ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এম এ মতিন: না ফেরার দেশে চিটাগাং উইম্যান চেম্বারের কর্মকর্তা Logo দেশে রোবটের সহায়তায় অস্ত্রোপচার শুরু Logo নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর : তথ্য প্রতিমন্ত্রী Logo স্বর্ণের চেইন চুরি: পেটে ২টি চেইন গিলে ফেলার চাঞ্চল্যকর ঘটনা যা অবাক করবে Logo প্রধানমন্ত্রীকে ট্রাম্পের চিঠি: ৫টি অসাধারণ বার্তায় উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশা Logo ইমরান খান নিয়ে হাইকোর্টের বড় নির্দেশ, মিলবে পরিবার-সাক্ষাৎ Logo টেকনো ক্যামন স্লিম ৫জি দাম: ৫৯৯৯৯ টাকায় ৫টি অসাধারণ ফিচার যা মন জয় করবে Logo চন্দনাইশে এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অবৈধ লেনদেন ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ Logo কুড়িগ্রামে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য আয়োজন Logo বলিউডে দ্যুতি ছড়াতে আসছেন এই দক্ষিণী সুন্দরী

১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর তৈরি রেটিনামাইন্ড, চোখের স্ক্যানেই অটিজম ও এডিএইচডি শনাক্তের সম্ভাবনা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ৭৭৭

১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর তৈরি রেটিনামাইন্ড প্রযুক্তি। ছবি: সংগৃহীত

রেটিনামাইন্ড নামের একটি নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি চিকিৎসা ও প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী এডওয়ার্ড কাং এমন একটি এআই মডেল তৈরি করেছেন, যা চোখের রেটিনার ছবি বিশ্লেষণ করে অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (এএসডি) এবং অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (এডিএইচডি) প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম।

প্রযুক্তিটির নাম রেটিনামাইন্ড। এটি মূলত ডিপ লার্নিংভিত্তিক কনভোলিউশনাল নিউরাল নেটওয়ার্ক (সিএনএন) ব্যবহার করে রেটিনার সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে। প্রচলিত আচরণভিত্তিক মূল্যায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এটি চিকিৎসকদের দ্রুত স্ক্রিনিংয়ে সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এডওয়ার্ড কাং একটি স্কুল গবেষণা প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে রেটিনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে অটিজম শনাক্তের একটি গবেষণা সম্পর্কে জানতে পারেন। সেখান থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি নিজে মেশিন লার্নিং শেখেন এবং কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মডেল উন্নত করে রেটিনামাইন্ড তৈরি করেন। পরে তিনি এতে এডিএইচডি শনাক্তের সক্ষমতাও যুক্ত করেন, যাতে একটি মডেল একাধিক নিউরোডেভেলপমেন্টাল অবস্থার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের চেষ্টা করতে পারে।

গবেষণার অংশ হিসেবে রেটিনামাইন্ড একাধিক এআই মডেলের সম্মিলিত বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে ফলাফলের নির্ভুলতা বাড়ানোর চেষ্টা করে। পাশাপাশি গ্র্যাড-ক্যাম (GradCAM) প্রযুক্তির মাধ্যমে রেটিনার কোন অংশ বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে, সেটিও দেখানো যায়। গবেষণায় সম্ভাব্য কিছু জিনের সঙ্গেও রেটিনার পরিবর্তনের সম্পর্ক খুঁজে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে।

বর্তমানে অটিজম ও এডিএইচডি নির্ণয়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট রক্ত পরীক্ষা বা চোখের পরীক্ষা নেই। চিকিৎসকেরা সাধারণত শিশুর আচরণ, বিকাশ এবং বিভিন্ন মূল্যায়ন পরীক্ষার মাধ্যমে এসব অবস্থার নির্ণয় করেন। তাই রেটিনামাইন্ড এখনই চিকিৎসকের বিকল্প নয়; বরং ভবিষ্যতে প্রাথমিক স্ক্রিনিংয়ের একটি সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

রেটিনামাইন্ড-এর বর্তমান পরীক্ষামূলক মডেলের নির্ভুলতা প্রায় ৮৯ শতাংশ বলে জানানো হয়েছে। এই গবেষণার জন্য এডওয়ার্ড কাং যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ রিজেনেরন সায়েন্স ট্যালেন্ট সার্চ ২০২৬ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার লাভ করেন। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিটি বাস্তব চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে আরও বিস্তৃত ক্লিনিক্যাল গবেষণা ও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। তবুও অনেকের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের এআই প্রযুক্তি শিশুদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এম এ মতিন: না ফেরার দেশে চিটাগাং উইম্যান চেম্বারের কর্মকর্তা

১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর তৈরি রেটিনামাইন্ড, চোখের স্ক্যানেই অটিজম ও এডিএইচডি শনাক্তের সম্ভাবনা

Update Time : ১১:০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

রেটিনামাইন্ড নামের একটি নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি চিকিৎসা ও প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী এডওয়ার্ড কাং এমন একটি এআই মডেল তৈরি করেছেন, যা চোখের রেটিনার ছবি বিশ্লেষণ করে অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (এএসডি) এবং অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (এডিএইচডি) প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম।

প্রযুক্তিটির নাম রেটিনামাইন্ড। এটি মূলত ডিপ লার্নিংভিত্তিক কনভোলিউশনাল নিউরাল নেটওয়ার্ক (সিএনএন) ব্যবহার করে রেটিনার সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে। প্রচলিত আচরণভিত্তিক মূল্যায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এটি চিকিৎসকদের দ্রুত স্ক্রিনিংয়ে সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  তাইওয়ানের রোবট কুকুর, চীনের হামলা ঠেকাতে নতুন সামরিক প্রযুক্তি

এডওয়ার্ড কাং একটি স্কুল গবেষণা প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে রেটিনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে অটিজম শনাক্তের একটি গবেষণা সম্পর্কে জানতে পারেন। সেখান থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি নিজে মেশিন লার্নিং শেখেন এবং কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মডেল উন্নত করে রেটিনামাইন্ড তৈরি করেন। পরে তিনি এতে এডিএইচডি শনাক্তের সক্ষমতাও যুক্ত করেন, যাতে একটি মডেল একাধিক নিউরোডেভেলপমেন্টাল অবস্থার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের চেষ্টা করতে পারে।

গবেষণার অংশ হিসেবে রেটিনামাইন্ড একাধিক এআই মডেলের সম্মিলিত বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে ফলাফলের নির্ভুলতা বাড়ানোর চেষ্টা করে। পাশাপাশি গ্র্যাড-ক্যাম (GradCAM) প্রযুক্তির মাধ্যমে রেটিনার কোন অংশ বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে, সেটিও দেখানো যায়। গবেষণায় সম্ভাব্য কিছু জিনের সঙ্গেও রেটিনার পরিবর্তনের সম্পর্ক খুঁজে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  Claude AI চ্যাট ফাঁস: ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে

বর্তমানে অটিজম ও এডিএইচডি নির্ণয়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট রক্ত পরীক্ষা বা চোখের পরীক্ষা নেই। চিকিৎসকেরা সাধারণত শিশুর আচরণ, বিকাশ এবং বিভিন্ন মূল্যায়ন পরীক্ষার মাধ্যমে এসব অবস্থার নির্ণয় করেন। তাই রেটিনামাইন্ড এখনই চিকিৎসকের বিকল্প নয়; বরং ভবিষ্যতে প্রাথমিক স্ক্রিনিংয়ের একটি সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

রেটিনামাইন্ড-এর বর্তমান পরীক্ষামূলক মডেলের নির্ভুলতা প্রায় ৮৯ শতাংশ বলে জানানো হয়েছে। এই গবেষণার জন্য এডওয়ার্ড কাং যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ রিজেনেরন সায়েন্স ট্যালেন্ট সার্চ ২০২৬ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার লাভ করেন। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিটি বাস্তব চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে আরও বিস্তৃত ক্লিনিক্যাল গবেষণা ও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। তবুও অনেকের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের এআই প্রযুক্তি শিশুদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন  এআই ক্যামেরায় মহাসড়কে চাঁদাবাজি কমবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী