ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গলা কেটে স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার পর থানায় আত্মসমর্পণ স্বামীর

বুড়িচং থানায় আত্মসমর্পণ অভিযুক্ত। ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা—কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার একটি পারিবারিক ঘটনার পর এমন ঘটনাই এখন স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে ধারালো বঁটি দিয়ে আঘাত করার পর নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন মোহাম্মদ কাজল (২৮) নামে এক যুবক। তবে তিনি স্ত্রীকে মৃত বলে দাবি করলেও ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, গুরুতর আহত অবস্থায় তখনও জীবিত ছিলেন ইভা আক্তার।

শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোরে উপজেলার জিয়াপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কাজল বুড়িচং উপজেলার বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী ইভা আক্তারকে নিয়ে জিয়াপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। স্থানীয় একটি কারখানায় কাজ করেন ইভা। প্রতিদিনের মতোই তারা বাসায় ছিলেন। তবে ভোররাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে কাজল ঘরে থাকা একটি ধারালো বঁটি দিয়ে স্ত্রীর গলায় আঘাত করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ইভা মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে কাজল তাকে মৃত ভেবে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর তিনি সরাসরি বুড়িচং থানায় গিয়ে পুলিশকে জানান, তিনি তার স্ত্রীকে হত্যা করেছেন।

প্রায় একই সময়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে ঘটনাটি জানানো হয়। খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায়, ইভা তখনও জীবিত। তার গলায় গভীর ক্ষত থাকলেও শ্বাস-প্রশ্বাস চলছিল। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

বাড়ির মালিক জহিরুল ইসলাম জানান, ভোরের দিকে কাজল এসে বলেন যে তিনি তার স্ত্রীকে হত্যা করেছেন। এরপর তিনি দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা ঘরে গিয়ে ইভাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অভিযুক্ত থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন। একই সময়ে ৯৯৯ থেকেও ফোন আসে। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আহত নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা জানতে কাজলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পারিবারিক কলহ ছাড়াও অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইভার গলায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের ওপর পরবর্তী চিকিৎসা নির্ভর করবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে মামলার আইনি ধারা নির্ধারণ করা হবে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পারিবারিক বিরোধের এমন সহিংস পরিণতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পুলিশও সবাইকে পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রে আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে আলোচনা, পারিবারিক সহায়তা বা আইনগত সহায়তার পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগে থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন মোহাম্মদ কাজল।

অভিযুক্ত দাবি করেছিলেন, তিনি স্ত্রীকে হত্যা করেছেন। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ইভা আক্তারকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে।

আহত ইভাকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়।

পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করছে।

ভুক্তভোগীর চিকিৎসা চলছে। তার শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গলা কেটে স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার পর থানায় আত্মসমর্পণ স্বামীর

Update Time : ১১:১৩:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা—কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার একটি পারিবারিক ঘটনার পর এমন ঘটনাই এখন স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে ধারালো বঁটি দিয়ে আঘাত করার পর নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন মোহাম্মদ কাজল (২৮) নামে এক যুবক। তবে তিনি স্ত্রীকে মৃত বলে দাবি করলেও ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, গুরুতর আহত অবস্থায় তখনও জীবিত ছিলেন ইভা আক্তার।

শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোরে উপজেলার জিয়াপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কাজল বুড়িচং উপজেলার বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী ইভা আক্তারকে নিয়ে জিয়াপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। স্থানীয় একটি কারখানায় কাজ করেন ইভা। প্রতিদিনের মতোই তারা বাসায় ছিলেন। তবে ভোররাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে কাজল ঘরে থাকা একটি ধারালো বঁটি দিয়ে স্ত্রীর গলায় আঘাত করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ইভা মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে কাজল তাকে মৃত ভেবে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর তিনি সরাসরি বুড়িচং থানায় গিয়ে পুলিশকে জানান, তিনি তার স্ত্রীকে হত্যা করেছেন।

আরও পড়ুন  হাম প্রাদুর্ভাব তথ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন

প্রায় একই সময়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে ঘটনাটি জানানো হয়। খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পায়, ইভা তখনও জীবিত। তার গলায় গভীর ক্ষত থাকলেও শ্বাস-প্রশ্বাস চলছিল। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

বাড়ির মালিক জহিরুল ইসলাম জানান, ভোরের দিকে কাজল এসে বলেন যে তিনি তার স্ত্রীকে হত্যা করেছেন। এরপর তিনি দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা ঘরে গিয়ে ইভাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন  কুমিল্লায় অনুমোদনহীন ২২ পদের ওষুধ জব্দ

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অভিযুক্ত থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন। একই সময়ে ৯৯৯ থেকেও ফোন আসে। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ আহত নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা জানতে কাজলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পারিবারিক কলহ ছাড়াও অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইভার গলায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের ওপর পরবর্তী চিকিৎসা নির্ভর করবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে মামলার আইনি ধারা নির্ধারণ করা হবে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন  বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির আলোয় মাস্টার্স পরীক্ষা, ভিডিও ভাইরাল

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পারিবারিক বিরোধের এমন সহিংস পরিণতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পুলিশও সবাইকে পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রে আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে আলোচনা, পারিবারিক সহায়তা বা আইনগত সহায়তার পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগে থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন মোহাম্মদ কাজল।

অভিযুক্ত দাবি করেছিলেন, তিনি স্ত্রীকে হত্যা করেছেন। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ইভা আক্তারকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে।

আহত ইভাকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়।

পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করছে।

ভুক্তভোগীর চিকিৎসা চলছে। তার শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।