেম ‘মাইনক্রাফট’। অবসরে তারা একসঙ্গে গেম খেলেন, ভার্চুয়াল জগতে ঘরবাড়ি তৈরি করেন এবং সুযোগ পেলে নিজেদের শহর ব্রিনেতে ফিরে গিয়ে প্রিয় কাবাব উপভোগ করেন।

আরও পড়ুন  নোরার সঙ্গে বিশ্বকাপ মঞ্চ কাঁপালেন সঞ্জয়

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই দম্পতির জীবনে আসে নতুন আনন্দ। তাদের ঘরে জন্ম নেয় প্রথম সন্তান, একটি পুত্রসন্তান। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ায় এখন পর্যন্ত সন্তানের নাম কিংবা কোনো ছবি প্রকাশ করেননি তারা। এ বিষয়েও তারা বরাবরই সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন।

নরওয়ের ‘কেকে’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসাবেল বলেন, তিনি তার পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে চান। একই সঙ্গে মানুষ যেন তাকে একজন ব্যক্তি হিসেবেও চিনতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্য জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি।

বর্তমানে ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন হালান্ড ও ইসাবেল। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, হালান্ডের সাপ্তাহিক আয় প্রায় পাঁচ লাখ পাউন্ড। সম্প্রতি তিনি ইংল্যান্ডের চেশায়ারে প্রায় ৬২ লাখ পাউন্ড ব্যয়ে একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ কিনেছেন, যেখানে রয়েছে ১০টি শয়নকক্ষ, ব্যক্তিগত হ্রদ, খোলা সুইমিং পুল, বড় বাগান, কোচ হাউস এবং ঘোড়ার আস্তাবল।

আরও পড়ুন  কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনার সামনে নতুন ‘ভোজিনিয়া’

এ ছাড়া তার মূল্যবান গাড়ির সংগ্রহের জন্য বিশেষ চারটি গ্যারেজ নির্মাণের অনুমতিও পেয়েছেন। সংগ্রহে রয়েছে বিরল ও অত্যাধুনিক বেশ কয়েকটি সুপারকার, যার মধ্যে বুগাত্তি টুরবিয়োঁ অন্যতম। তবুও ঘনিষ্ঠদের মতে, হালান্ডের কাছে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

হালান্ড বিশ্বাস করেন, ইসাবেলের ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতা তাদের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। কারণ একজন ফুটবলারের জীবন, চাপ, ব্যস্ততা এবং পেশাগত বাস্তবতা তিনি খুব ভালোভাবেই বোঝেন। হালান্ডের মতে, এই বোঝাপড়াই তাদের সম্পর্কের অন্যতম বড় ভিত্তি এবং সুখী সংসারের মূল শক্তি।