বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ড গড়ে শিরোনামে উঠে এসেছে জার্মানি। কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল করা দলের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দীর্ঘদিন ধরে এই রেকর্ড নিজেদের দখলে রাখা ব্রাজিলকে অবশেষে পেছনে ফেলেছে ইউরোপের ফুটবল পরাশক্তিটি।
এই ম্যাচের আগে বিশ্বকাপে জার্মানির মোট গোল ছিল ২৩২টি। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে সাত গোল করার মাধ্যমে তাদের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৩ ম্যাচে ২৩৯। এর ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল করা দলের নতুন পরিচয় এখন জার্মানি।
এতদিন শীর্ষে থাকা ব্রাজিলের সংগ্রহ ১১৫ ম্যাচে ২৩৮ গোল। অর্থাৎ মাত্র এক গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে টুর্নামেন্টের শুরুতেই দুই দলের এই লড়াই ভবিষ্যতে আরও জমে উঠতে পারে।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য বরাবরই প্রশংসিত জার্মানি। ১৯৩৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর থেকেই তারা আক্রমণাত্মক ফুটবলের এক অনন্য ধারা তৈরি করেছে। প্রতিটি যুগেই তারা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ভয়ঙ্কর চাপ সৃষ্টি করেছে।
এই রেকর্ড গড়ে তোলার পেছনে বড় অবদান রয়েছে জার্মানির কিংবদন্তি ফুটবলারদের। মিরোস্লাভ ক্লোসা, জার্ড মুলার ও টমাস মুলারের মতো তারকারা বছরের পর বছর ধরে গোল করে এই পরিসংখ্যান সমৃদ্ধ করেছেন। তাদের ধারাবাহিকতাই আজকের এই অর্জনের ভিত্তি তৈরি করেছে।
বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ফুটবলার হিসেবেও নিজের নাম লিখিয়েছেন মিরোস্লাভ ক্লোসা। তার ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলীয় অর্জনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জার্মানির ফুটবল দর্শনের অন্যতম শক্তি হলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা। ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসির দেশটি এখন পর্যন্ত ৮৮ ম্যাচে ১৫২ গোল করেছে। যদিও জার্মানি ও ব্রাজিলের তুলনায় তারা এখনো অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে।
এই তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে ফ্রান্স, যাদের গোলসংখ্যা ১৩৬। এরপর পঞ্চম স্থানে ইতালি ১২৮ গোল এবং ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে স্পেন, যাদের সংগ্রহ ১০৮ গোল। ফুটবলের শক্তিধর দেশগুলোর দীর্ঘ ইতিহাসই এই পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বকাপে জার্মানির পারফরম্যান্স অবশ্য প্রত্যাশামতো ছিল না। টানা দুই আসরে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল। ফলে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই নতুন উদ্যমে টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে তারা।
কুরাসাওয়ের বিপক্ষে বড় জয় শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে অনেক গুণ। বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের পুরোনো আধিপত্য ফিরিয়ে আনার বার্তাও দিয়েছে দলটি। আক্রমণভাগের কার্যকারিতা সমর্থকদের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
জার্মানি তাদের পরবর্তী ম্যাচ খেলবে ২১ জুন রাত দুইটায় আইভরি কোস্টের বিপক্ষে। এখন দেখার বিষয়, তারা এই ছন্দ ধরে রাখতে পারে কি না। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড শেষ পর্যন্ত জার্মানির হাতেই থাকে, নাকি ব্রাজিল আবারও শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করে।





























